নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট

পাবলো পিকাসোর ছবির সামনেছবি: লেখকের পাঠানো

লেখক-চলচ্চিত্র নির্মাতা আনোয়ার শাহাদাত আগেই বলে দিয়েছিলেন—সোজা ওপরতলায় চলে যাবেন, সেখান থেকে শুরু করবেন। বিখ্যাত শিল্পীদের অধিকাংশ শিল্পকর্মই ওপরের তলার দিকে।

আনোয়ার শাহাদাতের কথা শুনে একটু অবাকই হয়েছিলাম। নিচ থেকে দেখতে দেখতে ওপরে উঠে যাব, তারপর লিফট ধরে সোজা নেমে আসব—এটাই তো স্বাভাবিক ভাবনা, তাই না!

মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট দেখতে গেলে নাকি প্রায় সারাটা দিনই হাতে নিয়ে যেতে হয়। অনেকের কাছেই এমনটা শুনেছিলাম। ঠিকমতো পরিকল্পনামাফিক শুরু না করলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে যায়। আনোয়ার শাহাদাত সে জন্য আগেই নির্দেশনা দিয়ে রাখলেন।

আমাদের অত তাড়াহুড়ো নেই। মিউজিয়াম দেখতে হয় ধীরে সুস্থিরে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। তা ছাড়া মিউজিয়ামে ঢুকলে কখন যে সময় চলে যায়, টের পাওয়া যায় না। টরন্টোর রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম রম, কিংবা আর্ট গ্যালারি অব অন্টারিওতে যতবার গিয়েছি, ততবারই আমাদের এমন হয়েছে। যেকোনো মিউজিয়ামে ঢুকলেই মনে হয়, যেন অন্য কোনো জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে এসে ভিন্ন রকম কোনো অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে হলো না।

আধুনিক শিল্প, স্থাপত্য, নকশা এবং চলচ্চিত্রের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভান্ডার নিয়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে দাঁড়িয়ে আছে এই মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, সংক্ষেপে যাকে ‘মোমা’—MoMA বলে ডাকা হয়। ১৯২৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক শিল্পের বৃহত্তম ও প্রভাবশালী জাদুঘরগুলোর একটি হিসেবে এটি পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বের সেরা চিত্রকর্মগুলোর বেশির ভাগই আছে এই মোমাতে।

সাবওয়ে থেকে নেমে মিউজিয়ামটায় পৌঁছাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। মিউজিয়ামের ভেতর পা রাখতেই দেখি বেশ ভিড়। আর্ট মিউজিয়াম দেখতে এত মানুষ আসে? নিজে নিজেই ভাবনাটা আওড়াই। আচ্ছা, প্রতিদিন গড়ে কী পরিমাণ দর্শনার্থী আসে এই মিউজিয়ামে? দিনওয়ারি কোনো হিসাব পাওয়া গেল না। জানা গেল, বছরে ১৫ থেকে ৩০ লাখ দর্শনার্থী এই মিউজিয়ামে আসে কেবল শিল্পকলা দেখতে। এই নম্বরটায়ও আসলে পৌঁছানো গেছে পুরোনো কতগুলো পরিসংখ্যান থেকে। ২০২২-২৩ সালে প্রায় ২৭ লাখ দর্শনার্থী এসেছিল বলে জানা যায়। তার আগে কোনো একক বছরে সর্বোচ্চ ৩১ লাখ দর্শনার্থী এই মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছে।

মোমার আর্ট দেখা
ছবি: লেখকের পাঠানো

নিচতলায়ই টিকিট কাউন্টার। অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা আছে। অনেকে এককালীন ফি দিয়ে সারা বছরের মেম্বারশিপ নিয়ে নেয়। এতে সুবিধা যখন খুশি এসে সময় কাটিয়ে যাওয়া যায়, বারবার টিকিট কাটার ঝক্কি থাকে না। আমাদের মতো যারা পর্যটক তারা অনলাইনে কিংবা মিউজিয়ামে এসে কাউন্টারেই টিকিট কাটে। আমরা কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়ালাম টিকিটের জন্য।

প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৩০ মার্কিন ডলার। ছেলেমেয়েদের বা সিনিয়রদের জন্য আলাদা রেট। আর নিম্ন আয়ের মানুষদের শিল্পকলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রতি শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিনা টিকিটে মিউজিয়াম দেখার ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেটি আমেরিকানদের জন্য, পর্যটকদের জন্য নয়। পর্যটক মানেই পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে মিউজিয়াম দেখতে হবে। টিকিট নিয়ে হাঁটা শুরু করতেই কাউন্টার থেকে জানিয়ে দিল—আমরা চাইলে যেকোনো সময় মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে ঘুরেফিরে আবার আসতে পারব। তবে সেটি আজকের মিউজিয়াম খোলা থাকার সময় পর্যন্তই। এমন নয় যে একবার মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলে আবার ঢোকা যাবে না। আমরা অবশ্য একবারে শেষ করেই বেরোব বলে ঠিক করে রেখেছি।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

ওপর থেকে শুরুর পরামর্শ থাকলেও আমরা আসলে নিচেই আটকে গিয়েছিলাম। মূল লবি, ইনফরমেশন ডেস্ক, টিকিট কাউন্টার, মোমা ডিজাইন স্টোর ছাড়াও আছে অ্যাবি অলড্রিচ রকফেলার ভাস্কর্য উদ্যান। আছে কফিশপ এবং বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ‘দ্য মডার্ন’। বলা যায়, মিউজিয়ামে প্রবেশের পর থেকেই মনোযোগ কেড়ে নেয়। আমরাও মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে ফেলতেই আনোয়ার শাহাদাতের পরামর্শ মনে পড়ে গেল। পরমুহূর্তেই লিফট ধরে একটানে ওপরে চলে যাই।

বিশাল একটি বিল্ডিংয়ের ছয়তলার প্রতিটি তলায় তলায় নানা সময়ের শিল্পকর্ম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, দর্শনার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে কালের ব্যাপ্তি ধরে ধরে শিল্পকর্ম সাজানো হয়েছে। আমরা এবার একেবারে ৬ষ্ঠ তলা থেকে শুরু করি। ৬ষ্ঠ তলাটা আসলে বিশেষ প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘কোহেন সেন্টার ফর স্পেশাল এক্সিবিশনস’।

সমসাময়িক বিভিন্ন শিল্পকর্মের প্রদর্শনী চলে এখানে। এটা প্রায় নিয়মিত একটা ব্যাপার। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীদের চিত্রকর্মের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এই ফ্লোরে। এখন চলছে আধুনিক আমেরিকান চিত্রশিল্পী রুথ আসওয়ার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী। এটি আসলে তাঁর স্মারক প্রদর্শনী। চলবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। শিল্পী আসওয়ারের ছয় দশকের কর্মজীবনের ৩০০টির বেশি শিল্পকর্ম—তাঁর বিখ্যাত তারের ভাস্কর্য, ব্রোঞ্জ কাস্ট এবং ড্রয়িং প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে।

আরও পড়ুন

এক জায়গায় প্যাঁচানো কতগুলো তার দেখে প্রথমটায় চমকে গিয়েছিলাম। পরে জানলাম এটি আসলে একটি ভাস্কর্য, তারের ভাস্কর্য! তার দিয়ে তৈরি আসওয়ারের অনন্য ঝুলন্ত ভাস্কর্য দর্শকদের বেশ আকর্ষণ করছে বোঝা যায়। ভাস্কর্যের পাশাপাশি, তাঁর পেইন্টিং, ড্রয়িং, প্রিন্ট এবং ব্রোঞ্জ কাস্টও প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে। কেউ একজন বলছিলেন, এটি নাকি নিউইয়র্ক MoMA-র ইতিহাসে একজন নারী শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রদর্শনীগুলোর একটি।

পঞ্চম তলায় নেমে এসে আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। এই ফ্লোরটায়ই যেন সব দর্শক একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। কিন্তু এই ফ্লোরে এত ভিড় কেন? ভিড়ের ভেতর দিয়ে উঁকি দিয়ে সেরিন ‘ভ্যান গগ’ বলে প্রায় চিৎকার করে ওঠে। ততক্ষণে ভিড়ের কারণটাও আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। ভ্যান গঘই কেবল নয়, ১৮৮০ থেকে ১৯৪০ সালের সাড়াজাগানো শিল্পীদের মাস্টারপিস চিত্রকর্ম এবং ভাস্কর্যগুলো যেন এই ফ্লোরেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। স্রোতকে অনুসরণ করে ভিড় ধরেই এগোতে থাকি। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বিখ্যাত ‘দ্য স্ট্যারি নাইট’–এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে সবাই।

ভ্যান গঘের সামনে ভিড়
ছবি: লেখকের পাঠানো

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ বিশ্বখ্যাত তৈলচিত্র ‘দ্য স্ট্যারি নাইট’ এঁকেছিলেন ১৮৮৯ সালে। মানসিক চিকিৎসা নিতে ফ্রান্সের সেন্ট-রেমি-দি-প্রোভেন্সের একটি মানসিক হাসপাতাল থাকাকালে জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের সঙ্গে নিজের কল্পনা মিশিয়ে তিনি এই ছবিটি এঁকেছিলেন বলে বইপত্রে উল্লেখ আছে। নিজের আবেগ, অস্থির মানসিক অবস্থা এবং উজ্জ্বল তারাময় আকাশের ঘূর্ণমান রূপকে এই চিত্রে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ ছাড়া এই ফ্লোরে আছে বিশ্বখ্যাত পাবলো পিকাসোর ‘লে দেমোয়াজেল দ’আভিওঁ’, পল সেজানের ‘বয় ইন আ রেড ভেস্ট’, ফ্রিদা কাহলোর শক্তিশালী আত্মপ্রতিকৃতি, অ্যান্ড্রু ওয়াইথের ‘ক্রিস্টিনাস ওয়ার্ল্ড’, সালভাদর দালির ‘দ্য পারসিসটেন্স অব মেমরি’।

পাবলো পিকাসোর ‘লে দেমোয়াজেল দ’আভিওঁ’ আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী প্রোটো-কিউবিস্ট চিত্রকর্ম। খালি চোখে দেখলে মনে হতে পারে—পাঁচজন নগ্ন নারীর একটি চিত্র এঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু এই চিত্রকর্মটি আসলে শিল্পজগতের একটি বিপ্লবের প্রতিকৃতি। ১৯০৭ সালে আঁকা এই অয়েল পেইন্টিংটিতে আছে বার্সেলোনার আভিওঁ স্ট্রিটের পাঁচজন নগ্ন পতিতা ছবি। কৌণিক, ভাঙাচোরা এবং আফ্রিকান মুখোশ-অনুপ্রাণিত চেহারায় চিত্রিত শিল্পকর্মটি প্রচলিত শিল্পরীতিকে ভেঙে কিউবিস্ট আন্দোলনের সূচনা করে বলে বোদ্ধারা বলে থাকেন।

আরও পড়ুন

পঞ্চম তলায় ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো মিউজিয়াম দেখা আমাদের হয়েই গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান শিল্পীদের চিত্রকর্ম, ভাস্কর্যগুলো দেখা হয়ে গেলে বাদবাকি আর কিছু দেখার আগ্রহ এমনিতেই ফিকে হয়ে আসে। আর শিল্পকর্মগুলোয় কী যেন একটা আকর্ষণ আছে, ঘুরেফিরে এই ফ্লোরেই বারবার থেকে যাচ্ছি, অন্যত্র যেন আর যাওয়াই হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের বিবেচনায়ও সম্ভবত এটা ছিল। ফলে তাঁরা এই ফ্লোরে এক পাশে খানিকটা বিশ্রামের জায়গাও করে রেখেছে। যাতে ক্লান্ত কেউ খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবার শিল্পের স্বাদ অবগাহনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন। আমরা অবশ্য ঘুরেফিরে চতুর্থ তলায় নেমে আসি।

চতুর্থ তলাটি সাজানো হয়েছে ১৯৪০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের শিল্পকর্মের দিয়ে। মধ্যশতাব্দীর বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য গ্যালারি দিয়ে সাজানো এই ফ্লোরটি ‘মিড-সেঞ্চুরি মার্ভেলস’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিজম, পপ আর্ট এবং মিনিমালিজমের বিশেষ সংগ্রহ আছে এই ফ্লোরে। মার্ক রথকোর রঙের কাজ, হেনরি মাতিসের ‘দ্য সুইমিং পুল’ এবং অ্যান্ডি ওয়ারহলের বিখ্যাত ‘স্যুপ ক্যানস’–এর মতো চিত্রকর্মগুলো দর্শকদের বেশ ভালোভাবেই টেনে ধরে। তৃতীয় তলায় মূলত স্থাপত্য, নকশা, ছবি, প্রিন্ট এবং আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। আদি পর্যায় থেকে সমসাময়িক যুগের সেরা আলোকচিত্রের সংগ্রহ। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে চলতি সময়ের উদ্ভাবনী নকশা ও আলোকচিত্রের জন্য ফ্লোরটি বিশেষভাবে পরিচিত। দ্বিতীয় তলায় প্রধানত ১৯৮০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংগৃহীত আধুনিক শিল্পকর্ম, বিশেষ প্রদর্শনী, প্রিন্ট এবং ইলাস্ট্রেটেড বই প্রদর্শিত হয়। এই তলাটিতে বিখ্যাত শিল্পীদের কাজের পাশাপাশি ক্যাফে ২ এবং মিউজিয়াম স্টোর অবস্থিত। হিলারে-জার্মেন-এডগার দেগা, জুয়ান গ্রিস, জিয়াকোমো বালা, রুফিনো তামায়ো এবং পিয়েট মন্ড্রিয়ানের মতো শিল্পীদের কাজ এখানে স্থান পেয়েছে।

‘মোমা’র ভাস্কর্য উদ্যানে
ছবি: লেখকের পাঠানো

আমরা আবার প্রথম তলায় নেমে আসি। মিউজিয়ামের ডিজাইন স্টোরে যাওয়ার আগে অবশ্যই স্কাল্পচার গার্ডেনটা ঢুঁ মারতে হবে। সবার শেষে দেখব বলেই তো এটিকে রেখে দিয়েছিলাম। প্রথম তলার এই ‘অ্যাবি অলড্রিচ রকফেলার স্কাল্পচার গার্ডেন’ উন্মুক্ত মনোরম শিল্প গ্যালারি। ‘ছাদবিহীন কক্ষে’ অনেকটা প্রকৃতির মাঝে ভাস্কর্য দেখার একটা পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েই স্কাল্পচার গার্ডেন তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে ফিলিপ জনসন নামের একজন শিল্পীর ডিজাইন করেছিলেন। মিউজিয়ামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অ্যাবি অলড্রিচ রকফেলারের নামে এই গার্ডেনের নাম করা হয়েছে অ্যাবি অলড্রিচ রকফেলার স্কাল্পচার গার্ডেন। ছোট নিরিবিলি একটা জায়গা, মার্বেল পাথরের পথ, গাছপালা, ছোট্ট একটা জলাধার, হ্যারি বেরটোইয়ার ডিজাইন করা তারের চেয়ার—যেখানে দর্শনার্থীরা বসে বিশ্রামও নিতে পারেন, পুরো পরিবেশটা যেন ভিন্ন রকম একটা আবহ তৈরি করে রেখেছে।

খোলা জায়গায় বিশ্বের খ্যাতিমান ভাস্করদের ভাস্কর্য আছে। পাবলো পিকাসোর শি-গট, জোন মিরোর মুসবার্ড, সিমোন লেইয়ের সেন্টিনিয়েল—কী নেই এখানে!বলা যায়, বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্যগুলোর নমুনা এখানে সংরক্ষিত এবং প্রদর্শিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ভাস্কর্য উদ্যানে পৃথিবীখ্যাত ভাস্কর্যগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তারের একটা চেয়ারে বসে পড়ি। সামনের ভাস্কর্যটা আসলে একটি নগ্ন নারীমূর্তি, মাথাটা প্রায় সোমনের জলধারাটায় পড়ে যাচ্ছে। জলধারাটায় অগুনতি কয়েন, বোঝা যায় দর্শনার্থীরা সেখানে মুদ্রা ছুড়ে দিয়েছে। ভাস্কর্যটার দিকে তাকাই। ফরাসি ভাস্কর অ্যারিস্টাইড মেইললের ‘দ্য রিভার’ ভাস্কর্যটার নাম। ভাস্কর্যটার থিম হচ্ছে—যুদ্ধ। এক নারীকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, ছুরিকাহত নারী পড়ে যাচ্ছেন। নিচেই তো জলধারা। ছুরিকাহত নারীটি সেই জলধারায় লুটিয়ে পড়ছেন না। বরং পড়ে যাওয়ার ঠিক মুহূর্তে তার দুই হাত ওপরের দিকে ওঠে এসেছে, একটা পা–ও ঊর্ধ্বমুখী। তারা মাথাটা জলের বেশ খানিকটা ওপরে। নিশ্চয় এর কোনো অর্থ আছে, শিল্পী কোনো একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে। ১৯৪৩ সালে শেষ হওয়া এই ভাস্কর্যটির নাম দেওয়া আছে ‘দ্য রিভার’—নদী মানেই তো গতি। তেমনি কোনো গতি যে গতি জীবনকে সামনে নিয়ে যায়, তারই কোনো বার্তা কি এই ভাস্কর্য!

সেরিনের ডাকে গতিবিষয়ক ভাবনায় ছেদ পড়ে। এবার আসলে আমাদের সামনে এগোনোর পালা। টাইম স্কয়ার দেখে আবার সাবওয়ে ধরতে হবে। জ্যাকসন হাইটসে লেখক-সাংবাদিক আনোয়ার শাহাদাত অপেক্ষায় থাকবেন যে!

চলবে...

আরও পড়ুন