সিডনি থেকে হ্যালিফ্যাক্স-সপ্তম পর্ব

থিসিস প্রেজেন্টেশনের পর অধ্যাপকদের সঙ্গে

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু করছি হ্যালিফ্যাক্সের গল্প।

আমাদের আলাপনের দ্বিতীয় পর্ব আজ।

নোভাস্কোশিয়ার রাজধানী হ্যালিফ্যাক্স শহর এবং নিজের যাপিত জীবন নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন ডালহৌসি ইউনিভার্সিটির ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টের Master of Science in Business-এর শিক্ষার্থী প্রান্ত কুমার কুরি। থিসিস সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তিনি কর্মরত রয়েছেন MUFG Investor Services এ। (আগ্রহীরা ডালহৌসির প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে একটা ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন -Master of Science in Business | Welcome to Dalhousie University https://share.google/N3fyFrhp22venkuFO)

আমাদের কথোপকথনের দ্বিতীয় অংশ তুলে ধরছি -

প্রান্ত: আমাদের প্রফেসরদের প্রত্যাশা বরাবরই আকাশ ছোঁয়া। তারা ভাবতেন আমরা একেকজন সবকিছুর আদ্যোপান্ত জেনে বসে আছি। এদিকে দেখা যায় আমরা হয়তো এক বিষয়ের মোটামুটি জানি, আরেকটায় একেবারে আনাড়ি। প্রফেসররা শুরু করেন অ্যাডভান্স লেবেল থেকে যাতে করে চার মাস সময়কালের ভেতরেই সিলেবাস শেষ করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই ক্লাসে আমরা যখন প্রশ্ন করতাম, উনি খুব আশ্চর্য হতেন। ভাবতেন, এরা এটাও জানে না? কিন্তু আমাদের সবার পাঠক্রম তো ভিন্ন ভিন্ন। তাই একেকজনের পারদর্শিতা একেক দিকে। বেশ সময় নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল প্রতিটি টপিকের ওপর। যে টপিক পরের দিন প্রফেসর ক্লাসে পড়াবেন, তা আগের দিন আমাদের নিজস্ব পড়াশোনার পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হতো। আমরা ওই টপিকের ওপর পড়াশোনা করে ক্লাসে যেতাম। এতে করে ধীরে ধীরে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠলাম। আমাদের রিসার্চের কাজের অধিকাংশই গাণিতিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে। পড়াশোনা, ক্লাসের বাইরে বাসায় গিয়ে আবার পড়াশোনা, এরপর আবার চাকরি। সবকিছু মিলিয়ে বেশ হাঁসফাঁস অবস্থা চলেছে। এখানে টিউটোরিয়াল ক্লাস ছিল। এর জন্য পড়াশোনা ভালোভাবে রিভিউ করে যেতে হতো; কারণ, ওখানে যে টপিকে ক্লাস, ছাত্র ছাত্রীরা প্রশ্ন করবে, জানতে চাইবে। এ অবস্থায় উত্তর করতে না পারলে তো হবে না। নিজের জন্যই লজ্জাজনক। মার্কার হিসেবেও কাজ করতাম। সে ক্ষেত্রেও কোনো গণিতের সমাধান বা কোনো প্রশ্নের উত্তর যদি কোনো শিক্ষার্থী ভিন্নভাবে লেখে সেটাও জানতে হতো। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম দুই সেমিস্টারে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে ছুটতে হয়েছে। রাতের ঘুমও অনেক দিন ঠিকঠাক হয়নি। এসবের মধ্যে যদি কোনো কিছু শিক্ষণীয় থাকে, তা হচ্ছে মাল্টিটাস্কিং করতে শেখা। একদিকে কিছু অর্জন হবে, তো বিপরীতে দিকে অনেক কিছু জীবন থেকে বাদও পড়ে যাবে। এটাই বাস্তবতা। এখানকার প্রচণ্ড ব্যস্তময় জীবনে অভ্যস্ত হতে গিয়ে হারিয়ে গেছে সামাজিক জীবন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া। নিজের দৈনন্দিন জীবনের খরচের হিসাব মেটানো, পড়াশোনার টিউশন ফির খরচের চাপও থাকে। এসবের ভিড়ে সামাজিক জীবন বলে কিছু থাকে না। টুকটাক যদি কাজের জায়গায় গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা হয়, সেটাই সামাজিক জীবন।

অতনু-এই ব্যস্তময় জীবনে অভস্ত্যতার সঙ্গে সঙ্গে দেশের কোন জিনিসগুলোর অভাববোধ কর? এখানকার খাওয়া দাওয়া, জীবনযাপন, চলাফেরা এসবের বিষয়ে যদি কিছু বলতে।

আরও পড়ুন
থিসিসের শিরোনাম পাতা

প্রান্ত-আগে দেশে যেমন আমরা বাইরে পার্টিতে গেলে পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, ফ্রাইড রাইস খেতাম। এখন এমন খাবার আর একদম খেতে ইচ্ছা করে না। কারণ, হ্যালিফ্যাক্সের শহুরে জীবনে এসবই খাবার। কাজেই দেশীয় খাবারদাবার সবচেয়ে বেশি মিস করি! মনে পড়ে এই শহরের প্রথম সাতদিনে আমি শুধু বাইরের খাবারই খেয়েছি। একে তো রান্না জানি না, তার ওপরে থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা। যদি বর্তমান সময়ের কথা বলি, গত এক মাসে মনে হয় না আমি কোন পিৎজা খেয়েছি। মানে খাওয়ার সুযোগ থাকলেও খাইনি, খেতে ইচ্ছাই করেনি। উইকেন্ডে যদি বাসার রুমমেটকে পাওয়া যায়, চেষ্টা করি দেশীয় কোন পদ রান্না করতে। সেটা ডালভাত হলেও চলে।

আরও পড়ুন

আসি যাতায়াতের বিষয়ে, আমাদের ইউনিভার্সিটির টিউশন ফির খরচে বাস পাসের জন্য ১৭০ ডলারের মতো একটা চার্জ করে। এর নাম ইউ পাস। আট মাসের মত মেয়াদ থাকে। আমার মতে ইউনিভার্সিটিতে আমরা যতগুলো ইনভেস্টমেন্ট করি, এটার সার্ভিস সবার সেরা। যত খুশি ব্যবহার করো, যেখানে যত ইচ্ছা যাও আট মাসের জন্য। আরও একটা বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, এখানকার যানবাহন কতটা প্রতিবন্ধীবান্ধব। আমাদের দেশে কখনো কেউ চিন্তা করতে পারেন একজন বিকলাঙ্গ ব্যক্তি পাবলিক ট্রানজিট ব্যবহার করবেন? এখানে ড্রাইভার যখন দেখেন যে একজন বিশেষ অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তি রয়েছেন, তখনই বাস তার জন্য ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামিয়ে আনা, তিনি উঠে এলে তাকে বিশেষ বেল্ট পরিয়ে দেওয়া। আবার একইভাবে গন্তব্যস্থানে পৌঁছলে তাকে সব রকম সাহায্য করা। এই ব্যাপারগুলো অসাধারণ।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

ঘুরে বেড়ানো বা প্রিয় জায়গার কথা উল্লেখ করতে গেলে অবশ্যই বলব ওয়াটার ফ্রন্টের কথা। শহরে শুরুর দিনগুলোয় বিকেল বেলার সময়ে ওখানে চলে যাওয়াটা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বসে নানা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, কথা বলা এসব নিয়ে বেশ জমজমাট সময় কাটত। এরপর বলব হাইকিংয়ে যাওয়ার কথা। নোভাস্কোশিয়া পাহাড়ি রাস্তায় পথের অভিযানে যাওয়াটা বেশ মজার। আমি বেশ কিছু জায়গায় হাইকিংয়ে গেছি। যেমন পয়েন্ট প্লেজেন্ট পার্ক, দ্য ব্লাফ ওয়াইল্ডারনেস ট্রেইল। আরও অনেক নান্দনিক জায়গা রয়েছে। দ্য পাবলিক গার্ডেন। একটা জায়গায় গিয়ে বসে প্রাকৃতিক মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করা যা আমরা যারা ঢাকায় থেকেছি অভ্যস্ত নই। ওখানে যখন নিঃশ্বাস নিতাম মনে হতো দূষণীয় ধোঁয়া টেনে নিচ্ছি। এখানকার বাতাস কত নির্মল! পাশেই আটলান্টিক। সব মিলিয়ে সোনায় সোহাগা।

অতনু: আমরা জীবনযাপন থেকে আবার পড়াশোনায় ফিরে আসি। এপ্লাই করা থেকে শুরু করে কানাডা আসার ব্যাপারে কিভাবে পথ পরিক্রমা এগিয়েছে সেটা বলো।

আরও পড়ুন
থিসিস প্রফেসর এবং সহপাঠীদের সঙ্গে

প্রান্ত: এপ্লাই করার বলতে গেলে যখন শুরু করলাম তখন মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলাম। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট যাচাই-বাছাই করে দেখলাম ওদের প্রত্যাশা একটু বেশি। শর্ত বেশ খটমটে। কিছু ভার্সিটিতে সিজিপিএ-৩.৮৮ বা এর বেশি চায়। জিম্যাট, জি আর ই ছাড়া এপ্লাই করা যাবে না। কিছু কিছু জায়গায় ফাইন্যান্সের সিএফএ লেবেল ওয়ান কমপ্লিট আছে কি না। রিসার্চ পেপার করা আছে কি না। এপ্লাই করার সঙ্গে সঙ্গে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল যে এখন টক্কর দিতে হবে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চমানের সারির ছাত্রছাত্রীদের। সব সময় পরিকল্পনা ছিল র‍্যাংকিং এ প্রথম দিকের ইউনিভার্সিটিতেই আবেদন করবো। যেভাবেই হোক চান্স পেতেই হবে। শুরুর দিকে সবার মতো আমিও ধাক্কা খেয়েছি। সবার মতো আমিও গেলাম এজেন্সিতে সাহায্য চাইতে। ওনারা একটা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এর বাইরে অন্য কোথাও এপ্লাই করলে কোন তথ্য তারা দিতে পারবেন না। পরে তালিকা নিয়ে পড়াশোনা করে যা দেখলাম সব কটিই মাঝারি থেকে নিম্ন সারির ভার্সিটি। সিদ্ধান্ত নিলাম যা করার নিজেই করব। টিচারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ওনারা বললেন, ইউনিভার্সিটির চাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিজের সিজিপিএ, আইইএলটিএস মিলিয়ে দেখতে হবে কোনটাতে যোগ্যতা থাকছে আবেদন করার। একটা লিস্ট করে এপ্লাই করা শুরু করলাম। ইউনিভার্সিটিতে সরাসরি মেইল করে, নিজের প্রোফাইল শেয়ার করে জানতে চাইলাম আমি সিলেক্টেড হব কি না। ওনারা অধিকাংশই জানালেন, আগে এপ্লাই করতে হবে। আবেদন করার পর ওনারা ফলাফল জানাবেন। স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করলাম। ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে যা খেয়াল করলাম, তা হলো যেসব ইউনিভার্সিটিতে থিসিস বেসড যেসব প্রোগ্রাম রয়েছে সেগুলোতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। তাদের কাছ থেকে ফান্ডিং পাওয়ারও একটা সুযোগ রয়েছে যদি আমি রিসার্চ বেসড অভিজ্ঞতা দেখাতে পারি। নর্থ সাউথ এ পড়ার সময় আমি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে দুই বছর মেয়াদি গবেষণামূলক কাজ করেছিলাম। এ ছাড়া ফাইন্যান্স, হিস্ট্রি দুটো ডিপার্টমেন্টে মার্কার, টিচার্স অ্যাসিসটেন্ট ছিলাম। এসব অভিজ্ঞতা এপ্লাই করার সময় মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। এর মধ্যে আমার ইউনিভার্সিটির একটা ফ্যাকাল্টির সঙ্গে একটা রিসার্চ পেপার পাবলিশ করি। আরও চার থেকে পাঁচটা পেপারে চেয়ারম্যান স্যারকে সাহায্য করি। মূলত কাজ শেখাই ছিল আমার উদ্দেশ্য-কীভাবে ডেটা ফেচ করতে হয় বিভিন্ন ডেটা স্ট্রিম থেকে, ক্লিন করতে হয়। দেড় থেকে দুই বছর এসব কাজের পেছনে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করতে থাকি। এপ্লাই করার এক পর্যায়ে ইউবিসি থেকে মেইল পাই কিন্তু ওরা জিম্যাট চাইছিল। এদিকে জিম্যাটের প্রস্তুতি নিয়ে এপ্লাই করতে অনেকটা সময় লেগে যাবে। আমি ওই সময়টা রিসার্চের জন্যই বরাদ্দ করলাম। ওই সময় যেসব ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করলাম সবখানেই নিজের রিসার্চ বেসড সব অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে হাইলাইট করলাম।

আরও পড়ুন
ডালহৌসি ওয়েবসাইটে প্রান্তকে নিয়ে অভিনন্দন বার্তা

একদিন আমার করা লিস্টে দেখতে গিয়ে চোখে পড়ল ডালহৌসির এই প্রোগ্রামটা - Master of Science in Business এবং এটা ওদের সম্প্রতি শুরু করা একটা প্রোগ্রাম যাতে ফান্ডিং এর সুযোগও রয়েছে। তবে বিষয়টা আমার নজরে এলো কিছুটা দেরিতে। তখন ডেডলাইনের আর মাত্র ১০-১৫ দিন বাকি আছে। দ্রুততার সঙ্গেই আমি এসওপি, সিভি সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট করি এবং আমার নিজের প্রফেসরদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনাদের দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী করে নিই। ওদের প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করার জন্য কিছুটা তাড়াহুড়ো হলেও নিজের শতভাগ দিয়েই করি। বাকি আরও কিছু ইউনিভার্সিটিকে ব্যাপ আপ হিসেবে রাখি। যদি ডালহৌসিতে না হয় এগুলোকে মেইল করব। শেষদিকে অ্যাপ্লাই করার কারণে মনে কিছু শঙ্কা কাজ করছিল। অবশেষে একদিন সেই কাঙ্ক্ষিত মেইলের দেখা পাই যেখানে বলা হয় আমি প্রোগ্রামের জন্য সিলেক্টেড হয়েছি। কিন্তু ওরা থিসিস বেসড কত ফান্ডিং দেবে, সেটা লেখা ছিল না। তবে ওরা আমাকে নিশ্চিত করে জানায় যে যারা নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করে পাঠাই। খুব সম্ভবত রিসার্চের অভিজ্ঞতা দেখে ওদের কর্তৃপক্ষ অফার লেটারের সঙ্গে টিচার্স অ্যাসিস্টেন্টশিপও আমাকে অফার করে। ওদের অফার লেটার নিয়েই ভিসার জন্য আবেদন করি। কানাডায় প্রবেশের সময় মন্ট্রিয়লে ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন আমি ডালহৌসিতে যাচ্ছি। ভূয়সী প্রশংসা করেন। কারণ, ডালহৌসি আটলান্টিক কানাডায় সবার সেরা। যখন দেড় দুই বছরে মধ্যে কোনো রিপ্লাই আসছিল না। তখন একটা পর্যায়ে মনে হয়েছিল আমি হয়তো বৃথা সময় নষ্ট করছি। এসব রিসার্চ কোন কাজে আসবে না। কিন্তু লেগে থাকলে শেষ পর্যন্ত বিজয় আসতে বাধ্য। কাজেই যারা অ্যাপ্লাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সবাইকে এটাই বলব যে প্রোগ্রামে যাবেন, সেটার ওপর আগেই নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে নিন। আমি যদি নর্থ সাউথে রিসার্চের যতগুলো কাজ করেছি, ওগুলো না করতাম তাহলে কোনো সুযোগ সৃষ্টি হতো না। ওখানে যে সময়টা কাজ করেছিলাম, পরবর্তীকালে ওগুলোই আমাকে শুধু অফার লেটার এনে দেয়নি। সঙ্গে সঙ্গে অন ক্যাম্পাস জবেরও ব্যবস্থা করে দেয়। যেখানে আমার সহপাঠীরা তখন জবের জন্য কষ্ট পেয়েছে, তখন আমি কাজ করছি। শুরুতে সবারই একটু মানিয়ে নিতে সময় লাগে। আমাকে টিচার্স অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অফার করার পেছনে কিন্তু দেশের কাজই সাহায্য করেছে। ডালহৌসির প্রফেসররা দেশে আমার টিচারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তারাও আমার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এসবেরই মিলিত ফল অফার লেটার এবং অন ক্যাম্পাস চাকরি। চলবে...