আর কিছুদিনের মধ্যেই বিদায় নেবে পবিত্র মাহে রমজান। মাসজুড়ে ইবাদত, ইফতার ও সামাজিক মিলনমেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিমরা। রমজানের শেষ দশকে এসে সেই ব্যস্ততা আরও বেড়েছে—বিশেষ করে ইফতার আয়োজন, তারাবিহ নামাজ ও লাইলাতুল কদরের ইবাদতকে ঘিরে।
পবিত্র রমজানের শেষ রাতগুলোতে কানাডার বিভিন্ন শহরের মসজিদগুলোতে দেখা যাচ্ছে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। লাইলাতুল কদরের রাতে অনেকেই রাতভর ইবাদতে মগ্ন থাকছেন। অনেক মসজিদে ইতিমধ্যে পবিত্র কোরআন খতম সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় হাফেজ ও কারিদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাফেজ ও কারিরা সারা মাস তারাবিহর নামাজে ইমামতি করেছেন।
রমজানজুড়ে সপ্তাহান্তের দিনগুলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ছিল ইফতার আয়োজনের বিশেষ প্রাণচাঞ্চল্য। অনেক পরিবার পরিচিতজনদের বাসায় ইফতার পাঠানো, একসঙ্গে ইফতার করা কিংবা ছোট ছোট ইফতার আড্ডার আয়োজন করেছে। প্রবাসের মাটিতে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকলেও পরিচিতজনদের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি মুসলিমরা তৈরি করেছেন একধরনের পারিবারিক পরিবেশ।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পবিত্র রমজান পালন ছিল কিছুটা চ্যালেঞ্জের। পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি অনেকেই পার্টটাইম (খণ্ডকালীন) কাজ করেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে কর্মস্থল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ইফতার করতে হয়। তবে কানাডার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন থাকায় তাঁরা ক্যাম্পাসে সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করে থাকেন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একধরনের স্বস্তি এনে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিজেদের বাসায় ইফতার বিতরণ ও আপ্যায়নের আয়োজন করে থাকে। এসব ইফতারে থাকে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার—ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, খেজুরসহ নানা পরিচিত ইফতারি।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও অধিকাংশ মসজিদে নিয়মিত ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। অনেকেই দেখা যায় কর্মদিবস শেষে বাসায় ইফতার প্রস্তুত করার সময় না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মসজিদে গিয়ে ইফতার করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই মসজিদে ইফতার আয়োজনের জন্য অর্থসহায়তা দিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রবাসে থেকেও ইফতার ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কানাডার বাংলাদেশি মুসলিমরা। সেই সঙ্গে ইফতারের টেবিলে ভাগাভাগি করছেন প্রবাসজীবনের গল্প, দেশের স্মৃতি, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর কাছের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে রমজান পালন করতে না পারার বেদনা।