স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া ভ্রমণ—ভূমধ্যসাগর তীরে একটি অত্যাধুনিক শহরের স্মৃতি

ছবি: লেখকের পাঠানো

বার্সেলোনার রঙিন দিনগুলো যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল। গাউদির শিল্পময় স্থাপত্য, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি, লা রাম্বলারের প্রাণচাঞ্চল্য আর ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা সেই শহরকে বিদায় জানিয়ে আবারও শুরু হলো নতুন পথচলা।

১৬ নভেম্বর ২০২৫। স্পেনে শরতের শেষ অধ্যায়। নীল আকাশে মেঘের ভেলা, বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া। সকাল ঠিক ১০টায় চার মাসের ছোট্ট রূপকথাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। অনিত স্টিয়ারিং হাতে নিতেই ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়তে লাগল বার্সেলোনার সুপরিকল্পিত নগরজীবন। সামনে অপেক্ষা করছিল প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক মনোমুগ্ধকর সড়কযাত্রা, গন্তব্য—ভূমধ্যসাগরের উপকূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা স্পেনের তৃতীয় বৃহত্তম এবং আধুনিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ শহর ভ্যালেন্সিয়া।

চালকের আসনে অনিত। বার্সেলোনার শহরতলি পেরিয়ে যাওয়ার সময় আনিকা জানালার বাইরে আঙুল তুলে দেখাল বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাস। চার বছর আগে ইরাসমাস স্কলারশিপ নিয়ে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর দিকে তাকিয়ে তার চোখেমুখে ভেসে উঠল একরাশ নস্টালজিয়া। অল্প সময়ের জন্য হলেও সেই ছাত্রজীবনের স্মৃতিগুলো যেন আবার ফিরে এল।

শহর ছাড়িয়ে হাইওয়েতে উঠতেই বার্সেলোনার ব্যস্ততা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। সামনে উন্মোচিত হতে লাগল ভূমধ্যসাগরীয় প্রকৃতির অপরূপ রূপ। রাস্তার দুপাশে সারি সারি জলপাইগাছ, ঢেউখেলানো পাহাড়, দূরে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গ্রাম আর নির্মেঘ নীল আকাশ—সব মিলিয়ে পথ যেন এক চলমান ছবির ক্যানভাস। আমরা জানালার কাচে মুখ ঠেকিয়ে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম, আর চার মাসের ছোট্ট রূপকথা মায়ের পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিল। তার শান্ত মুখটি দেখে মনে হচ্ছিল, এই পথচলাই যেন তার ছোট্ট পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

লা’আলডেয়া: একটি ছোট্ট বিরতি, এক অমূল্য স্মৃতি

বার্সেলোনা থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমরা লা’আলডেয়ার একটি হাইওয়ে সার্ভিস এরিয়ায় যাত্রাবিরতি করলাম। সামনে তখনো প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার পথ বাকি—গন্তব্য ভ্যালেন্সিয়া। বাইরে থেকে এটি ছিল একটি সাধারণ বিশ্রামকেন্দ্র; কিন্তু আমাদের জীবনের স্মৃতির পাতায় স্থানটি চিরদিনের জন্য বিশেষ হয়ে থাকবে।

এই বিরতিতেই ছোট্ট রূপকথার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আনিকা আর নানুর স্নেহভরা হাতে প্রথমবারের মতো তার মুখে তুলে দেওয়া হলো নরম করে চটকানো পাকা কলা—তার জীবনের প্রথম শক্ত খাবার। প্রথমে বিস্ময়ে বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল সে, তারপর ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হলো। কিছুক্ষণ পর তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক নির্মল হাসি। সেই হাসিতে কোনো শব্দ ছিল না; কিন্তু ছিল সীমাহীন আনন্দ আর ভবিষ্যতের অসংখ্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

ছবি: লেখকের পাঠানো

আমরা সবাই সেই মুহূর্তের নীরব সাক্ষী হয়ে রইলাম। বাবা-মায়ের আনন্দভরা মুখ, নানুর স্নেহমাখা হাত আর রূপকথার নিষ্পাপ হাসি আমি ক্যামেরায় বন্দী করলাম। তখনই মনে হলো—ভ্রমণের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি অনেক সময় গন্তব্যে নয়; বরং পথের মাঝখানে থেমে যাওয়া এমন ছোট্ট, মানবিক মুহূর্তগুলোর মধ্যেই জন্ম নেয়।

আরও প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিকেলের শেষ প্রহরে আমরা পৌঁছালাম ভ্যালেন্সিয়ায়। নীল আকাশ, নির্মল বাতাস আর ভূমধ্যসাগরের স্নিগ্ধ পরশে শহরটি যেন আন্তরিক অভ্যর্থনা জানাল নীল আকাশ আর ভূমধ্যসাগরের বাতাসে।

অনেক আগেই বুক করা ছিল ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা শান্ত, নিরিবিলি Hotel Blayet-এ। এখানে পর্যটকদের ভিড়ও ছিল তুলনামূলক কম। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর মনে হলো, যেন শরীর-মন দুটোই একমুহূর্তে স্বস্তির আশ্রয় খুঁজে পেল।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে রিসোর্টের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে চোখের সামনে উন্মোচিত হলো ভূমধ্যসাগরের অপার জলরাশি। দূরে একের পর এক ঢেউ তীরের বুকে আছড়ে পড়ছে, আর সেই অবিরাম গর্জন যেন প্রকৃতির চিরন্তন সংগীত হয়ে কানে বাজছিল। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো সমুদ্রের নীল বুকে ছড়িয়ে এক অপার্থিব আবহ সৃষ্টি করেছিল। সেই মুগ্ধকর দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো, দীর্ঘ যাত্রার সব ক্লান্তি যেন ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে অজানার পথে হারিয়ে গেল। প্রকৃতির সেই নীরব স্নেহস্পর্শে আমাদের মন ভরে উঠল এক গভীর প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতায়।

ঘণ্টা দুয়েক বিশ্রামের পর রাতের খাবারের উদ্দেশে আবার বেরিয়ে পড়লাম। বাইরে তখন কনকনে শীত; কিন্তু সেই শীতও আমাদের উৎসাহে এতটুকু ভাটা ফেলতে পারেনি। অনিত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেল ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা একটি মনোরম রেস্তোরাঁয়। আনিকা একটাই প্রত্যাশা—ভ্যালেন্সিয়ার ঐতিহ্যবাহী, বিশ্ববিখ্যাত ও গর্বের খাবার পায়েলা ভ্যালেন্সিয়ানার (Paella Valenciana) আসল স্বাদ আমাদের নিয়ে উপভোগ করা। এই খাবার ভ্যালেন্সিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ও জাতীয় গর্ব, যার উপকরণ হলো চাল, মুরগি, খরগোশের মাংস, সবুজ শিম, সাদা শিম ও জাফরান। এটি সি-ফুড নয়, আসল ভ্যালেন্সিয়ান পায়েলা স্থলজ উপকরণে তৈরি। সঙ্গে ছিল আমার হাতে স্পেনের স্থানীয় এক গ্লাস বিয়ার, যা কিনা খাবারকে দারুণ উপভোগ্য করেছিল।

ছবি: লেখকের পাঠানো

পরদিন সকালে আধুনিক ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হলাম। সকালে প্রাতরাশ সেরে আমরা ছুটলাম বিজ্ঞান ও শিল্পনগর কংক্রিটে আঁকা কল্পনার বাস্তব রূপ দেখতে। তুরিয়া নদীর পুরোনো খাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা City of Arts and Sciences প্রথম দর্শনেই বিস্ময় জাগায়। সাদা কংক্রিট, কাচ আর পানির প্রতিবিম্ব—সব মিলিয়ে মনে হয় আমরা যেন ভবিষ্যতের কোনো নগরে ঢুকে পড়েছি।

আরও পড়ুন

স্থপতি সান্তিয়াগো কালাত্রাভা এখানে কেবল ভবন তৈরি করেননি, তিনি কল্পনাকে দৃশ্যমান করেছেন। চোখের মতো Hemisfèric, মানুষের কঙ্কালের মতো Science Museum আর শিল্পের মন্দির Palau de les Arts—সবকিছু একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে মানুষের জানার ও ভাবার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে। এই জায়গায় হাঁটতে হাঁটতে আমি প্রশ্ন করলাম, ‘গুলো কি সত্যি মানুষ বানিয়েছে?” আমি উত্তর খুঁজি না। কারণ, কখনো কখনো বিস্ময়টাই যথেষ্ট।

শিল্প ও বিজ্ঞান নগরী (City of Arts and Sciences) হলো স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে অবস্থিত একটি বিশাল আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কমপ্লেক্স। এখানে বিজ্ঞান, শিল্প, প্রযুক্তি ও শিক্ষাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে ভবিষ্যৎমুখী স্থাপত্যের মাধ্যমে। এই শিল্প ও বিজ্ঞান নগরীর ভেতরেই সামুদ্রিক জীবন প্রদর্শনী কেন্দ্র ওশানোগ্রাফিক Oceanogràfic, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়ারিয়াম। এখানে ঢুকলে শব্দ কমে যায়, আলো নীল হয়ে ওঠে আর সময় যেন ধীরে চলে।

ছবি: লেখকের পাঠানো

ভ্যালেন্সিয়ার সবচেয়ে মানবিক সৌন্দর্যের নাম তুরিয়া উদ্যান (Turia Garden), একসময় যে তুরিয়া নদী শহরের বুক চিরে বয়ে যেত, আজ তার পুরোনো নদীখাতই রূপ নিয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এক অপূর্ব সবুজ উদ্যানে। পুরোনো সেতুগুলো এখনো মাথার ওপর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাদের নিচে বয়ে চলেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন। সবুজের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—একটি শহর যদি সত্যিই তার মানুষকে ভালোবাসে, তবে তার রূপ বোধ হয় এমনই হওয়া উচিত।

ভ্যালেন্সিয়া শুধু সমুদ্র, আধুনিক স্থাপত্য আর কমলার শহর নয়; এই শহরের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে ফুটবলের আবেগ। রাস্তায় হাঁটলে যেমন ভূমধ্যসাগরের বাতাস অনুভব করা যায়, তেমনি কোথাও না কোথাও টের পাওয়া যায় ফুটবলের নিঃশব্দ উত্তাপ। ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব ডি’ফুটবল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৯ সালে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই ক্লাব শহরের গর্ব, আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এখানকার মানুষের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি ভ্যালেন্সিয়ার জীবনযাত্রা ও শহরপ্রেমেরই একটি অংশ।

দুপুরে আমরা কেএফসিতে মধ্যাহ্নভোজ সারলাম। খাবার ছিল বেশ উপভোগ্য। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এত বিশাল আধুনিক স্থাপত্য-কমপ্লেক্সের সবকিছু দেখা সম্ভব হলো না; তবু যতটুকু দেখেছি, তাতেই ভ্যালেন্সিয়ার আধুনিকতার প্রতি গভীর মুগ্ধতা জন্ম নিল।

ছবি: লেখকের পাঠানো

বিকেল চারটায় অনিত আবার গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিল। এবার আমাদের গন্তব্য প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দূরের ঐতিহাসিক শহর গ্রানাডা। ভ্যালেন্সিয়ার নীল আকাশ, ভূমধ্যসাগরের বাতাস আর আধুনিক স্থাপত্যকে পেছনে ফেলে আমরা আবার রওনা হলাম নতুন এক ইতিহাসের সন্ধানে।

পেছনে পড়ে রইল ভ্যালেন্সিয়া—একটি শহর, যা আমাদের শুধু তার সৌন্দর্য দিয়ে মুগ্ধ করেনি; বরং কিছু অমূল্য স্মৃতিও উপহার দিয়েছে।

ভ্যালেন্সিয়া ছেড়ে যতই আমরা দক্ষিণের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, ততই প্রকৃতির রূপ বদলে যেতে লাগল। প্রশস্ত হাইওয়ের দুই পাশে দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কমলালেবুর বাগান ধীরে ধীরে জায়গা করে দিল অসংখ্য জলপাইগাছকে। শত শত একরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলপাইবাগানগুলো যেন সবুজ ঢেউ তুলে দিগন্ত ছুঁয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে চোখে পড়ছিল আঙুর, ডালিম, বাদাম ও ডুমুরের বাগান, যা আন্দালুসিয়ার উর্বর ভূমির প্রাচুর্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

পথের কিছু এলাকায় বেগুনি ফুলে সাজানো ছোট ছোট জাফরানের খেতও চোখে পড়ল। হাইওয়ের পাশে গাড়ি থামানো সম্পূর্ণ নিষেধ থাকাতে গাড়ি থামিয়ে জাফরানখেত দেখার ইচ্ছা থাকলেও আর দেখা হলো না। শরতের নরম আলোয় সেই ফুলগুলোর রং যেন সবুজ প্রান্তরের বুকে বেগুনি কারুকাজ এঁকে দিয়েছে। ভাবতেই বিস্ময় জাগে—এই কোমল ফুলের লালচে পরাগ থেকেই সংগ্রহ করা হয় বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান মসলা—জাফরান।

ছবি: লেখকের পাঠানো

পথের দুপাশের পাহাড়ি ঢাল, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, ছোট ছোট গ্রাম আর অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো আমাদের যাত্রাকে আরও মুগ্ধকর করে তুলেছিল। গাড়ির জানালার বাইরে প্রতিটি দৃশ্য যেন একেকটি জীবন্ত জলরঙের ছবি। মনে হচ্ছিল, আমরা শুধু একটি শহর থেকে আরেকটি শহরে যাচ্ছি না; বরং স্পেনের প্রকৃতি, কৃষি আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছি।

আরও পড়ুন

বার্সেলোনা থেকে ভ্যালেন্সিয়া—এটি কেবল একটি পথযাত্রা ছিল না, এর মধ্যে মিশে ছিল ছোট্ট রূপকথার জীবনের প্রথম শক্ত খাবারের স্বাদ, আনিকার পুরোনো ছাত্রজীবনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া, একটি পরিবারের একসঙ্গে পথচলার আনন্দ আর একটি আধুনিক শহরের কাছ থেকে শেখা—কীভাবে বিজ্ঞান, স্থাপত্য, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে পাশাপাশি রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়।

তাই স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া আমাদের কাছে শুধু একটি গন্তব্য ছিল না; এটি হয়ে রইল আমাদের ভ্রমণজীবনের এক নরম, নীল সবুজ অধ্যায়, যেখানে ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ের শব্দের সঙ্গে মিশে রয়েছে পরিবারের হাসি, পথের বিস্ময় আর আমাদের ছোট্ট রূপকথার নিষ্পাপ হাসি।

বহু বছর পরেও হয়তো কোনো এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় চোখ বন্ধ করলে আবার দেখতে পাব সেই নীল আকাশ, ভূমধ্যসাগরের দিগন্তজোড়া ঢেউ, অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো আর গাড়ির পেছনের সিটে মায়ের পাশে কখনো মিষ্টি হাসিতে জেগে থাকা, আবার কখনো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া ছোট্ট রূপকথাকে।

জীবনের কত পথ আমরা পেরিয়ে যাই, কত শহর দেখি, কত দৃশ্য চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়; কিন্তু কিছু মুহূর্ত হৃদয়ের গভীরে এমনভাবে গেঁথে থাকে, যাদের কোনো বিদায় নেই, কোনো শেষ নেই। ভ্যালেন্সিয়া তেমনই একটি স্মৃতি—একটি শহর, একটি সমুদ্র, একটি পরিবার এবং আমাদের ছোট্ট রূপকথাকে ঘিরে থাকা একটুকরো অমলিন সুখ।

তখন হয়তো মনে হবে—কিছু ভ্রমণ কখনো শেষ হয় না;

তারা পথ থেকে সরে গিয়ে স্মৃতির ভেতর আশ্রয় নেয়,

আর সারা জীবন নীরবে আমাদের সঙ্গে পথ চলতে থাকে।

আরও পড়ুন