জার্মানি ভ্রমণ: স্টুটগার্টের ক্যানস্টাটার বিয়ার উৎসব—ইতিহাসের আলোয় এক শরৎ–সন্ধ্যা

বাংলাদেশ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ জার্মানির স্টুটগার্ট শহরের হেলেনবাডে আমাদের ছোট মেয়ে আনিকার বাসায় পৌঁছানোর ঠিক ১৫ দিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর শরতের নির্মল এক বিকেল, চারদিকে হালকা শীতের পরশ, নীল আকাশ আর সোনালি রোদের কোমল আলো। সেই শান্ত-নিরিবিলি বিকেলে আড়াই মাসের ছোট্ট রূপকথাকে স্ট্রলারে নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করলাম, সঙ্গে ছিল মেয়ে আনিকা। আমাদের গন্তব্য স্টুটগার্টের ঐতিহ্যবাহী ক্যানস্টাটার ফোকসফেস্ট—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লোকজ ও বিয়ার (Beer) উৎসব, যার ইতিহাস দুই শতাব্দীর বেশি পুরোনো।

প্রতিবছরের মতো এবারও ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যানস্টাটার ভাসেন ময়দানে এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন। হেলেনবাডের উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে প্রথমে হেঁটে বাসস্টপে পৌঁছালাম। তারপর স্ট্রলারসহ বাসে ওঠা, আবার নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় নিরাপদে নামা—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। এরপর স্টুটগার্টগামী ট্রেনে চড়ে আমরা রওনা দিলাম উৎসব প্রাঙ্গণের দিকে। জার্মানির গণপরিবহনে শিশু ও অভিভাবকদের জন্য এমন আধুনিক, মানবিক ও সুনিয়ন্ত্রিতব্যবস্থা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। ট্রেন থেকে নেমে উৎসবের দিকে কয়েক পা এগোতেই মনে হলো, যেন রং, আলো, সুর আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ভরা এক স্বপ্নরাজ্যের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

যাত্রাপথে রূপকথা কখনো চারপাশে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে, আবার কখনো শরতের মৃদু দোলায় নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে ঘিরেই যেন আমাদের পুরো ভ্রমণটি নতুন এক মাত্রা পেয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা শুধু একটি উৎসবে যাচ্ছি না; পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে তার জীবনের প্রথম বিদেশি উৎসবের স্মৃতির সূচনা করতে চলেছি। সেই ছোট্ট স্ট্রলারটিই যেন সেদিন আমাদের পরিবারের আনন্দ, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল স্টুটগার্টের ঐতিহাসিক ক্যানস্টাটার ফোকসফেস্টের পথে।

জার্মানির স্টুটগার্ট শহরের ক্যানস্টাটার ফোকসফেস্ট, যা অনেকের কাছে স্টুটগার্ট বিয়ারফেস্ট বা অক্টোবারফেস্ট নামে পরিচিত, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসব। স্থানীয় মানুষের কাছে এর নাম ‘ভাসেন’। নেকার নদীর তীরবর্তী বিশাল ক্যানস্টাটার ভাসেন প্রাঙ্গণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থী এখানে সমবেত হন। জার্মান সংস্কৃতি, লোকসংগীত, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সুস্বাদু খাবার এবং বিখ্যাত বিয়ারের অপূর্ব সমন্বয়ে এই উৎসব পরিণত হয়েছিল আনন্দের এক মহামিলনমেলায়।

ফোকসফেস্টের বিশাল প্রাঙ্গণে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে জার্মানির বিখ্যাত ব্রুয়ারিগুলোর সুবিশাল বিয়ার টেন্ট। নানা ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের প্রতিটি টেন্ট যেন একেকটি আনন্দের রাজ্য। প্রতিটি টেন্টেই একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ বসে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।

চারদিকে মানুষের ঢল। কারও হাতে বিয়ারের মগ, কোথাও লোকসংগীতের তালে তালে নৃত্য, কোথাও আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠা মানুষের হাসিমুখ। এই বিপুল জনসমুদ্রের মধ্যেও ছোট্ট রূপকথা স্ট্রলারে শুয়ে শুয়ে বিস্ময়ভরা চোখে চারপাশের রঙিন পৃথিবী দেখছিল। হয়তো সে কিছুই বুঝতে পারছিল না, তবু তার নিষ্পাপ দৃষ্টি আমাদের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কর্মব্যস্ত দিনের কাজ শেষে আমাদের সঙ্গে যোগ দিল রূপকথার বাবা অনিত। পরিবারের সবাই একত্র হওয়ার পর উৎসব যেন আরও পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। হাজারো অপরিচিত মানুষের ভিড়ে, বিদেশের মাটিতে আপনজনদের নিয়ে কাটানো একটি শরৎ–সন্ধ্যা। ইতিহাসের দুই শতাব্দী পেরিয়ে আসা এক উৎসবের আনন্দের সঙ্গে সেদিন জড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের পরিবারের তিন প্রজন্মের এক অপূর্ব মিলন—যে স্মৃতি সময়ের সঙ্গে কখনোই মলিন হবে না।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

অনিত আগেই আমাদের তিনজনের জন্য Gockelesmaier (Wulle Biere)  টেন্টে আসন সংরক্ষণ করে রেখেছিল। নির্ধারিত সময়ে আমরা সেখানে প্রবেশ করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বিশাল হলঘরজুড়ে শত শত লম্বা কাঠের টেবিল আর বেঞ্চ। চারদিকে হাজারো নারী-পুরুষের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতি। কারও হাতে এক লিটার, কারও হাতে দেড় লিটারের বিশাল কাচের বিয়ারের মগ। মঞ্চে তখন লাইভ ব্যান্ডে জনপ্রিয় জার্মান লোকসংগীত বাজছে। সুরের তালে তালে সবাই দাঁড়িয়ে গলা মিলিয়ে গান গাইছে, হাততালি দিচ্ছে, কেউ বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে দুলছে, কেউ বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের কাঁধে হাত রেখে নেচে চলেছে। মনে হয়েছিল, এখানে কেউ অপরিচিত নয়—আনন্দই যেন সবার একমাত্র পরিচয়।

আমি মুগ্ধ হয়ে টেন্টের ভেতরের চারপাশের দৃশ্য দেখছিলাম। এমন সময় অনিত হেসে বলল, ‘বাবা, বিয়ারফেস্টে এসে যদি এক মগ বিয়ারও না খান, তাহলে তো এই উৎসবের অভিজ্ঞতাই অপূর্ণ থেকে যাবে!’ কথাটি শুনে পাশে বসে থাকা আমার স্ত্রী নাহার আমার দিকে এমন এক দৃষ্টিতে তাকালেন, যার ভাষা না বললেও সহজেই বোঝা যায়। তাঁর চোখে যেন একসঙ্গে ছিল বিস্ময়, কৌতূহল আর মৃদু আপত্তির ইঙ্গিত। আমি শুধু মুচকি হেসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলাম। এরই মধ্যে অনিত কাউন্টার থেকে দুটি কাচের মগে দেড় লিটার সোনালি ফেনায় ভরা বিয়ার নিয়ে এসে আমার হাতে ধরিয়ে দিল। ঠান্ডা কাচের মগটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলাম। চারপাশের উচ্ছ্বসিত মানুষের সঙ্গে আমিও যেন ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উৎসবের এক অনন্য মুহূর্তের অংশ হয়ে গেলাম। প্রথম চুমুকের আগে মনে হলো, এটি শুধু এক গ্লাস বিয়ার নয়; বরং দুই শতাব্দীর বেশি পুরোনো এক ঐতিহ্যের প্রতি নীরব সম্মান জানানো। লাইভ ব্যান্ডের শব্দের কারণে আনিকা ও নাহার শব্দদূষণ থেকে পরিত্রাণের জন্য শিশু রূপকথাকে নিয়ে টেন্টের ভেতরে কিছু সময় থেকে বাইরের খোলা জায়গায় চলে গেল।

কিন্তু এই উৎসবের জন্ম কেবল আনন্দ-উল্লাসের জন্য নয়; এর পেছনে রয়েছে মানুষের দুঃখ, দুর্ভিক্ষ ও পুনর্জাগরণের এক মর্মস্পর্শী ইতিহাস। তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ইউরোপজুড়ে জলবায়ুর বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। ১৮১৬ সাল ইতিহাসে পরিচিত হয় ‘গ্রীষ্মহীন বছর’ নামে। দীর্ঘ শীত, অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও তুষারপাতে এই অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়, খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে ভুর্টেমবার্গের রাজা উইলহেল্ম প্রথম এবং রানি ক্যাথারিনা ১৮১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কৃষি ও পশুপালনের উন্নয়নে উৎসাহ দিতে এক বিশাল কৃষি উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। কৃষকদের উন্নত বীজ, উন্নত জাতের গবাদিপশু এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। সেই কৃষি মেলাই আজ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। উৎসবের কেন্দ্রস্থলে দেখা গেল, আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ২৬ মিটার উঁচু ফ্রুখ্টজয়লে (Fruchtsäule) কৃষির সমৃদ্ধি ও মানুষের অদম্য জীবনশক্তির প্রতীক।

উৎসব প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল রঙিন আলোর ঝলকানি, বিশাল বিশাল বিয়ার টেন্ট, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হাজারো নারী-পুরুষ, লোকসংগীতের তালে তালে নাচগান আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠা মানুষের অফুরন্ত উচ্ছ্বাস। এখানে শুধু বিয়ার নয়, জার্মান সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিই যেন সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বিশাল ফেরিস হুইল, রোলারকোস্টার, শিশুদের নানা রাইড, ধোঁয়া ওঠা রোস্টেড চিকেন, ব্রাটভুর্স্ট, প্রেটজেল ও অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

আরও পড়ুন

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ উদ্বোধনী দিনে স্টুটগার্টের মেয়র ঐতিহ্যবাহী কাঠের পিপায় হাতুড়ি মেরে প্রথম বিয়ারের ব্যারেল উন্মুক্ত করেন। প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রায় ৮ লাখ দর্শনার্থী এ উৎসবে অংশ নেন, রঙিন শোভাযাত্রায় প্রায় ৪ হাজার শিল্পী, অশ্বারোহী, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত অংশগ্রহণকারী স্টুটগার্টের রাস্তায় উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেন। তথ্যসূত্রে জানা যায়, পুরো উৎসবে প্রায় ৪২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কেউ এসেছেন জার্মান সংস্কৃতি উপভোগ করতে, কেউ ঐতিহ্যবাহী বিয়ারের স্বাদ নিতে, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দময় সময় কাটাতে।

পুরুষদের গায়ে ঐতিহ্যবাহী লেডারহোজেন এবং নারীদের রঙিন ডির্নডল পোশাক উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে। জার্মান লোকসংগীতের তালে তালে দর্শনার্থীরা হাততালি দিয়ে গান গায়, নাচে এবং একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। জাতি, ভাষা কিংবা ধর্মের কোনো বিভাজন এখানে চোখে পড়ে না; আনন্দই যেন একমাত্র পরিচয়।

উৎসবের আরেকটি বড় আকর্ষণ বিশাল এলাকাজুড়ে বিনোদন পার্ক। আকাশছোঁয়া ফেরিস হুইল, রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টার, শিশুদের জন্য ক্যারোসেল, নানান খেলা এবং বিচিত্র আলোকসজ্জা পুরো প্রাঙ্গণকে এক স্বপ্নলোকের আবহ এনে দেয়। সন্ধ্যা নামতেই হাজারো আলোর ঝলকানিতে ক্যানস্টাটার ভাসেন যেন এক রূপকথার নগরীতে পরিণত হয়।

খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল জার্মানির ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ধোঁয়া ওঠা রোস্টেড চিকেন, ব্রাটভুর্স্ট, বিশাল আকৃতির প্রেটজেল, আলুর নানা পদ, পনির এবং স্থানীয় বিভিন্ন খাবারের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার, বন্ধু কিংবা পর্যটক—সবাই উৎসবের এই আনন্দে মেতে ওঠেন।

ক্যানস্টাটার ফোকসফেস্ট তাই শুধু বিয়ার পান করার উৎসব নয়; এটি ইতিহাস, কৃষি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং মানুষের মিলনের এক অপূর্ব উৎসব। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই উৎসব জার্মান জনগণের ঐতিহ্যকে ধারণ করে বিশ্বের মানুষের কাছে সম্প্রীতি, আনন্দ ও জীবন–উৎসবের এক অনন্য বার্তা পৌঁছে দিয়ে আসছে।

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা সেই দিন কখন যে শেষের দিকে গড়িয়ে এসেছিল, টেরই পাইনি। রাত প্রায় নয়টায় উৎসব প্রাঙ্গণের একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ শেষ করে আমরা হেলেনবাডের উদ্দেশে রওনা দিলাম। মানুষের ঢল তখনো কমেনি। চারদিকে আলোর ঝলকানি, সুরের মূর্ছনা আর উৎসবমুখর মানুষের হাসি ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চললাম।

ছোট্ট রূপকথা তখন ক্লান্তিতে স্ট্রলারে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। শহরের আলোকিত পথ ধরে গাড়ি এগিয়ে চললো নীরব রাতের বুকে। অনিত গাড়ি চালাচ্ছিল আর আমি জানালার বাইরে স্টুটগার্টের আলোকিত রাজপথের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে ছিলাম। শহরের আলো একে একে দূরে হারিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ক্যানস্টাটার ফোকসফেস্টের সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো হৃদয়ের গভীরে বারবার দোলা দিতে লাগল।

*৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিয়ারফেস্টে আমার ভ্রমণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা