টুবিঙ্গেন–অস্টার্বার্গে এক শান্ত সকালের অনন্য স্মৃতি

ছবি: লেখকের পাঠানো

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, জার্মানির স্টুটগার্টে এসেছি মাত্র ১০ দিন আগে। এরই মধ্যে প্রতিটি সকাল যেন নতুন কোনো অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলে দিচ্ছিল। প্রতিদিনই মনে হচ্ছিল, এই দেশটি তার সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও জীবনযাত্রার নতুন নতুন দিক আমাদের সামনে উন্মোচিত করছে। তবে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫–এর সকালটি ছিল একটু ভিন্ন। সেদিনের শুরুটা কোনো দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা বা নতুন শহর আবিষ্কারের আনন্দ দিয়ে নয়; বরং আমাদের সবার আদরের নাতনি রূপকথার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

সেদিন ছিল আমাদের ৮৭ দিনের নাতনি রূপকথার পূর্বনির্ধারিত এক ডোজ টিকা নেওয়ার দিন। সকালেই অনিত বোবলিঙ্গেনের হেলেনবাড থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে আমাদের নিয়ে রওনা দিল টুবিঙ্গেনের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল টুবিঙ্গেন–ইউনিভার্সিটি চিলড্রেনস হসপিটাল (ডিপার্টমেন্ট অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেডিসিন), জার্মানির অন্যতম সেরা এই শিশু ও কিশোর চিকিৎসাকেন্দ্রটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা, গবেষণা ও বিশেষায়িত শিশু স্বাস্থ্যসেবার জন্য সুপরিচিত। অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়কপথ ধরে গাড়িটি মসৃণ গতিতে এগিয়ে চলছিল। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ, ফুলে সাজানো বাড়ির আঙিনা আর নিখুঁত নকশায় গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ছবির ভেতর দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। শহরের কোলাহল নেই; বরং নীরবতা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অসাধারণ সহাবস্থান আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে মুগ্ধ করে দিচ্ছিল।

টুবিঙ্গেন মেডিসিন সেন্টারে পৌঁছে অনিত আমাদের নামিয়ে দিয়ে ফিরে গেল তার অফিসের উদ্দেশে। মেডিসিন সেন্টারে রূপকথাকে নিয়ে তার মা আনিকাকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক রূপকথাকে পরীক্ষা করলেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই তার টিকা দেওয়া হলো। সুচের স্পর্শে ছোট্ট মুখটি মুহূর্তের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লেও মায়ের স্নেহমাখা স্পর্শ আর নানির আদরে সেই কান্না বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার আগের মতোই কৌতূহলী চোখে চারপাশ দেখতে শুরু করল। জার্মান স্বাস্থ্যব্যবস্থার শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠতা ও রোগীদের প্রতি আন্তরিক আচরণ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল।

টুবিঙ্গেন জার্মানির দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের বাডেন–ভ্যুর্টেমবার্গ অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর। এটি স্টুটগার্ট শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত। টুবিঙ্গেনের ইতিহাস প্রায় ৮০০ বছরের বেশি পুরোনো। মধ্যযুগে এটি একটি দুর্গনগরী হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৫২৫ সালে জার্মান কৃষক বিদ্রোহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ এখানেই সংঘটিত হয়। স্টুটগার্ট থেকে এস–বান ট্রেনে মাত্র ২০–২৫ মিনিটেই টুবিঙ্গেনে পৌঁছানো যায়। উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগের কারণে এটি বসবাস ও ভ্রমণ—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত সুবিধাজনক।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]

মেডিসিন সেন্টার থেকে বেরিয়ে আনিকা টুবিঙ্গেন শহরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ঘুরে দেখানোর সিদ্ধান্ত নিল। আনিকা আমাদের শহরের এবারহার্ড কার্লস বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে গেল। টুবিঙ্গেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এবারহার্ড কার্লস বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ শুধু জার্মানির নয়, সমগ্র ইউরোপের জ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখান থেকে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও সাহিত্যিক, যাঁদের চিন্তা ও আবিষ্কার বিশ্বসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রাচীন ভবন, পাথরে বাঁধানো প্রাঙ্গণ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেন ইতিহাস ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সেতুবন্ধ রচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, জ্ঞানের এই আলো যুগের পর যুগ ধরে মানবসভ্যতার পথ আলোকিত করে চলেছে। প্রশস্ত ক্যাম্পাস, আধুনিক শিক্ষা ভবন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পুরো এলাকাকে আলাদা এক আবহ দিয়েছিল। চারদিকে তরুণ–তরুণীদের ব্যস্ত পদচারণ, কেউ বই হাতে, কেউ গবেষণাগারে, কেউ আবার খোলা প্রাঙ্গণে বসে আলোচনায় মগ্ন। জ্ঞানচর্চাকে যে একটি জাতি কতটা গুরুত্ব দিতে পারে, তার বাস্তব প্রতিচ্ছবি যেন চোখের সামনে ফুটে উঠল।

ছবি: লেখকের পাঠানো

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আমরা ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে রূপকথাকে স্ট্রলারে ঢেকে আবার হাঁটতে হাঁটতে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছালাম। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নেকার নদীর তীরে একটি মনোরম রেস্তোরাঁ। বৃষ্টির কারণে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিলাম এবং দুপুরের খাবার খেলাম। রেস্তোরাঁর দোতলার খোলা বারান্দা থেকে ছোট্ট নদীর স্বচ্ছ জলরাশি দেখা যাচ্ছিল, স্রোতের মধ্যে ছোট ছোট হাঁস ভেসে যাচ্ছিল নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে। নদীর দুই পারে সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে শিশুরা খেলছিল, কেউ হাঁটছিল, কেউ সাইকেল চালাচ্ছিল। এমন শান্ত পরিবেশে বসে খাবারের প্রতিটি স্বাদ যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি নিজেই যেন আমাদের মধ্যাহ্নভোজকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগের শরৎ তখন প্রকৃতিকে নতুন রঙে সাজাতে শুরু করেছে। বাতাসে হালকা শীতল বাতাস, কখনো বৃষ্টি, আবার কখনো নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ আর গাছের পাতায় হলুদ, কমলা ও লালচে রঙের অপূর্ব মিশেল শহরটিকে এক অনন্য সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছিল।

পরিচ্ছন্ন রাস্তা, ফুলে সাজানো ফুটপাত, সাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং মানুষের নিয়ন্ত্রিত চলাচল দেখে মনে হলো কত সভ্যতা এই শহরের মানুষের মধ্যে, কেবল উন্নত প্রযুক্তির মধ্যে নয়; বরং মানুষের জীবনযাপনের সংস্কৃতিতেও লুকিয়ে আছে। শহরের ছোট ছোট ক্যাফে, বেকারি আর দোকানগুলোর সামনে বসে মানুষ নির্ভার মনে কফি পান করছেন, গল্প করছেন, কেউবা বই পড়ছেন। কোথাও অযথা শব্দ নেই, নেই কোনো বিশৃঙ্খলা।

আরও পড়ুন

রেস্তোরাঁয় কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার পাহাড়ের উঁচু–নিচু পথে হেঁটে প্রবেশ করলাম টুবিঙ্গেনের ওল্ড সিটি এলাকায়। জার্মানির অন্যতম সুন্দর ও সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় নগরকেন্দ্র। নেকার নদীর তীরে অবস্থিত এই পুরোনো শহরটি যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত জাদুঘর। এখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়েছিল, কয়েক শতাব্দী আগের জার্মানিতে ফিরে গেছি।

ছোট ছোট সরু পথের গলি, রঙিন অর্ধ কাঠের বাড়ি, লাল টালির ছাদ, ছোট ছোট ক্যাফে, প্রাচীন গির্জা ও ঐতিহাসিক চত্বর—সব মিলিয়ে টুবিঙ্গেনের ওল্ড সিটি এক অনন্য সৌন্দর্যের আধার। শহরের কেন্দ্রস্থল মার্কটপ্লাৎসে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫ শতকের টাউন হল (Rathaus) তার অলংকৃত ঘড়ি ও রঙিন সম্মুখভাগের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

টুবিঙ্গেনের ওল্ড সিটি আজও তার মধ্যযুগীয় রূপ অনেকটাই ধরে রেখেছে। তবে এটি কোনো রাজপরিবারের অধীনে নয়; নির্বাচিত পৌর প্রশাসন অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ঐতিহাসিক ভবন, পাথরের রাস্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে চলেছে। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শত শত বছরের ইতিহাসের এমন সুষম সমন্বয়ই টুবিঙ্গেনকে জার্মানির অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক শহরে পরিণত করেছে।

ছবি: লেখকের পাঠানো

শহরের নেকার নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত হোল্ডারলিন টাওয়ার, যেখানে জার্মান কবি ফ্রিডরিখ হোল্ডারলিন জীবনের শেষ ৩৬ বছর কাটিয়েছিলেন। এটি আজও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন। নদীতে কাঠের নৌকা ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য শহরের সৌন্দর্যে অন্য রকম প্রাণ যোগ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে টুবিঙ্গেনের পুরোনো শহরটি তুলনামূলকভাবে রক্ষা পাওয়ায় শত শত বছরের স্থাপত্য আজও অক্ষত রয়েছে। তাই ইউরোপের মধ্যযুগীয় নগরজীবনের আসল স্বাদ পেতে টুবিঙ্গেনের ওল্ড সিটি একটি আদর্শ গন্তব্য।

ভ্রমণকারীদের চোখে টুবিঙ্গেনের ওল্ড সিটি কেবল একটি ঐতিহাসিক এলাকা নয়; এটি যেন ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলা। প্রতিটি গলি, প্রতিটি জানালা আর প্রতিটি পুরোনো ভবন নীরবে অতীতের গল্প শোনায়, আর সেই গল্পের আবেশে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে বারবার।

পাথর বসানো সরু রাস্তা, কাঠ ও পাথরের তৈরি শতবর্ষী বাড়ি, পুরোনো গির্জার সুউচ্চ চূড়া, ছোট ছোট চত্বর এবং ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলো যেন মধ্যযুগের ইউরোপের এক জীবন্ত অধ্যায়। মনে হচ্ছিল, সময় এখানে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। ক্যাফেগুলো থেকে ভেসে আসছিল সদ্য বেক করা রুটি আর কফির মনমাতানো সুবাস। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের পদচারণে মুখর হলেও কোথাও কোনো কৃত্রিমতা ছিল না; সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক, শান্ত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত।

আরও পড়ুন

দিন গড়িয়ে বিকেল হয়ে এল। শরতের সোনালি আলো ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করেছে। আমরা শহর ঘুরে দেখার আনন্দময় স্মৃতি বুকে নিয়ে বাসে রেলস্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিলাম। পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে ট্রেনে বোবলিঙ্গেন ফিরে যাওয়ার। কিন্তু স্টেশনে পৌঁছে জানতে পারলাম, কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আমাদের পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেল।

অপরিচিত শহরে এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই আমার কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছিল, কিন্তু আনিকার মধ্যে দুশ্চিন্তার লেশমাত্র ছিল না। ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে আনিকা মায়ের আদর দিয়ে স্ট্রলারে ঘুমন্ত রূপকথার পাশে দাঁড়িয়েছিল। রেলস্টেশনে আরও কয়েকজন যাত্রী একই সমস্যায় পড়েছেন। কেউ মুঠোফোনে বিকল্প পথ খুঁজছেন, কেউ তথ্যকেন্দ্রে খোঁজ নিচ্ছেন। আমরাও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রায় এক ঘণ্টা স্টেশনে বসে কাটালাম। আশ্চর্যের বিষয়, এত মানুষের ভিড়েও কোথাও কোনো হইচই বা বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই শান্তভাবে অপেক্ষা করছেন। সেই দৃশ্য আবারও জার্মানদের শৃঙ্খলাবোধের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিল।

ছবি: লেখকের পাঠানো

অবশেষে বিকল্প বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করা হলো। বাসে উঠে আমরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। জানালার বাইরে তখন সন্ধ্যার অন্ধকার ধীরে ধীরে নেমে এসেছে। শহরের আলোগুলো একে একে জ্বলে উঠেছে, আর সেই আলোয় টুবিঙ্গেনকে যেন আরও স্বপ্নময় লাগছিল। দিনের সব ক্লান্তি, সাময়িক অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার মুহূর্তগুলো পেছনে ফেলে আমরা নিরাপদে বোবলিঙ্গেন ও স্টুটগার্ট ফিরে এলাম। এরপরে ট্রামে আমরা আমাদের বাসার কাছাকাছি হেলেনবাড পৌঁছালাম, সেখানে অনিত গাড়ি নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

দিনটি শুরু হয়েছিল নাতনি রূপকথার টিকাদান দিয়ে, আর শেষ হলো এক অপ্রত্যাশিত ভ্রমণ–অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। কখনো হাসপাতালের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, কখনো নদীর ধারে মধ্যাহ্নভোজ, কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণচাঞ্চল্য, কখনো ইতিহাসঘেরা পুরোনো শহরের নীরব সৌন্দর্য, আবার কখনো রেলস্টেশনে অনিশ্চয়তার এক ঘণ্টা—সব মিলিয়ে টুবিঙ্গেনে কাটানো সেই দিন আমাদের ভ্রমণের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে রইল।

আজও স্মৃতির পাতায় ফিরে তাকালে মনে হয়, একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে চিনতে হলে শুধু তার দর্শনীয় স্থান নয়, দৈনন্দিন জীবন, মানুষ, শৃঙ্খলা ও অপ্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোকে অনুভব করতে হয়। টুবিঙ্গেন আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছিল।