আমার বসবাস কানাডার সাসকাচুয়ান প্রভিনসের ছোট্ট শহরে সাসকাটুনে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শহরে রোজার আমেজ শুরু হয়ে গেছে। এবার আমরা খুব ভাগ্যবান, আমাদের রোজা পড়েছে উইন্টারে। ছোট দিন, তৃষ্ণা লাগে না। আলহামদুলিল্লাহ ১৩ ঘণ্টা রোজা রেখে শান্তি পাচ্ছি।
এখানে রোজার আগে সুপারশপ, এশিয়ান শপগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় থাকে, যা সত্যি প্রশংসনীয়।
রোজার মাসে এখানে স্কুল, অফিস সবকিছু খোলা থাকে। ঈদের সময় ছুটির আবেদন করে ছুটি নিতে হয়। অনেক সময় ছুটি পাওয়াটা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এখানে রোজদার মুসলমানেরা রোজা রেখে অফিস, বাসার কাজ সবকিছু একা করেন।
কানাডার সাসকাটুনে শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইফতারি দেওয়া হয় মসজিদে। অনলাইনে একটা ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় এ জন্য শিক্ষার্থীদের।
যদি স্নোফল হয়, তাহলে তখন স্নো ক্লিন করতে হয়, আর যদি টেম্পারেচার -২০ থেকে -৪০ হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। ওই দিন ভীষণ কষ্টের দিন। স্নো শাবল না করলে সিটি করপোরেশন ফাইন করে টিকিট দিতে পারে। সামার হলে ফ্রন্ট আর ব্যাক ইয়ারডের ঘাসগুলো ট্রিম করতে হয়। ঘাস না কাটলে সিটি করপোরেশন এসে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে দেয়। আবার সবার ডিউটির সময়সূচি একই রকম নয়। বেশির ভাগ সময়েই অনেক মানুষের পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে সাহ্রি বা ইফতার করা হয়ে ওঠে না।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
খানে ইফতারের দাওয়াতগুলো সাধারণত উইকেনডে হয়ে থাকে। হরেক রকম আয়োজন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো এখানেও জনপ্রিয় ইফতারের দুটো আইটেম হচ্ছে, গরম হালিম আর সুস্বাদু জিলাপি।
সাসকাটুনের ইফতারের দুটো ব্যাপার আমার খুব ভালো লাগে। বেশির ভাগ মানুষ কারও বাসায় ইফতারি পাঠানোর এক দিন আগে জানিয়ে দেন। বলে দেন, ‘আগামীকাল আপনি রেস্ট নেবেন। ইফতার বানাবেন না। আমি কাল আপনাদের জন্য ইফতারি পাঠাব।’এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইফতারি আদান–প্রদান করা হয়। এখানে ইফতারি পাঠানো হয় ফয়েলের বড় বক্সে। এতে করে একটু আরাম করার ফুরসত মেলে।
কয়েক বছর আগে মসজিদ কমিটি থেকে মসজিদের সব মুসল্লির জন্য ফ্রি ইফতারের আয়োজন করা হতো। পুরুষ ও নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা ছিল। তখন ইফতারে একটা উৎসবের আমেজ থাকত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠত ইফতারের টেবিলে। কিন্তু এই কয়েক বছর প্রচুর মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে। তাই মসজিদ কমিটির লিমিটেড ফান্ডের ব্যাপারটা মাথায় রেখে ইফতারের ব্যাপারটা সীমিত করেছে।
এখন শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইফতারি দেওয়া হয়। অনলাইনে একটা ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় এ জন্য শিক্ষার্থীদের।
এখানকার হালাল রেস্তোরাঁগুলো উইকেনডে বুফে ইফতারের আয়োজন করে। ব্যক্তিপ্রতি ২০ কানাডিয়ান ডলার করে। উইকেনডেতে রেস্তোরাঁগুলো অনেক জমজমাট থাকে।
এখানে চার–পাঁচটা মসজিদ আছে। মসজিদে তারাবিহ পড়ার ব্যবস্থা আছে। ফিল্ড হাউস নামে বড় একটা হল আছে, ওখানে খতমে তারাবিহ পড়ানো হয়।
রোজার মাসে শিশুদের একটু বেশি কষ্ট হয়। কারণ, স্কুল খোলা থাকে। ফুলটাইম অফিস করে আমাদেরও ক্লান্তি ছুঁয়ে যায়। আবহাওয়া বৈরী অবস্থা, ফুলটাইম স্কুল, অফিস করেও বাসায় ফিরে আমাদের বাংলাদেশি আমেজে শুরু করি ইফতারের আয়োজন। ইফতার পর সবার চোখে–মুখে তৃপ্তির ঢেকুর উঠে তা দেখেই মনে এক প্রশান্তি লাগে।
প্রার্থনা রইল, সবার রোজা সুন্দর কাটুক। ঈদ আসুক অনাবিল আনন্দে। শান্তি বিরাজ করুক পৃথিবীর প্রতিটি কোনায়।
লেখক: তামান্না মহুয়া, প্রোগ্রাম এক্সেস কো–অর্ডিনেটর, সাসকাচুয়ান হেলথ রিজিয়ন, সাসকাটুন, কানাডা।
রেস্টুরেন্টে স্পেস পাওয়ার জন্য আসরের একটু পরে রেস্টুরেন্টে যেতে হয় ইফতারের স্পেশাল অফার পেতে ।