১২ দিনে দেখা বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, দুর্যোগেও জীবনের হাতছানি-৪

ছবি: লেখক

১১.

প্রায় দুই দিন পর ভরপেট খাওয়াদাওয়া করে মাথা এখন অনেকটাই ঠান্ডা। মহিপালের মোড়েই বেশ কয়েকটা হোটেল দেখতে পাচ্ছি আজ। আগেও হয়তো খোলাই ছিল, তবে ব্যস্ততার কারণে লক্ষ করিনি। যা–ই হোক, খাওয়া-দাওয়া শেষে আমি আর আব্দুল্লাহ মহিপাল মোড়ের ঠিক মাঝ বরাবর ফ্লাইওভারের নিচে এসে দাঁড়ালাম। এ জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক তুলনামূলক ভালো। এবার ঠান্ডা মাথায় কল লাগালাম গতকালকে পরিচিত হওয়া সেই টিমের এক সেচ্ছাসেবককে, তবে ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও পেলাম না। এতক্ষণে ওরা খুব সম্ভবত অপারেশনে চলে গেছে। প্লাবিত এলাকায় নেটওয়ার্ক নেই বললেই চলে। তাই, অপারেশনে থাকলে ওদের আপাতত ফোনে পাওয়ার সম্ভবনাও নেই। তাছাড়া যায় জন্য যোগাযোগের চেষ্টা, সেই আকিবকেও তো দেখতে পাচ্ছি না সকাল থেকে। ওকেও ফোনে পাচ্ছি না। তাই আপাতত আশেপাশের দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কি করা যায়, বুঝতে পারছিলাম না। চারিদিকে শুধু মানুষ, যে যার মত ছুটছে! বাতাস এখানে হাহাকারের গন্ধে ভারী এলেও দৃশ্যখানা দেখার মতো—কেউ কাঁদছে, কেউ হন্তদন্ত হয়ে খুজছে আবার আমাদের মতো কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে। বড় বড় ট্রাকে করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী আর সিভিলিয়ানদের নৌকা আসছে, সঙ্গে রিলিফ! কয়েকটা গাড়িতে দেখলাম, কাফনে মোড়ানো লাশ—সব উপাদানই আছে এই এক ফ্রেমে।

এ সময় আমি আর আব্দুল্লাহ, দুজনেই লাইফ জ্যাকেট পরা ছিলাম। তাই, আমরা যে উদ্ধারকারী দলের, তা বোঝা যাচ্ছিল। রাস্তার ওপার থেকে কয়েকজনকে দেখলাম হন্তদন্ত হয়ে এ গিয়ে আসছে। বেশভূষায় মনে হলো স্থানীয় মানুষ। হয়তো শহরে কাজটাজ করেন। রোদে পোড়া রূক্ষ চেহারা, গাল ঢুকে গেছে কোঠরে, মুখে খোঁচাখোঁচা দাড়ি। প্রত্যেকের চেহারায় ব্যাপক দুশ্চিন্তার ছাপ। এসেই কাচুমাচু হয়ে সালাম দিল। এরপর জানতে চাইল, আমরা কী ঢাকা থেকে এসেছি? আমাদের কাছে কি ত্রান আর ইঞ্জিন নৌকা আছে?

বুঝতে পারছি কি ব্যাপার, তবুও জিজ্ঞেস করলাম, ইঞ্জিন নৌকা দিয়ে কী হবে?

যা বলল, এতে আমার ধারনাই সত্যি হলো, তারা পরিবারের খোঁজ পাচ্ছে না, আকিবের মতো অবস্থা আর কি! তাই জানতে চাইছে স্পিডবোট আছে কি না। থাকলে আমরা কি একবার গিয়ে ত্রাণ দিয়ে আসতে পারব কি না, বা অন্তত একবার খোঁজ নিয়ে আসতে পারলেও হয়!

যদিও কোনো বোটের সন্ধান তখনো পাইনি। তবুও কাগজে তাদের নাম–ঠিকানা আর ফোন নাম্বার টুকে রাখলাম। তবে তারা ঠিকানা যেভাবে দিচ্ছিল, সেভাবে আমাদের পক্ষে খুজে বের করা খুবই কঠিন ব্যাপার। যেমন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোন এক মোড় থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ‘ক’ বাজার। সেই বাজারের দক্ষিণে দুই কিলোমিটার দূরে ‘খ’ মসজিদ। মসজিদ থেকে পূর্বদিকে পাঁচ মিনিট হাঁটলে মিয়াবাড়ি। মিয়াবাড়ির পুকুরঘাটের উল্টাদিকে করিম সাহেবের বাড়ি, ওখানেই তার পরিবার আটকে আছে।

আরও পড়ুন

প্রথমত, পুরো এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা ১২-১৪ ফিট। তাছাড়া, আমরা ওখানাকার স্থানীয় কেউ না। বোট যদি একটা পেয়েও যাই এমন জটিল সব ঠিকানায় আমরা কি করে পৌঁছাব, আমি জানি না! এরই ভেতর কয়েকজন আমাদের হাত ধরে কান্নাকাটি শুরু করল। তাই উপায়ন্তর না দেখে, তাদের আশা আমরা আর ভঙ্গ করলাম না। প্রাক্টিক্যালি পারি আর না পারি, মুখে অন্তত বললাম, আমরা খোঁজ নেব তাদের পরিবারের, ত্রাণও দিয়ে আসব আর ফিরে এসে ফোন করে জানাব তাদের। এই ঘটনা লিখতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা গল্প মনে পড়ল আমার।

নাৎসি অধ্যুষিত ফ্রান্সের কোনো এক গ্রামে ছোট্ট এক বালক ছিল। খুব দুরন্ত, হাসিখুশি আর দুষ্টু স্বভবের। তবে নাৎসি বাহিনী আশার পর থেকে সেই গ্রামের কেউ যে আর হাসে না, সবাই সারাক্ষণ মুখ গোমড়া করে রাখে, এ ব্যাপারটা একদিন লক্ষ্য করে সে। কি করে সবার মুখে একটু হাসি ফোটানো যায়, এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে মাথায় একটা বুদ্ধি আসে তার! জার্মানরা সে গ্রামের কাউকেই রেডিও–টেলিভিশন এসব ব্যাবহার করতে দিত না, যাতে বাইরের খবর কেউ না পায়। সেই সুযোগটাই ও কাজে লাগায়। একদিন গ্রামেরই কয়েকজনকে খুব গোপনীয় ভাবে একটা খবর দেয় সে। চুপি চুপি তাদের কাছে গিয়ে কানের ভেতর ফিসফিসিয়ে বলে, তার বাড়িতে বেজমেন্টের নিচে একটা রেডিও লুকানো আছে। সেই রেডিওতে সে বলতে শুনেছে, ব্রিটেন-আমেরিকার যৌথবাহিনী দুই সপ্তাহের ভেতরেই ফ্রান্সে প্রবেশ করবে। খবরটা শোনার পর, নিমিষেই পালটে যায় তাদের অভিব্যক্তি! খুব দ্রুত এ খবর জেনে যায় গ্রামের প্রত্যেকে। সবার মুখেই হাসি ফিরে আসতে শুরু করে আবার। তবে তারা নাৎসি বাহিনীকে দেখলেই হাসিখুশি ভাবখানা লুকিয়ে ফেলত। নাৎসি বাহিনী লক্ষ করে ব্যাপারটা। এরপর, অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনা জানতে পারলে, আটক করা হয় সেই বালককে। তবে তার বাড়ির বেজমেন্টে অভিযান চালিয়ে রেডিও–ট্রান্সমিটার কিছুই পায় না তারা। অর্থাৎ পুরোটাই একটা গল্প ছিল। এরপর গ্রামের সবাইকে তলব করে জার্মান বাহিনী! গ্রামের পাশেই একটা খোলা মাঠে এসে জড়ো হয়ে দাঁড়ায় গ্রামবাসী।

গ্রামের এক মাঝবয়েসী ভদ্রলোক আসলেন ছেলেকে নিয়ে। ২০-২২ বছর বয়স হবে ছেলেটার। বা পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত পাঁচ-ছয় জায়গায় রশি দিয়ে বাঁধা। পানির ভেতর সাপে কেটেছে, তা–ও প্রায় ঘণ্টা চারেক আগে, তবে কী সাপ তা বলতে পারল না। আশার কথা, ছেলেটার সেন্স ছিল তখনো, তবে তার হাত–পা কাঁপছে। চেহারায় তীব্র ভয়ের ছাপ।

এরপর নাৎসি বাহিনীর এক সেনা মাইক তুলে দেয় সেই বালকের হাতে। তাকে সত্যিটা বলতে বলে। তারা বলে যে সত্যি কথাটা এখন সবার সামনে না বললে তাকে মেরে ফেলা হবে। সেই ছোট্ট বালক যখন মাইক হাতে নিয়ে সবার চোখের দিকে তাকায়, সে দেখতে পায় তীব্র আশঙ্কা ও ক্ষীণ আশার এক মিশ্র চাহনি। যদি এখন সত্যটা বলে দেয়, তাহলে সবার মুখ যে আবারও মলিন হয়ে যাবে এ ব্যাপারটা ও বুঝতে পারে। তাই, মাইক হাতে নিয়ে এবার সে বুক ফুলিয়ে সেই কথাটাই বলে, যা আগে চুপি চুপি বলত। তৎক্ষনাৎ বুলেটের গুলিতে ঝাঁজড়া হয়ে যায় তার দেহ। তবে কালতালীয়ভাবে দুই সপ্তাহের ভেতরেই ব্রিটেন-আমেরিকার যৌথ বাহিনী প্রবেশ করে ফ্রান্সের ভূমিতে আর মুক্ত করে সেই গ্রামকে।

গল্পটা আমি পড়েছি! কল্পকাহিনী না বাস্তব, তা আমি বলতে পারব না। তবে আমার এই গল্পে সেদিন আমিও কিছুটা ঐ বালকের মতই ভূমিকা নিয়েছিলাম।

১২.

মূল ঘটনায় ফেরত আশা যাক, তাদের বুঝিয়ে বিদায় দিতে না দিতেই দেখলাম, বাচ্চা হাতির মতো ছোট্ট একটা পিক আপে করে আমাদের মেডিকেল টিম রওনা দিয়েছে। রাস্তার মোড়েই দেখা হলো ওদের সাথে। মেডিকেলের স্টুডেন্ট পাখি আর ওর সাথে পাঁচ-ছয়জন সেচ্ছাসেবকের। আজকে ওদের প্ল্যান ওরা মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রাম বরাবর এগোবে। ওরা খবর পেয়েছে, ওই দিকে পানির উচ্চতা কমছে, যদিও লালপুল সেতুর পর বেশ কয়েক কিলো রাস্তা তখনো পানির নিচে, তবে গতকাল যেখানে পাঁচ ফিটের মতো পানি ছিল, আজকে সেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন ফিট। ওরা শুনেছে, সড়কের প্লাবিত অংশ পার হলে লালপুল ওভার ব্রিজের দেখা মিলবে, আর এর সঙ্গেই আছে একটা পেট্রল পাম্প, যেটা এই এলাকার সবচেয়ে উঁচু জায়গা। বন্যায় পুরো ফেনি শহর ডুবে গেলেও ঐ পাম্প নাকি এখন পর্যন্ত একবারও ডোবেনি। আজকে ওখানেই অস্থায়ী ক্যাম্প বসাবে ওরা!

ছবি: লেখকের পাঠানো

পরিকল্পনা পছন্দ হলো। আজকের দিন এই কাজে ব্যয় করলে মন্দ হয় না। সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আর আব্দুল্লাহও ওদের সঙ্গে যোগ দেব। আর কথা না বলে লাফিয়ে উঠলাম পিছনের খোলা অংশে। এরপর চলতে শুরু করল আমাদের বাচ্চা হাতি। মহিপাল মোড় পার হয়ে দেখলাম চার লেনের সড়কের বাঁ দিকের দুই লেন প্রায় বন্ধ বললেই চলে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমূখী সারি সারি ট্রাক গত কয়েক দিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এখানেই। রাস্তার ওপর দিয়ে পানি বইছে বা দিক থেকে ডানদিক বরাবর। অর্থাৎ ভারতের দিক থেকে আসা পানি সাগরের দিকে যাচ্ছে। তবে সড়কের মাঝখানে উঁচু ডিভাইডার থাকায় ডান দিকের দুই লেনে পানির চাপ তুলনামূলক কম। তাই এ দিক দিয়ে একটু একটু করে গাড়ি চলছে আজকে। গতকাল অবশ্য এ দিকটাও বন্ধ ছিল। কারণ, পানির যে উচ্চতা ছিল, এতে কোন গাড়িই চলা সম্ভব ছিল না। যাই হোক, এই পানির ভেতরেই গাড়ি মাঝেমধ্যে আটকে যেত। তখন আমি আর আব্দুল্লাহ নামতাম পানিতে। কি যে শীতল সেই পানি!

আরও পড়ুন

ঘণ্টাখানেক এভাবে চলার পর লালাপুল ওভার ব্রিজ পার করে সেই পাম্পে এসে পৌঁছালাম। দেখতে পেলাম পাম্পের পর ওপাশের রাস্তাও পানির নিচে, তবে কথা সত্য, পাম্পটা আসলেই ডোবেনি। এমন সময় মনে হলো, দূর থেকে একটা গুমগুম আওয়াজ ভেসে আসছে, মুহূর্তের ভেতরেই প্রকট রূপ ধারণ করল সেই আওয়াজ। আকাশের দিকে মাথা তুলতেই দেখলাম, রাশিয়ান রূপকথার সেই জার পিতিতছা বা আগুন পাখি ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে একেবারে মাথার ওপর দিয়ে। আগুন পাখিটা একটু দূরে গিয়ে আকাশের বুকে স্থির হয়ে দাড়াল কিছুক্ষণের জন্য। এ সময় তার ডানা মেলার কম্পনে যেন মৃদূ ভূমিকম্পের মতো করে কাঁপতে শুরু আশেপাশের সবকিছু। আমার হৃৎপিণ্ডের ভেতরেও অনুভব করলাম সেই কম্পন। রাশিয়ার তৈরি বিশালাকারের এই দানব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যাবহার করে থাকে। এটি প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ধার কাজ ছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। এম আই সেভেনটিন হেলিকপ্টার এর আগেও দেখেছি বহুবার। তবে এভাবে এত কাছ থেকে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়নি কখনো।

এই দানব উড়ে যেতে না যেতেই আরেকটা ফিনিক্স পাকি উড়ে আসতে শুরু করল এদিকে। দূর থেকে দেখে মনে হলো, বিমান বাহিনীর এইচ ওয়ান সিক্সটি হেলিকপ্টার। তবে ঐ দানবের মতো অত কাছে এল না। বেশ খানিকটা দূরে স্থির হয়ে দাঁড়াতেই হেলিকপ্টারের ভেতর থেকে একজন প্যারাট্রুপার রশি বেয়ে নেমে আসল নিচে। নামল একটা বিল্ডিংয়ের ছাদের ওপর। সেখান থেকে একজনকে প্যারাট্রুপারের মতো করেই রশির সঙ্গে বেঁধে ওপরে তুলে নেয়া হল। ওপরে হেলিকপ্টারের ভেতর উদ্ধারিত ব্যক্তি আর প্যারাট্রুপার ঢুকতেই উড়তে উড়তে দূর আকাশে মিলিয়ে গেল সেই ফিনিক্স পাখি। এবারে বুঝলাম, ব্যাপারটা। এদিকটা কিছুটা উঁচু হওয়ায় বহু লোক আশ্রয় নিয়েছে আশেপাশের ভবনগুলোতে। এদের ভেতর যাঁরা গুরুতর আসুস্থ, তাঁদের হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ইউনিফর্মড বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের মত সিভিলিয়ানদের বহু টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পরিস্থিত সামাল দেয়া যাচ্ছিল না। তবুও এ দুঃসময়ে সবাই সবার জায়গা থেকে চেষ্টাটা অন্তত চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা।

১৩.

যা–ই হোক, আমাদের এখানে আশার উদ্দেশ্য অসুস্থ ব্যাক্তিদের ত্রাণসাহায্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া। তাই আর দেরি না করে কাজ শুরু করলাম। যারা সাহায্যের জন্য আসছে তাদের অধিকাংশেরই হাত পা কাটা, শ্বাসকষ্ট, স্কিন ইনফেকশন আর পেট খারাপের সমস্যা। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেওয়া তুলনামূলক সহজ। তবে এর বাইরেও নানাবিধ জটিলতা নিয়ে মানুষ আসছিল আমাদের কাছে। যেমন: গ্রামের এক মাঝবয়েসী ভদ্রলোক আসলেন ছেলেকে নিয়ে। ২০-২২ বছর বয়স হবে ছেলেটার। বাঁ পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত পাঁচ-ছয় জায়গায় রশি দিয়ে বাধা। পানির ভেতর সাপে কেটেছে, তা–ও প্রায় ঘণ্টা চারেক আগে, তবে কি সাপ তা বলতে পারল না। আশার কথা ছেলেটার সেন্স ছিল তখনো, তবে তার হাত–পা কাঁপছে। চেহারায় তীব্র ভয়ের ছাপ।

ছবি: লেখকের পাঠানো

অবস্থা বুঝে কয়েকটা প্রশ্ন করলাম ওকে! যেমন বমি বমি পাচ্ছে কিনা? মাথা ঘুরাচ্ছে কিনা? বুকের ভেতর চাপ দিয়ে ব্যথা করছে কিনা? ইত্যাদি!

আরও পড়ুন

এগুলো বিষধর সাপে কাটার লক্ষণ হলেও ওর ক্ষেত্রে তার কোনোটাই লক্ষনীয় নয়। কেউটে সাপে কাটলে এতক্ষণে সেন্স থাকারই কথা না। তবে কোনও একটা জার্নালে পড়েছিলাম: বাংলাদেশে প্রতিবছর যত লোক সাপে কাটায় মারা যায়, এর অধিকাংশ সাপের বিষে নয়, বরং ভয়ের কারণে হার্ট অ্যটাকে মারা যায়। তাই, এখন প্রাথমিক কাজ ওর ভীতি কমানো। ওকে আর ওর বাবাকে সবকিছু বুঝিয়ে বললে, ভীতি কিছুটা কমল বলেই মনে হল। তবুও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টিভেনম দিয়ে রাখা ভালো! দুঃখজনকভাবে আমাদের কাছে তা ছিল না। তাই চিকিৎসা দিতে না পারলেও ওকে শহরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম।

এরপর আরেক ভদ্রলোক এলেন মেয়ে আর নাতিকে নিয়ে। মায়ের কোলে সাত মাসের ছোট বাচ্চা। পানির ভেতর দীর্ঘ পথ হেটে এখানে এসেছে। এখন মা আর বাচ্চা উভয়ই অসুস্থ। বলছিল তাদের কোন এক আত্মীয় চট্টগ্রাম আছে। আমরা কি কোনভাবে তাদের চট্টগ্রাম পৌছে দিতে পারি কি না?

হাইওয়েতে বেশ খানিকক্ষণ চেষ্টা করেও তাদের পৌঁছে দেয়ার মতো কোন যানবাহন পেলাম না। এদিকে রাত গভীর হচ্ছে। আমাদেরকেও ফেরত যেতে হবে।

আনুমানিক ১০টা নাগাদ, ক্যাম্প ক্লোজ করলাম। আমাদের সেই বাচ্চা হাতিটাও অসুস্থ হয়ে পড়েছে, এতক্ষণ ওর পিঠের ওপর বসেই ক্যাম্প চালিয়েছি, তবে আমাদেরকে পুর টিম কাঁধে নিয়ে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থায়ও আর নেই। গিয়ার বক্সে সমস্যা। এদিকে চালক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যেতে চায়। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেল। চালকের সঙ্গে আলাপ করে মা-বাচ্চা আর নানাকে তুলে দিলাম ট্রাকে। চলবে....