হজ ২০২৬: আত্মশুদ্ধির পথে অনন্য যাত্রা, বিহাইন্ড দ্য সিনস: মক্কা পর্ব-৩

মিনায় আমাদের তাবুর বাইরের রাস্তা

আরবের লোকেরা মনে হয় বাংলাদেশের মানুষদের মিসকিন মনে করে। মিনার তাঁবু বাসের সময় সেটাই আমার উপলব্ধি। সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। বাংলাদেশ যখন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আমরা তখন রোদে পুড়ছিলাম। দুপুরের তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি তো ছিলই, আবহাওয়া ছিল উত্তপ্ত বালুর মতো রুক্ষ ও শুষ্ক।

পবিত্র হজ পালন একটি কঠিন ইবাদাত, সেটা জানতাম। তবে কতটা কঠিন, সেটা এখানে না এলে জানতে পারতাম না। গত কয়েক মাসে গোটা বিশেক ভিডিও দেখেছি, গোটা চারেক বই পড়েছি ও অসংখ্য ফেসবুক পোস্ট দেখেছি। সরাসরি একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছি আমাদের হজ এজেন্সির কাছে। আগে যাঁরা হজে গিয়েছেন, এমন কিছু কাছের মানুষেরা ভালো ভালো পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবু যেন মনে হয়, এত পথ হাঁটা, এত বড় আত্মত্যাগের পরীক্ষা, শরীরের ওপর এত ধকল, আর সহনশীলতার এত পরীক্ষা—এর মাত্রা কতটা তা আগে বুঝিনি।

হজ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। হজ কবুল হলে মানুষের ধর্মীয় চেতনা, জীবন দর্শন ও জীবনাচরণে তার ছাপ পড়ে। হজের আগের আমি আর হজের পরের আমি একই ব্যক্তি হতে পারি না। হজব্রত মানুষের ভেতর ও বাইরে এক গভীর ছাপ ফেলে।

আরও পড়ুন

মিনা পর্ব

উটে করে হজে যাওয়ার রীতি বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। আমরা তাই মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম বাসে চড়ে। রাত তখন সাড়ে এগারোটা। আমাদের কাফেলার বাস মক্কা থেকে মিনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৮ জিলহজ ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তাঁবুর ভেতরে ঢুকে মনে হলো এ এক অন্য জগৎ। যদিও এয়ার কুলার আছে, কিন্তু সেই বাতাস সবাই পায় না। যাদের বিছানা কুলার বরাবর, বাতাস কেবল তারাই পায়, বাকিরা হা-হুতাশ করে।

প্রত্যেকের জন্য ১ হাত চওড়া বিছানা, ১টা বালিশ, একটা চাদর। ওখানেই নামাজ পড়া, ঘুম, খাওয়া ও নফল ইবাদত। ওখানে শুয়ে-বসেই কাটে দিনের অধিকাংশ সময়। পাশ ফিরে শুতে গেলে পাশের জনের ছোঁয়া বাঁচানো মুশকিল।

তাঁবুর ময়দান মিনা

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ওয়াশরুম ব্যবহার। দিনের যেকোনো সময়ই যাই, দেখি দীর্ঘ লাইন। বয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে এই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন।

এই সেই মিনা, যেখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশে কোরবানি করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। প্রায় চার হাজার বছর আগের সেই আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের ইতিহাস আজও মিনার প্রতিটি বালুকণায় যেন জীবন্ত হয়ে আছে। এখানেই শয়তান মানুষের রূপ ধরে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আল্লাহর আদেশ পালনে বাধা দিতে এসেছিল, আর তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই আজ হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল ‘রমি জামারাত’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) পালন করা হয়। মিনার ময়দান ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, ধৈর্য ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রতীক। প্রতিবছর পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান এই প্রান্তরে সমবেত হয়ে নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই মহান ত্যাগের স্মৃতি পুনরিজ্জীবিত করেন।

মিনা-র শৌচাগারের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা

কিন্তু হজের প্রশিক্ষণে বা গাইড বইগুলোতে এখানে থাকা-খাওয়ার বিষয়ে কোনো গাইডলাইন পাইনি। ওয়াশরুম ব্যবহারে সচেতনতা, মুঠোফোন ব্যবহার সীমিত করা, তাঁবুর ভেতরের পরিচ্ছন্নতা, অপরের ঘুম বা ইবাদতের ব্যাঘাত ঘটিয়ে উচ্চ স্বরে কথা না বলা—এসব নিয়ে প্রশিক্ষণে আলাদাভাবে জোর দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষণের পর অনলাইনে অথবা অফলাইনে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত টিকিট হস্তান্তর স্থগিত করা উচিত। এই বিষয়ে আমি দুই দেশের মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে অনুরোধ জানাব, ইনশা আল্লাহ।

আরও পড়ুন

আরাফা পর্ব

আমাদের মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে যেতে হলো ৯ জিলহজ। এটাই হজের মূল রুকন। এই সেই আরাফাতের ময়দান, যেখানে মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) জান্নাত থেকে প্রেরিত হয়ে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পুনর্মিলিত হয়েছিলেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। এই আরাফাতের ময়দানে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁরা আল্লাহর হৃদয় গলাতে পেরেছিলেন। এখানেই আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন, যা মানবাধিকারের এক অনন্য ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত। আরাফাতের এই বিস্তীর্ণ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে লাখো হাজি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন। হজের মূল রুকন ‘উকুফে আরাফা’ এই ময়দানেই সম্পন্ন হয়। বলা হয়, আরাফার দিন শয়তান সবচেয়ে বেশি নাখোশ থাকে। কারণ, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন। ফেরেশতাদের ডেকে মানুষের কান্নাকাটির দৃশ্য দেখান এবং অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তাই আরাফাতের ময়দান শুধু একটি স্থান নয়, বরং তওবা, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক মহামিলনস্থল।

আরাফায় তাঁবুর বাইরে গাছের ছায়ায় নামাজ আদায়

ছেলেবেলা থেকে টিভিতে যখন হজ দেখেছি, আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে মানুষকে দুই হাত তুলে কাঁদতে দেখেছি। এবার আমিও তাদের মতো একজন ক্ষমার ভিখারি, পাপী, অনুতাপী। আমাদের কাফেলা অবস্থান করছিল বিশাল এক তাঁবুতে, ভেতরে এসি আর নরম বিছানার আয়োজন করা হয়েছে। বাইরে অসহনীয় গরম, তবে কিছু ছোট ছোট গাছের ছায়ার ব্যবস্থা আছে। সেখানে সস্ত্রীক নামাজ পড়লাম অনেকের সঙ্গে।

এখানেও গণশৌচাগার। মিনার মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে অজু, গোসল ও প্রাকৃতিক কর্ম সারতে হয়। পরিচ্ছন্নতার এখানেও বড় অভাব। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেকেই এসব নিয়ে মাথা ঘামান না। অনেকে উন্মুক্ত স্থানে গোসল ও নিজেদের মধ্যে চিৎকার বা ঝগড়া করে অভ্যস্ত। কাজেই এক দিনের প্রশিক্ষণ তাদের আচরণে প্রভাব ফেলবে, তা আশা করি না। প্রয়োজন বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা, বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন। জানি না, অন্যান্য দেশের তাঁবুর পরিবেশ কেমন। আফ্রিকার মুসলিমদের কথা অবশ্য বলাই বাহুল্য।

মুজদালিফা পর্ব

আরাফা থেকে মুজদালিফায় হেঁটে যেতে পারলে খুশি হতাম। তবে আমাদের কাফেলা গেল বাসে। বিলাসবহুল জার্মান প্রযুক্তির শীতল বাস ৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করল ৭ ঘণ্টায়, রাস্তায় এতটাই যানজট ছিল। আমরা এশা আর মাগরিব পড়লাম বাস থেকে নেমে। ততক্ষণে রাত দেড়টা বেজে গেছে।

মুজদালিফা ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই সেই মুজদালিফা, যেখানে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের সময় রাত্রি যাপন করেছিলেন এবং উম্মতকে এখানকার আমল শিক্ষা দিয়েছিলেন। আরাফাত থেকে ফিরে হাজিরা এই খোলা প্রান্তরে রাত কাটান আল্লাহর স্মরণে ও ইবাদতে। এখান থেকেই শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট কংকর সংগ্রহ করা হয়। মুজদালিফার নির্জন রাত হাজিদের মনে আখিরাতের ময়দানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ একদিন আল্লাহর সামনে সমবেত হবে শেষ বিচারের অপেক্ষায়। এখানে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই একই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন, যা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব দৃশ্য। মুজদালিফা মানুষকে বিনয়, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতার শিক্ষা দেয়।

মুজদালিফার রাস্তায় রাত্রিযাপন

তবে আমাদের রাত্রিযাপন পরিকল্পনামাফিক হলো না। আমাদের পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জায়গা পেলাম বাস টার্মিনালে ঢোকার রাস্তায়। রাত দেড়টা হলে কী হবে? সারা দিনের তাপ তখনো বিটুমিনের শরীরে টাটকা। সেই উত্তপ্ত রাস্তার ওপর চাদর আর জায়নামাজ বিছিয়ে শুয়ে মনে হলো পিঠ পড়েছে গরম তাওয়ায়, ছ্যাঁকা লাগছিল শুয়ে থাকার সময়। যারা বালুর ওপর জায়গা পেয়েছেন, তারা হয়তো কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন।

আমাদের সঙ্গে প্রচুর শুকনো খাবার ছিল৷ সৌদি সরকার পানির বোতল সরবরাহ করছিল পুলিশের হাত দিয়ে। ছিল জুসের ছড়াছড়ি। অনেকেই নফল ইবাদাতে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ কেউ ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে রইলেন খোলা আকাশের নিচে। এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে শ্রেণিবৈষম্য নেই, নেই কোন বর্ণের ভেদাভেদ। আমাদের এক পাশে আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশি পরিবার, অন্য পাশে বাংলার গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। যারা টঙ্গীর ইজতেমায় গিয়েছেন ও তাঁবুর বাইরে রাত কাটিয়েছেন, তারা এর কিছুটা স্বাদ পেয়েছেন। আমি মনে করি, হজে যাওয়ার আগে প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ হিসেবে প্রত্যেকের অন্তত এক রাত টঙ্গীর ইজতেমায় অংশ নেওয়া উচিত।

বড় জামারা পর্ব

মুজদালিফায় ফজর পড়ে চার কিলোমিটার হেঁটে আমরা মিনায় তাঁবুতে ফিরলাম। কারণ, রাস্তায় গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। নাশতার পর যেতে হলো জামারায়, বড় শয়তানকে পাথর মারতে। এসব ছোট ছোট পাথর মুজদালিফা থেকে সংগ্রহ করে নিয়েছিলাম।

আমার মতে হজের যাবতীয় কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল জামারাতে শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ। আমাদের মিনার তাঁবু থেকে জামারা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার হাঁটাপথ। সেই পথ এখন পাহাড় কেটে মসৃণ করা হয়েছে, তবু খাড়াই-উতরাই আছে, আমাদের মতো সমতলের মানুষদের জন্য তা ক্লান্তিকর। আমার স্ত্রী আগেই আমাকে স্যালাইন ও প্যারাসিটামল খাইয়ে দিল। নিজেও খেয়ে নিল, যাতে পথের ক্লান্তিতে আমরা অসুস্থ না হয়ে পড়ি।

আরও পড়ুন

এ হলো সেই স্থান যে স্থানে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশে কোরবানি করতে মিনায় নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে বিতাড়িত শয়তান মানুষের রূপ ধরে এসেছিল আর ইব্রাহিম (আ.) তাকে পাথর মেরে বারবার দূর করে দিয়েছিলেন। আমরা সেই স্মৃতির সম্মানে এবং শয়তানকে অপমানিত করতে পাথর ছুড়লাম। এই পাথর শুধু একটা দৃশ্যমান স্তম্ভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় না। এই অপমান আমাদের অন্তরের কুপ্রবৃত্তিকে দূরীকরণের জন্য একটি প্রতীকী কার্যক্রম। এতে মনের ভেতরের শয়তানকে বিতাড়িত করার প্রচেষ্টা থাকে, মনকে নিষ্কলুষ করার আকাঙ্ক্ষা থাকে।

আমাদের কাফেলায় একজন বড় ডাক্তার ছিলেন, পাথর মারার সময় পেছন থেকে কারও ছোড়া পাথর এসে লাগল তাঁর চশমায়। ভাগ্য ভালো, পাথরের আকার ছোট ছিল, চশমার ক্ষতি হয়নি। জামারা থেকে তাঁবুতে ফেরার পথে আমাদের কাফেলার কয়েকজন হারিয়ে গেলেন। যাঁরা গুগল ম্যাপে অভ্যস্ত নন, পথ খুঁজে ফিরে আসা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে গলদঘর্ম হলেন মোয়াল্লেম বাহিনী।

শয়তানকে পাথর মারতে গিয়ে যুগে যুগে এখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যার কিছু কিছু পত্রিকায় এসেছে। পাথর মারার সময় এক উত্তেজিত হাজি সাহেবের কনুইয়ের গুঁতো এসে লাগল আমার স্ত্রীর চোয়ালে। মুজদালিফায় শুয়ে থাকার সময় তার পায়ে এক ভদ্রলোক ভুলবশত পাড়া দিয়েছিলেন। এখানেও সে হাঁটার সময় পায়ে পাড়া খেয়েছে কয়েকবার। এসব নিয়ে কারও সঙ্গে সে উচ্চবাচ্য করেনি। আমি মনে করি এটাই তার হজব্রতের সবচেয়ে বড় ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল, যাতে সে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে আফ্রিকার কাফেলাগুলোর কেউ কেউ যখন আমাদের পেছন ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, আমি তাদের দুকথা শুনিয়ে দিয়েছি। আমার যা বলার বাংলায় বলেছি, ওরা ওদের ভাষায় উত্তর দিয়েছে। বডি ল্যাংগুয়েজ থেকে পরস্পর বুঝে নিয়েছি।

বড় জামারা (শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ)

যা হোক, ঈদের দিন সকালে কসাইখানা থেকে আমাদের কোরবানির নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর আমরা মাথার চুল কামিয়ে এহরাম ছাড়লাম। তাঁবুতে এবার যেন আনন্দের জোয়ার, পরীক্ষা শেষের আনন্দে সবাই উদ্বেলিত। ইহরাম ছেড়ে স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে সবাই খুশি। বিকালে কোরবানির মাংস এলো, সেটা সবাই আনন্দিতচিত্তে খেলাম রুটি আর পরাটা দিয়ে।

এর পরের দুদিন জামারাতে পাথর ছোড়া, ফরজ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ, বিদায়ী তাওয়াফসহ নানা এবাদতে কেটে গেল। জামারার তৃতীয় দিন মেট্রোরেলে চড়ে যাওয়া-আসাটাও স্মরণীয় এক আনন্দ ভ্রমণ ছিল। হজ এজেন্সি নিয়ে বিস্তারিত পরের পর্বে লিখব, ইনশা আল্লাহ। চলবে...

*লেখক: কাজী মনজুর করিম মিতুল, প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]