অভিযোগ

নিষ্পাপ নিথর দেহটা কত কিছুই না বলবে—

কেন তাকে ছিন্নভিন্ন করা হলো?

কোন দোষে জীবন গেল?

কোন পাপে মানুষ নামের হায়েনার দল

ছিঁড়ে খেল তাকে?

সাত বছরের এইটুকু চাঁদমুখ,

প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো,

খেয়াল-খুশিতে পুতুল নিয়ে খেলতে বসা,

কোমল, মায়াবী এই মুখ—

এটাই কি তার প্রাপ্য ছিল?

ছোট্ট ফুলটার সাদা জামাটা

রক্তে ছোপছোপ।

কী করুণ সে দৃশ্য—

ঠিক বিদায় নেওয়া সূর্যের রক্তক্ষরণ আকাশ।

শিয়াল-কুকুররূপী অমানুষের দল—

কেন করলে এমনটা?

তোদেরও কি ঘুম আসে?

ক্ষুধা পায়?

চোখের কোণে কি জল আসে?

কোন অদৃশ্য ভয়ে বুকটা কেঁপে ওঠে?

শরীর শব্দের অর্থ না বোঝা এই মন,

বারবার আঘাতে হয়েছে ক্ষতবিক্ষত—

শুধুই কি শারীরিক?

না, না—

পর্বতসম বা অধিকতর মানসিক।

অজস্র কষ্ট আর বেদনায় জড়ানো,

হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের পচা গন্ধ লেগে থাকা শরীরটা—

শেষ স্নানে পবিত্র করার সব আয়োজন,

ব্যর্থ, ব্যর্থ এবং ব্যর্থ।

আরও পড়ুন

বরং,

নিষ্পাপ দেহটা

নিঃশব্দে ধিক্কার দিক—

আমাকে, তোমাকে, আপনাকে,

এই হিংস্র অমানুষের জাতকে—

এখন, আজ, কাল, পরশু

এবং অনন্তকাল।

*লেখক: সুজন কুমার মিত্র, পিএইচডি গবেষক, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি

আরও পড়ুন
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]