কামানের গর্জনে ইফতার, মিসরের ঐতিহ্য ‘মাদফা আল-ইফতার’

পবিত্র রমজান মাসে সূর্যাস্তের প্রহর ঘনিয়ে এলে মিসরের আকাশে ভেসে আসে এক ঐতিহাসিক শব্দ—কামানের গর্জন। দিনের দীর্ঘ সিয়ামের পর এই বজ্রধ্বনি আতঙ্ক নয়, বরং রোজাদারদের জন্য ইফতারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য মিসরে পরিচিত ‘মাদফা আল-ইফতার’ নামে।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রথার সূচনা ঘটে ফাতেমীয় খিলাফতের সময়। জনশ্রুতি আছে, সে সময় দুর্ঘটনাবশত একটি কামানের গোলা নিক্ষেপের মাধ্যমে সূর্যাস্তের মুহূর্তে এমন শব্দ শোনা যায়, যা মানুষ ইফতারের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে শাসকগোষ্ঠী বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং ধীরে ধীরে এটি রমজানের সংস্কৃতির স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন

কালের পরিক্রমায় এই রীতি আরও সুসংহত হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহাসিক সালাহউদ্দিন দুর্গসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। কামানের সেই গর্জন যেন একযোগে শহরজুড়ে জানিয়ে দেয়, ইফতারের সময় হয়েছে।

প্রযুক্তির এই যুগে টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল সময়সূচি ইফতারের নির্ভুল সময় জানালেও মিসরের মানুষ এখনো আগলে রেখেছে এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে। কারণ, ‘মাদফা আল-ইফতার’ কেবল একটি সংকেত নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক আবেগের এক অনন্য প্রতীক।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
আরও পড়ুন

রমজানের প্রতিটি সন্ধ্যায় মিসরের আকাশে প্রতিধ্বনিত সেই কামানের গর্জন যেন অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের বাস্তবতাকে একসূত্রে গেঁথে দেয়, যেখানে ইফতার শুধু একটি মুহূর্ত নয়, বরং শতাব্দীজুড়ে বহমান এক ঐতিহ্যের নাম।

*লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিসর

[email protected]

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন