কানাডায় শরণার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ: স্বাস্থ্যসেবায় গুনতে হবে ৩০ শতাংশ খরচ
কানাডায় বসবাসরত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ‘ইন্টারিম ফেডারেল হেলথ প্রোগ্রাম’ (আইএফএইচপি)–এর আওতায় বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিজেদের পকেট থেকে অর্থ খরচ করতে হবে। বিশেষ করে ডেন্টাল (দাঁতের চিকিৎসা), ভিশন (চোখের চিকিৎসা) এবং ফিজিওথেরাপির মতো সেবার মোট খরচের ৩০ শতাংশ এখন থেকে সেবাগ্রহীতাকেই বহন করতে হবে।
গত মঙ্গলবার কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ বিভাগ (আরসিসি) এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
কী কী পরিবর্তন আসছে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ চিকিৎসা বা জীবন রক্ষাকারী সেবাগুলো আগের মতোই বিনা মূল্যে থাকলেও অতিরিক্ত বা ‘সাপ্লিমেন্টারি’ সেবার ক্ষেত্রে খরচ ভাগাভাগি করতে হবে।
৩০ শতাংশ খরচ: দাঁত ও চোখের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যের কাউন্সেলিং, ফিজিওথেরাপি ও সহায়ক সরঞ্জাম (যেমন: হুইলচেয়ার বা শ্রবণযন্ত্র) কেনার ক্ষেত্রে মোট বিলের ৩০ শতাংশ শরণার্থীকে সরাসরি ডাক্তার বা ক্লিনিককে পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৭০ শতাংশ সরকার দেবে।
ওষুধের খরচ: প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধের জন্য (নতুন বা রিফিল) ৪ কানাডীয় ডলার করে ফি দিতে হবে।
বিনা মূল্যে যা থাকছে: ডাক্তার দেখানো, হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও ল্যাব টেস্টের মতো মৌলিক সেবাগুলো আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিন দিন শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রকল্পের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতেই এই ‘কো-পেমেন্ট’ বা অংশীদারত্বমূলক খরচের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের বাজেটে প্রথম এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যা এখন চূড়ান্ত করা হলো।
শরণার্থীর করণীয়
যাঁরা বর্তমানে আইএফএইচপির অধীনে আছেন, তাঁদের আগামী ১ মের আগে প্রয়োজনীয় চেকআপ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া কোনো সেবা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে সেটি ‘সাপ্লিমেন্টারি’ কি না এবং কত টাকা দিতে হবে, তা আগেই জেনে নিতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন আয়ের অনেক শরণার্থী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ ব্যবহারকারী এবং বয়স্কদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে।
পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]