প্রবাসে বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা-২
বাঙালি অনেকেই এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। জীবিকার জন্য তাঁরা যে কেবল সাধারণ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন, ব্যবসায় উন্নতি করছেন, তা নয়; বাঙালি এখন শ্রম, ঘাম, মেধা, সাধনা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছেন। তাঁরা শিক্ষা-দীক্ষা, শিল্প-সৃজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কুশলতায় বিস্ময় সৃষ্টি করে তাঁদের মেধার প্রমাণও রেখে চলেছেন। আমাদের কৃতী বাঙালিদের বিস্ময়কর কর্মযজ্ঞের সুখ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে যাচ্ছে! তাঁদের সম্মান ও গৌরবে বাংলাদেশের আপামর জনগণের সঙ্গে আমরাও সমধিক গর্বিত!
প্রবাসে জীবন-জীবিকার প্রাণপণ লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি বাঙালিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে, ভাষা-সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতার নিরন্তর লড়াই–সংগ্রামও চলছে। বিদেশে বসবাসরত বাঙালিরা নিজস্ব সামাজিকতা সুসংগঠিত ও সংহত করতেন, নিজেদের সংস্কৃতির জাগরণ উত্তরণের মাঠে নিরলস যোদ্ধা হিসেবেই সক্রিয় রয়েছেন। বাঙালিদের এই পরিশীলিত চরিত্র ও জীবনবোধ সম্পর্কে বিদেশি সম্প্রদায়ও অবগত আছে। তাদের মননে বাঙালিদের অনন্য উজ্জ্বল চারিত্র্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হলো বাঙালিদের অদম্য সাহস, জাতীয়তা, দেশপ্রেম, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, মর্যাদা ও সম্মান। ভিনদেশে অবস্থানকালে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের অনলে দগ্ধ হয়েই বাঙালিরা নিজেদের পায়ে ভর করে দাঁড়াতে পেরেছেন। ভিনদেশিদের কাছে নিজেদের কৃতিত্ব প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের এই চারিত্র্য আমাদের প্রবাসীদের অর্জিত অমূল্য সম্পদ। ওই সম্পদকে পুঁজি করেই প্রবাসীরা এগিয়ে যাবেন স্বপ্নপূরণের অভীষ্ট লক্ষ্যে। বিশ্বাস রাখি, অদূরভবিষ্যতে বাঙালিরা বিশ্বজয় করবেন। জয়তু প্রবাসী বাঙালি!
প্রবাসী বাঙালিরা শুধু ‘শ্রমজীবী’, ‘কর্মজীবী’, ‘পেশাজীবী’ ও অর্থ উপার্জনকারী ‘রেমিট্যান্স-যোদ্ধা’ অভিধায় পরিচিত হবেন কেন? শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রবাসজীবনে বাঙালিরা কেবল বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করেন না। তাঁরা লড়াই করছেন নিজেদের বিবর্তন ও ভাষা-সংস্কৃতিকে বিশ্বজনীন স্তরে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। বিশ্বের বহু উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, নিজস্ব সংস্কৃতিতে নিজেদের মতো করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চলছে বাঙালির। এই টিকে থাকা শুধু জীবনকে বদলানোর জন্য নয়; সামগ্রিক মুক্তি, সম্ভাবনাময় রূপান্তরযোগ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্যও। এই বিবর্তনের পথ ধরেই একদিন বাঙালি সমাজ ও সভ্যতা গড়ে উঠবে পৃথিবীর দেশে দেশে। বাঙালিরা আজ বিশ্বের বহু দেশে এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। একটি জাতির ভাষা-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, কৃষ্টি-ঐতিহ্য হচ্ছে অমূল্য সম্পদ। এই সংস্কৃতি ও ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। নিজস্ব ভাষার, সংস্কৃতির অঞ্চল গড়ে তোলা যায়। নিশ্চয় তা হবে নিশ্চিত গৌরবের। এ জন্য প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মর সঙ্গে, বাঙালি-সংস্কৃতির নিবিড় সংশ্লেষণ ঘটানো অতীব প্রয়োজন।
এ সময় আমাদের এ কথা স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের একটি শ্রেণি বিদেশি ভাষা শেখার মোহে পড়ে নিজ মাতৃভাষাকে ভুলে যেতে বসেছে! উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি তথা বিদেশি ভাষার বিকল্প নেই। ইংরেজিকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে চরম অবহেলা করা হচ্ছে! এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও আশাব্যঞ্জক দৃশ্যমান তেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রবাসেও তা–ই! প্রবাসে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ইংরেজি বা বিদেশি অন্য ভাষা শেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে চলে আসা প্রবাসী বাঙালিদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়া এখন অনেকের জন্য বাড়তি ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে! অনেকেই বলেন, ‘কী লাভ হবে বাংলা শিখে! এমনিতেই আমাদের সন্তানেরা ব্যস্ত হয়ে আছে। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে অন্য কোনো ভাষা শিখলে লাভ হবে। বাংলা কোনো কাজেই আসবে না!’ আমাদের মনে রাখতে হবে, নিজেদের ঘরে বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা করে আমরা আমাদের শিকড় থেকে আলাদা হয়েই যাচ্ছি!
অন্যদিকে এর বিপরীত চিত্রও দৃশ্যমান। এ চিত্র দেখে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত হই! বহির্বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা ও চর্চা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অনেক বিদেশি বাংলাপ্রেমী, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-অধ্যাপক-গবেষক যুক্ত হয়ে খ্যাতি অর্জন করছেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বপরিমণ্ডলে তুলে ধরতে তাঁরাও তাঁদের সাধ্যমতো অবদান রেখে যাচ্ছেন! তাঁদের আমরা শ্রদ্ধা জানাই!
প্রবাসের মাটিতে অনেক দেশে বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো সেসব দেশেও একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা বর্ষবরণ এবং অন্যান্য আয়োজনে বাঙালিসমাজ সমবেত হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখানে পরিবেশিত হয় সংগীত, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি। এগুলো ছাড়াও বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে ও আয়োজনে, নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলমান। সেখানে বাঙালিদের উৎসাহব্যঞ্জক সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়!
আন্তর্জাতিক পর্যায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছা ও অকুণ্ঠ ভূমিকা প্রয়োজন। প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে বাংলাকে বিকশিত করার ধারাবাহিক আয়োজনকে আরও সমন্বিত ও গতিশীল করতে হবে।
বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ফসল তার ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় পরিব্যাপ্ত হয়েছে। ইউনেসকোর (UNESCO) উদ্যোগে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। কানাডায় বসবাসরত দুজন বাঙালি—রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেসকোতে একটি আবেদন দাখিল করেন। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন! বাঙালিদের গর্বের ও সম্মানের বিষয়!
হাজার বছরের প্রাচীন ভাষার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো এবং হাজারো সংকটের মুখেও একটি জাতিসত্তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়, বাঙালি তা প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এই সত্য যেমন নিজের দেশে, তেমনি বহির্বিশ্বেও প্রমাণ করেছে। এসব বাঙালি খাঁটি বাঙালিয়ানাকে আলোয় উদ্ভাসিত হয়েই বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছেন। প্রবাসে তাঁরা এখন সঙ্ঘবদ্ধ হয়েই বসবাস করছেন। অন্য জাতিগোষ্ঠীর মতো নিজেদের দেশের বাইরে অভিবাসী হয়েও তাঁরা বিলীন হয়ে যাননি। কর্তৃত্ববাদী ভিনদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির ডামাডোলে নিজেদের অস্তিত্ব হারাননি। যত্নের সঙ্গে, আপন ভাষা ও সংস্কৃতিকে তাঁরা আগলে রেখেছেন। ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে, পরিশীলিত আবহে ভিন্নমাত্রায় সেগুলোর চর্চা করছেন। যোগ করেছেন ভিন্নমাত্রা। এখানে বাঙালি সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ পাচ্ছে।
বিশ্বের দেশে দেশে বাঙালিদের মালিকানায় রয়েছে মিডিয়া হাউস, প্রকাশনা ও বিপণনপ্রতিষ্ঠান। এই সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাংবাদিক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা নিজেদের বিকশিত করার অবারিত সুযোগ পাচ্ছেন। বাঙালিদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও প্রচারের মাধ্যমে ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারছেন। ফলে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের পরিচিতি বাড়ছে। এখানে স্বীকার করতেই হবে, প্রবাসের পরিসরে তাঁরা সবাই বাংলাদেশি সমাজ বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।
প্রবাসে প্রিন্টেড ভার্সনসহ ইলেকট্রনিক ও অনলাইন ভার্সনে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র, সাময়িকী, সাহিত্য সংকলন, বেতার-টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইনভিত্তিক সাইট, প্রযুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিনগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবেও ভাষা-সংস্কৃতিভিত্তিক উদ্যোগগুলো সফল হচ্ছে। ফলে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় বিবিধ বিষয়ে নিরন্তর চর্চা করে; সুদূর প্রবাসেও জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন লেখক-গোষ্ঠী, সাহিত্য-ফোরাম ও শিল্পীদের সংগঠন। বাঙালিরা কৃতিত্বের সঙ্গেই তাঁদের প্রচেষ্টা ও সাফল্যের সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন! তাঁদের আমরা অভিনন্দন জানাই!
বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসায়ের পাশাপাশি প্রবাসে সামনের সারিতে থেকে তাঁরা বাঙালি সমাজ গঠন, বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, বাঙালি উৎসব-পার্বণ উদ্যাপনের মতো কাজও করে চলেছেন নিরলসভাবে। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এখানে গড়ে উঠেছে স্কুল, মসজিদ, মন্দির, ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান, বাজার, বিভিন্ন সংগঠনসহ বাঙালি সমাজ। তাদের নিরবচ্ছিন্ন লেখনী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী। প্রবাসে অবস্থান করে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি মানুষ নানা উপায়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। মহামারি, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত ও বিপর্যস্ত দেশবাসীকে রক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এমনকি দেশে গিয়ে, অকুস্থলে উপস্থিত হয়েও নিজেরা ত্রাণ বিতরণ করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও শরিক হন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে হাত বাড়িয়ে দেন। দুস্থ শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার ও লেখাপড়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন অনেকে। বিনিময়ে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ, যশ, সম্মান বা অন্য কোনো লাভের কথা ভাবেন না। তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই!
এত কিছুর পরও আমরা বলব, প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি-সাহিত্যকে যত্নের সঙ্গেই লালন-পালন করতে হবে। বাংলাকে ব্যাপকভাবে প্রচার ও তার প্রসার ঘটাতে প্রবাসী সব বাঙালিকে নিতে হবে গুরুদায়িত্ব। তাদেরই ভেবে বের করতে হবে যথাসম্ভব নতুন উপায়। বাংলা সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্প-ঐতিহ্যকে ভালোবাসায় ও আন্তরিকতায় মননে লালন করতে হবে সবাইকে। বাঙালি–অধ্যুষিত প্রতিবেশে তার, ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। অভিবাসী প্রতিটি বাঙালির অন্তরে অক্ষয় বাঙালি-জাত্যভিমানকে বিজাতীয় অনুভবে নয়, মননে বাঙালিসত্তায় আলোকিত হয়েই বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে অন্যদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে আমাদের বাঙালি চেতনা তাদের মধ্যেও বিস্তার লাভ করুক।
বাঙালিসত্তা নিয়ে প্রবাসের বৈরী পরিবেশে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই সব চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত ঐক্য। আমাদের ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য সম্মিলিতভাবেই এগিয়ে আসতে হবে প্রবাসীদের। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আমাদের অমিয় সম্পদ বাঙালিসত্তাকে যত্নের সঙ্গেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অর্পণ করে যেতে চাই আমরা! আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি, তাদের মধ্যে স্বদেশ ভাবনা ও প্রীতি জাগিয়ে তুলব আমরা। আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চা ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেব আমরা। আমাদের প্রজন্মকে আমাদের পূর্বপুরুষদের সমৃদ্ধ শিকড় থেকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হতে দেব না। এই হোক আমাদের সবার দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রতিজ্ঞা ও শপথ। -সমাপ্ত-
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]