প্রবাসে বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা-১

প্রতিকৃতি: মাসুক হেলাল

‘বাস্তুচ্যুত’ বাঙালি কি ‘সংস্কৃতিচ্যুত’ হয়ে পড়ছে? জন্মের পর থেকেই বাঙালি তার নিজের আবাসের আবাহনে বায়ু, মাটি, জলের স্পর্শে নিয়ত পরিস্নাত হয়ে এই বেড়ে উঠেছে। তার সঙ্গে সে তার সত্তায় মিশে থাকা আচার-আচরণ তথা সংস্কৃতিকে সযত্নে লালন করে এসেছে পরম মমতার সঙ্গেই। কিন্তু একসময় সে যখন ‘জীবন–জীবিকার জন্য’ ব্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন সে নিজেকে তার আঙিনায় আর আটকে রাখতে চায়নি। তাই সে নিজের উঠান পেরিয়ে বাপ-দাদার চৌহদ্দি অতিক্রম করে আকাশে উড়াল দিয়েছে। বাঙালি তার অর্জিত শিক্ষা অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে, বিদেশের মাটিতে গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে। অনেক সময় সে উপলব্ধি করেছে, তার পায়ের নিচে মাটি তাকে গ্রহণ করতে চাইছে না। কিন্তু বাঙালি হেরে যাওয়ার পাত্র নয়। যেভাবেই হোক এই প্রবাসে তাকে টিকে থাকতেই হবে। প্রবাসের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতেই হবে। সে তাই জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অমানুষিক, অবর্ণনীয় কায়িক পরিশ্রমে নিজেকে খাপ খাওয়াতে দুর্নিবার প্রচেষ্টা চালায়। রাতদিন নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। আবার অনেকে একটু ভালো থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়ে অনেক উচ্চশিক্ষার জন্য এবং ভালো ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য দেশের বাইরে পা বাড়ায়। তারা স্কলারশিপ ও ভালো সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। ভালো রেজাল্টও করে। তারপর? তারপর দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাটা মন থেকে উবে যায় তার। সে ভাবে, কী হবে আর দেশে ফিরে? ওখানে তো ভালো সুযোগসুবিধা নেই। তা ছাড়া আছে প্রশাসনিক সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি ইত্যাদি। সবাই তো আর হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবাল নন। তারপরও তাঁদের মতো, কেউ কেউ নাড়ির টানে ফিরে যান নিজের দেশে। কিন্তু সবাই নয়!

তারপরও দেখা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা মাইকেল, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, লালন, হাছন রাজা, নজরুল, জসীমউদ্‌দীনের প্রাণবন্ত কোলাহলমুখর আলোয় তাঁদের স্বকীয়তার দীপ্তি নিয়ে ঝলসে ওঠেন। নিজেদের মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে, দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশের মাটিতে অভিবাসী হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে, বিগত কয়েক শতাব্দীতে তার গুরুত্ব এবং ব্যাপ্তি বেড়েছে ব্যাপক। বর্তমানের বিশ্বায়নের যুগে, শিক্ষার ও পেশার বহুমুখীকরণের ফলে মানুষ স্বেচ্ছায় ও বাধ্য হয়েই অতীতের চেয়ে অনেক বেশি হারে বিদেশে গমন করে স্থায়ী অভিবাসী হচ্ছেন। আবার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক কারণেও নিজেদের দেশ ছাড়তে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন। তাই একসময় ‘ঘরকুনো’ অভিধায় পরিচিত বাঙালি দেশান্তরী হয়েছেন। এই ধারা এখন আগের মাত্রা অতিক্রম করেছে! বাঙালিরা যাঁরা স্বদেশ অর্থাৎ ভারত বা বাংলাদেশ ত্যাগ করে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে থিতু হচ্ছেন, তাঁরা তো প্রবাসী বটেই। প্রবাসজীবনের নানামাত্রিক বাস্তবতার ও তার অভিব্যক্তির সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে বাঙালি অহর্নিশি ব্যস্ত থাকেন। তার মধ্যেই এই বাঙালি তাঁর মননে প্রোথিত শেকড়ের টান অনুভব করেন।

দেখা গেছে বাঙালি পৃথিবীর যে প্রান্তেই গেছেন, মুখে তাঁর নিজের মাতৃভাষাটাকে সঙ্গী করেই নিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি প্রাণপণ মাতৃভাষাকে প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। তাই বাঙালি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, প্রবাসের ভিন্ন আবহাওয়ায় নিজের দেশের পরিবেশ তৈরি করতে মনোনিবেশ করেন। দেশ ও মাটিবিহীন আবহে বাঙালি ঐতিহ্যের শেকড় আঁকড়ে ধরে জীবনযাপনে ব্রতী হন। এক রকম শর্তহীনভাবেই, প্রবাসের মাটিতে বয়ে আনা চেতনার রসে সেই শেকড় ভিজিয়ে রাখেন। প্রবাসের মাটিতে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা বাঙালি, তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকেও যথাসাধ্য ও যথাসম্ভব চেষ্টা করেন নিজের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে। তবে এ কথা সত্য, প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম একসময় বাঙালিয়ানাকে ভুলে যায়! এটাই স্বাভাবিক। বাংলায় লেখাপড়া তো দূরের বিষয়! বাংলায় কথা বলাও তাদের কঠিন হয়ে পড়ে! প্রবাসের মাটিতে স্থায়ী হওয়া বাঙালির প্রথম প্রজন্ম, ঘরে-বাইরে বাংলায় কথা বলা, লেখাপড়া জানলেও তার পরবর্তী প্রজন্ম থেকে এই ধারায় ভাটা পড়তে থাকে। এবং দেখা যায়, তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্ম নিজেদের বাঙালি পরিচয় দিতেও কুণ্ঠিত হয়ে পড়ে! বিষয়টি জাতীয়তাবোধে সমৃদ্ধ বাঙালির জন্য কষ্টের হলেও, এই কঠিন সত্যকে মেনে নিতেই হয়! তাই দেখা যায়, প্রবাসে আগত প্রথম প্রজন্ম বাঙালি তার সংস্কৃতির নানাবিধ বিষয় নিয়ে উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে, তার দ্বিতীয় প্রজন্মকে সেখানে অংশগ্রহণ করাতে পারে। কিন্তু তৃতীয় বা তার পরের প্রজন্মকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়ে ওঠে না! এটি প্রথম প্রজন্মের বাঙালির পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন! তারপরও বাস্তবতার নিরিখে তাকে মেনে নিতেই হয়!

প্রবাসে বসবাসরত অভিবাসী বাঙালিরা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রকাশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছেন। এখানে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনে, বিভিন্ন মাধ্যমে পুরো দেশ ও জাতিকে উপস্থাপন করে চলেছেন। এই চর্চার মধ্যে রয়েছে বাংলা সংবাদমাধ্যম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠন, নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, অমর একুশে পালন, এই দিন উপলক্ষে বইমেলা, আলোচনা অনুষ্ঠান, বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন, দেশীয় লোকসংস্কৃতির প্রদর্শনী, জাতীয় ও আঞ্চলিক খেলাধুলা, বৈশাখী মেলা, ঈদ-পূজা-বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ প্রকাশনা, ইন্টারনেট পত্রিকা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই সাহিত্য দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসী জীবনের অভিজ্ঞতা, নিজস্ব পরিচয় সংকট এবং বিশ্বায়নের প্রভাবকে তুলে ধরে।

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নানাবিধ সমস্যা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও বাঙালিরা বাংলা ভাষার চর্চা অব্যাহত রেখেছেন এবং ভাষারীতি, বানান ও ছন্দ নিয়ে কাজ করছেন। বাংলার উজ্জ্বল নক্ষত্রপ্রতিম কৃতী মানুষদের জীবন, কর্মসাধনা ও অমর শিল্পমাধুর্য নিয়ে ‘অভিসন্দর্ভ’ রচনা করে চলেছেন। তাঁদের কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে, বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বাংলা সাহিত্যের আকর্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরামে সমাদৃত হয়ে বাংলা সাহিত্য নিজের স্থান করে নিচ্ছে।

প্রবাসের মাটিতে বাংলা সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা আগে যেমন হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বর্তমান সময়ের তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে তার সুযোগ ও ব্যাপ্তি বেড়েছে অকল্পনীয়ভাবে! এবং প্রচারের ও প্রসারের গতিও বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে, মানুষ তার চিন্তা ও কর্ম তাৎক্ষণিক মাত্রায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিশ্বব্যাপী। বাঙালিও বসে নেই। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছেন, বাঙালিও! ফ্রান্সে বসে মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন, বাংলা ভাষায় সনেট বা ‘চতুর্দশপদী কবিতা’। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন ‘লাল সালু’ উপন্যাস। এই ফ্রান্সে অবস্থান করে, শিল্পী শাহাবুদ্দীন তাঁর অমীয় ছবি আঁকার সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে অনেক লেখক-কবি, বাংলায় তাঁদের সাহিত্য রচনা অব্যাহত রেখে চলেছেন। বিজ্ঞানের কল্যাণে বর্তমান সময়ে, লেখক-কবিদের সৃষ্টি বিশ্ববাজারে অনলাইনভিত্তিক বিপণনের সুযোগ পাচ্ছে। উৎসাহী পাঠকসমাজ খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন তাঁদের প্রিয় লেখক-কবিদের বই। এমনকি অনেক অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থমালা, সাময়িকী ইত্যাদি পিডিএফ এবং ইবুক আকারে সহজলভ্য করে দিচ্ছে সবার জন্য। এখন পাঠকেরা তাঁদের ইচ্ছেমতোই ঘরে, বিমানে, ট্রেনে, বাসে, নৌযানে অবস্থান করে, কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দায় পছন্দের বিষয় পাঠ করতে পারছেন। লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক তাঁদের অবস্থান থেকে, স্বল্প সময়ে তাঁদের লেখা ও ছবি পাঠিয়ে দিতে পারছেন প্রকাশনা ও সংবাদমাধ্যমে। এবং মুহূর্তেই তাঁরা তাঁদের শিল্পকর্ম নিয়ে পৌঁছে যেতে পারছেন তাঁদের অভীষ্ট গ্রাহক-শ্রেণির কাছে।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ২৮ কোটি বা তারও বেশি মানুষের ভাষা বাংলা। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, বিহার ও ওডিশায় বিপুলসংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ রয়েছেন। এবং সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন এক কোটির বেশি বাংলাভাষী মানুষ। বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে অবস্থানকারী এই জনগোষ্ঠী প্রবাসে আমাদের বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁরা বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিশ্বময়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে এবং তার পরে আশির দশক পর্যন্ত; বাংলা ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে, বিশেষত তৎকালীন সোভিয়েত-ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। তার পাশাপাশি ব্রিটেন, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও বাংলা ভাষার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি প্রকাশিত হতো। প্রকাশিত হতো শিশু, নারীসহ নানা বিষয়ভিত্তিক আকর্ষণীয় পত্রিকা ও অনূদিত গ্রন্থাবলি। এসব প্রকাশনার সঙ্গে বিভিন্ন সময় জড়িত ছিলেন ননী ভৌমিক (জন্ম: ১৯২১-মৃত্যু: ১৯৯৬) এবং হায়াৎ মামুদ (জন্ম: ২ জুলাই ১৯৩৯) ও প্রফুল্ল রায় (জন্ম: ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪-মৃত্যু: ১৯ জুন ২০২৫) সহ অনেক খ্যতিমান ব্যক্তিত্ব। তাঁরা বিদেশি সাহিত্য অনুবাদ ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের কর্মযজ্ঞের সাক্ষর রেখেছেন।

পৃথিবীতে বিপুলসংখ্যক বাংলাভাষীর সংখ্যা বিবেচনায় রেখেই বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো, তাদের নিজেদের দেশ থেকে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে যাচ্ছে। এসব গণমাধ্যমের সঙ্গে বাঙালিরা যুক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে তাঁরা বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশ, বাংলা কৃষ্টি, সংস্কৃতি তুলে ধরছেন।

একজন প্রকৃত লেখকের কর্মকাণ্ডকে অভিবাসন কখনোই বিপন্ন বা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না, এর বড় প্রমাণ এই গুণী লেখক-সাংবাদিকবৃন্দ। অভিবাসী লেখক-সাংবাদিকদের সুবিধা হচ্ছে, তারা একাধারে পেছনে ফেলে আসা জন্মভূমির উজ্জ্বল-স্মৃতি ও প্রবাসে তাঁর চারপাশে বসবাসকারী অভিবাসী সমাজের আবহের নিরেট বাস্তবতা দুটিই পাশাপাশি তুলনা করতে পারেন। ফলে তাঁদের লেখার প্রেক্ষাপট শুধু সমৃদ্ধই হয় না, বরং খুলে দেয় দেখার ভিন্ন জানালা। তৃতীয় নয়ন।

এখানে প্রবাসী বাঙালি কৃতী বাঙালিদের প্রতিনিধি হিসেবে নীরদচন্দ্র চৌধুরী (জন্ম: ২৩ নভেম্বর, ১৮৯৭-মৃত্যু: ১ আগস্ট, ১৯৯৯), তপন রায়চৌধুরী (জন্ম: ৮ মে, ১৯২৬-মৃত্যু: ২৬ নভেম্বর, ২০১৪), আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী (জন্ম: ১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪-মৃত্যু: ১৯ মে ২০২২), গোলাম মুরশিদ (জন্ম: ৮ এপ্রিল ১৯৪০-মৃত্যু: ২২ আগস্ট ২০২৪) এবং শাহাদুজ্জামান (জন্ম: ১৯৬০), এই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করতে পারি। বর্তমান সময়ে, একমাত্র শাহাদুজ্জামান জীবিত আছেন। প্রথমোক্ত চারজন প্রয়াত হয়েছেন। আলোচিত বাঙালিদের প্রথম দুজন ভারতীয় পরের তিনজন বাংলাদেশিকে সময়ের ও দেশের প্রতিনিধি হিসেবেই নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁরা প্রবাসে স্থায়ীভাবে অবস্থান ও বসবাস করেও, দেশ, দেশের জনগণ, সাহিত্য সংস্কৃতিকে নিজেদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছেন। তাঁরা বাঙালির গর্ব। তাঁদের মতো আরও অনেক বাঙালি, প্রবাসে বাংলাদেশ, বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে তাঁদের কর্মব্যস্ত জীবন অতিবাহিত করে যাচ্ছেন। সবার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমরা প্রয়াতদের আত্মার চিরশান্তি এবং জীবিত শাহাদুজ্জামানের দীর্ঘ জীবন এবং সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]