ডিসি ভ্রমণে এবার কী দেখলাম!
সম্প্রতি আমরা দুই সপ্তাহের জন্য ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেছি। আমাদের মেজ মেয়ে আর্লিংটন এলাকায় থাকার পর থেকে আমরা বেশ কয়েকবার ডিসিতে গিয়েছি। এবার আমরা ডিসি এবং এর আশপাশের এলাকা বেশ কয়েকবার ঘুরে দেখেছি।
এবারের ডিসির একটা ভিন্ন চিত্র দেখলাম! সে কথায় পরে আসছি।
আমাদের কলম্বাস মিসিসিপি বিমানবন্দর থেকে ডেলটা এয়ারে গেলাম জর্জিয়ার আটলান্টা বিমানবন্দর। ডেলটার হেডকোয়ার্টার। কলম্বাস থেকে মাত্র ৫০ মিনিটের ফ্লাইট। এআইয়ের মতে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি প্রায় ৪ হাজার ৭০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি বলা যায়। এটি ২০০টির বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পরিষেবা প্রদান করে থাকে। এই বিমানবন্দরে দুটি সমান্তরাল রানওয়ে এবং মোট পাঁচটি রানওয়ে রয়েছে, যা প্রচুর পরিমাণে বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করে। বিমানবন্দরটিতে দুটি টার্মিনালজুড়ে ২০০টির বেশি গেট রয়েছে, যা এর ফ্লাইটের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি ২০০টির বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পরিষেবা প্রদান করে, যা বার্ষিক লাখো ভ্রমণকারীকে সংযুক্ত করে। এই বিমানবন্দর থেকে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার জন্য অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় রাখা উচিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রচুর হাঁটতে হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন ধরে যেতে হবে। বোর্ডিং পাস আগের থেকে নেওয়া না থাকলে বেশ লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে। তারপর সাইনগুলো খুঁজতে হবে অথবা কাউকে জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হতে হবে।
আমাদের রাতের ফ্লাইট ছিল। ছোট মেয়ে এসে বিমানবন্দর থেকে তুলে নিল। আমাদের মেজ মেয়ে আর্লিংটনের যে জায়গায় থাকে, সেখান থেকে ডিসি ১০-১৫ মিনিটের ড্রাইভ। তখন ওর ওখানে ছোট মেয়েটাও ছিল। দ্বিতীয় দিনে ভার্জিনিয়া মেরিল্যান্ডে বর্ডারে একটি ন্যাশনেল পার্কে নিয়ে গেল। আমি সিনিয়র সিটিজেন হওয়ায় সব জাতীয় পার্কে প্রবেশ ফিতে বেশ ডিসকাউন্ট পাওয়া গেল। সেখানে আমরা দেখলাম দক্ষিণের নায়াগ্রা ফলস।
‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এর পরের দিন ছোট মেয়ে তার গন্তব্যস্থল নিউইয়র্কে সাড়ে চার ঘণ্টার বাস নিয়ে চলে গেল। তারপর মেজ মেয়ে আমাদের নিয়ে বেশ কয়েকবার ডিসিতে নিয়ে গেল। আমরা উবারে গিয়েছিলাম, কেননা ডিসিতে পার্কিংয়ে বিরাট সমস্যা। হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল ভবনের কাছাকাছি যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ব্যারিকেড দেওয়া। চারপাশের বিস্তৃত এলাকা পুলিশ ও সশস্ত্র জাতীয় রক্ষীদের দ্বারা ঘেরা। কোনো যানবাহনের অনুমতি নেই। এ ছাড়া হেঁটে আপনি কাছাকাছি কোনো ফেডারেল বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি যেতে পারবেন না। এ যেন ডিসি একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এখনো দর্শনার্থীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়াতে আসে। যদিও মানুষ ভয় পায়, তবে আমরা কোনো গ্রেপ্তার দেখতে পাইনি। তবে ডিসি কোনো অঙ্গরাজ্য নয়, ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার দাবি রয়েছে।
জাতীয় রক্ষী ও ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী না থাকলেও ডিসিতে অপরাধের হার কম। নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন তাঁকে জনগণের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা আমি নিশ্চিত নই। এমন খালি থাকার কথা নয়।
দেখতে দেখতে যাওয়ার সময় এসে গেল। ওয়াশিংটন রিগান বিমানবন্দর থেকে আবার ডেলটাতে উঠলাম। এমনিতে আমার প্লেনফোবিয়া আছে; যদিও প্রায় ৫০ বছর ধরে প্লেনে ছড়ছি। এবার পাঠকদের জন্য প্লেন ওঠানামার ভিডিও ধারণ করলাম। টেক্সটে কীভাবে ভিডিও যুক্ত করতে হয়, তা জানি না। তাই বিরত থাকলাম। পরে ফেসবুকে পোস্ট করে দেব।
ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও বাল্টিমোর আবিষ্টিত ডিসি একটি ছোট্ট পরিপাটি শহর। সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশের রেস্তোরাঁ আছে। আমাদের মেজ মেয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাইয়েছে। ফিরে আসার আগের দিন গিয়েছিলাম একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয়, রসিকাতে। এত ব্যয়বহুল হতে পারে, তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। ছোট্ট এক টুকরা হালুয়া এবং তার সঙ্গে নারকেল গুড়ের তক্তি, এর দাম ৬ ডলার। যাহোক, এটি একটু স্পেশাল রেস্তোরাঁ। কিন্তু ডিসিজুড়েই অনেক সহজলভ্য রেস্তোরাঁ আছে।
যাতায়াতে উবার কিংবা লিফটের ভাড়া খুব একটা বেশি মনে হয়নি আমার কাছে। তা ছাড়া ট্রেন, বাস তো আছেই।
পরিশেষে যুক্তরাষ্ট্র হলো পেট (পোষা প্রাণী) লাভারের দেশ। আমাদের মেজ মেয়ে ও বড় মেয়ের কুকুর আছে। আর ডিসিতে তো প্রায় প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়িতে এক বা একাধিক পোষা প্রাণী থাকে।
লেখক: জীবেন রায়, প্রফেসার ইমেরিটাস মিসিসিপি ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন কলম্বাস, মিসিসিপি