কানাডায় বিল সি-১২ পাস: ওয়ার্ক–স্টাডি পারমিটসহ বিপাকে পড়তে পারেন অস্থায়ী বাসিন্দারা
কানাডার অভিবাসনব্যবস্থায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন একটি বিল (বিল সি–১২) আইনে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিলটি রাজকীয় সম্মতি (রয়েল অ্যাসেন্ট) লাভ করে। এর ফলে এখন থেকে অভিবাসন আবেদন বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষেত্রে কানাডার সরকারের হাতে নজিরবিহীন ক্ষমতা চলে এল।
কী আছে নতুন আইনে
নতুন এই আইনের ফলে কানাডার ‘গভর্নর ইন কাউন্সিল’ বা নির্বাহী বিভাগ যেকোনো সময় জনস্বার্থের অজুহাতে যেকোনো অভিবাসন আবেদন গ্রহণ বন্ধ বা স্থগিত করতে পারবেন। এমনকি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন (ইন প্রসেসিং) আবেদনগুলোও বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
শুধু আবেদনই নয়, ইতিমধ্যে ইস্যু করা কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), স্টাডি পারমিট, ভিজিটর ভিসা, এমনকি স্থায়ী বসবাসের (পিআর) ভিসাও স্থগিত বা বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ভুল, জালিয়াতি, জনস্বাস্থ্য বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
শরণার্থী আবেদনের সুযোগ সীমিত
নতুন আইনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর। এখন থেকে কোনো ব্যক্তি কানাডায় প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলে আর আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন না। এ ছাড়া যাঁরা সরকারি সীমান্ত বা ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’ বাদে অন্য কোনো পথে (অনিয়মিতভাবে) কানাডায় প্রবেশ করবেন, তাঁরাও আশ্রয়ের আবেদনের সুযোগ হারাবেন।
এই নিয়মগুলো অনেকটা পেছনের তারিখ (রেট্রোঅ্যাকটিভ) থেকে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ৩ জুন বা তার পরে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের সবার ক্ষেত্রে এই নতুন বিধি কার্যকর হবে।
তথ্য বিনিময় ও উদ্বেগ
বিলের একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী, অভিবাসন বিভাগ এখন থেকে যেকোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য অন্যান্য সরকারি সংস্থা এমনকি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কানাডার উচ্চকক্ষ বা সিনেটে আপত্তি উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা বহাল রেখেই আইনটি পাস হয়।
প্রভাব ও সমালোচনা
কানাডার অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের কঠোর সমালোচনা করছে। তাঁরা মনে করছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ায় সাধারণ অভিবাসীরা আইনি জটিলতার শিকার হতে পারেন।
তবে সরকার বলছে, সিস্টেমের ওপর চাপ কমাতে এবং অবৈধভাবে প্রবেশের প্রবণতা বন্ধ করতেই এই সংস্কার অপরিহার্য ছিল। আগামী পাঁচ বছর পর এই আইনের কার্যকারিতা ও প্রভাব পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করার বিধানও রাখা হয়েছে।