কানাডা বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমাচ্ছে, নতুন ইমিগ্রেশন লক্ষ্য ঘোষণা
বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে ইমিগ্রেশনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার। ২০২৬–২৭ সময়কালের নতুন ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় অস্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কানাডার ফেডারেল দপ্তর ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানায়, দেশের আবাসন, অবকাঠামো ও সামাজিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক মন্ত্রী লেনা মেটলেগ দিয়াব বলেন, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে ইমিগ্রেশনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং তা একটি টেকসই পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দার লক্ষ্য ছিল ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫০ জন। ২০২৬ সালে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বড় পরিসরে কমানো হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘তবে শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণে দক্ষ কর্মী আনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে দক্ষ কারিগর, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী ও উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ সহজ করা হবে।’
সরকারের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।
স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ স্থিতিশীল
পরিকল্পনায় স্থায়ী বাসিন্দা (পিআর) গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজারে স্থির রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক শ্রেণির অভিবাসীর হার বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের পর প্রতিবছর পিআর গ্রহণ দেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখা হবে।
এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে নতুন ক্যাটাগরি
এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইআরসিসি জনপ্রিয় অভিবাসন প্রোগ্রাম এক্সপ্রেস অ্যান্ট্রিতে নতুন ক্যাটাগরি চালু করে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য এবং কানাডার জব মার্কেটে যাঁরা বেশি অবদান রাখতে পারে, তাঁদের দিকে চোখ থাকবে কানাডার।
ফরাসিভাষী অভিবাসনে গুরুত্ব
ফরাসিভাষী অভিবাসীদের জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে মোট পিআর গ্রহণের ৯ শতাংশ ফরাসিভাষী অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে কুইবেক প্রদেশের বাইরে এই হার ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিফিউজি ব্যবস্থার সংস্কার
সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত ও আশ্রয়ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রকৃত সুরক্ষা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে আবেদনপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘কানাডিয়ানদের আস্থা অর্জন করতে পারে—এমন একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’