প্রথম উপহার: সম্পর্কের সূক্ষ্ম রেখা–৩
সাবিত দুবছর টাঙ্গাইলে থাকলেও সে রকম ঘোরাঘুরি করেনি। করটিয়াতে থাকতে মাঝেমধ্যে বোরিং লাগলে সা’দত কলেজে হাঁটত। ছুটির দিন বিকেলে করোটিয়া রেলস্টেশনে যেত মেসের বন্ধু ও বড় ভাইয়েদের সঙ্গে। কখনো বাসাইলের সোনালিয়া গ্রামে চলে যেত অজান্তেই।
অল্প দূরেই ডিসি লেক। ওরা হেঁটেই চলে যায়। তখনো লোকজন নেই আড্ডা দেওয়ার; হাতেগোনা কয়েকজন। ওরা বসে লেকের সিঁড়ির পাশে টাইলসে বাঁধানো গোলটেবিলে। চলে কিছুক্ষণ জমিয়ে আড্ডা।
আতিয়া: তোমার ভার্সিটি লাইফ কেমন কাটতেছে?
সাবিত: চলছে সব মিলিয়ে বেশ ভালো।
পিংকি: (হেসে) ভালোই তো কাটব, বন্ধুর এখন মেলা বান্ধবী রাজশাহীতে।
আতিয়া: খালি বান্ধবী, আর কেউ নাই?
রুবা: (হেসে) আছে মনে হয়।
সাবিত: কেউ নাই ভাই কেউ নাই, থাকলে জানতা।
আতিয়া: বিশ্বাস হচ্ছে না, এখনো সিঙ্গেল আছ। নিশ্চয়ই কেউ আছে বলবা না।
রুবা: শুনছি, ভার্সিটিতে কেউ সিঙ্গেল থাকে না।
সাবিত: কেউ সিঙ্গেল থাকে কি না জানি না, তবে আমি পাক্কা সিঙ্গেল।
আমাদের এমন একটা টেন্ডেন্সি, ভার্সিটি মানেই উরাধুরা প্রেম, মজা-মাস্তি, আড্ডা। আরও কত কী! বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে কেউ ভণ্ড থেকে সাধুসন্ন্যাসী হয়, কেউ সাধুসন্ন্যাসী থেকে ভণ্ড। কারও–বা একটুও পরিবর্তন হয় না। সাবিতের ক্ষেত্রেও তাই, ওর পরিবর্তন অস্পষ্ট। ওর বিশ্বাস কোনো নেতিবাচক ছোঁয়া ওকে স্পর্শ করতে পারবে না। এখন পর্যন্ত পারেনি।
ওখান থেকে উঠে ওরা হাঁটতে থাকে সার্কিট হাউসের সামনের প্রশাসনিক এরিয়ায়। একদম নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ। পুরাতন গাছগাছালি আর পাখিদের কলতানে নৈসর্গিক।
বেলা পড়ে যাচ্ছে। মেয়েদের ফিরতে হবে দ্রুতই। ফেরার পথে একটু চায়ের সঙ্গ না পেলে জমে না। রাস্তার পাশে টং দোকানে চা খাওয়ার আলাদা তৃপ্তি আছে। সবাই এর মর্ম বুঝবে না, চা–প্রেমী ছাড়া। শামসুল হক তোরণের পাশে টং দোকানে চা খেয়ে যার যার মতো নীড়ে ফেরে।
রুবেল ভাই পাশের রুমে বিছানা ঠিক করে রাখে। রাতের খাবার শেষে সাবিত একটু তাড়াতাড়িই শুতে যায়। লাইট নেভানো হলেও পাশের রুমের আলোতে ম্লান আলোকিত সাবিতের রুম। একাকী রুমে বিভোরে ভাবনায় সাবিত। রুবাকে মনে পড়ছে বারবার। সাবিত একটু অপরাধ বোধ করে, রুবা বই পড়তে পছন্দ করে অথচ কেন যে ওর জন্য একটা বই আনল না! তবে আরেকটা বিষয় সাবিতকে আরও বেশি ভাবিয়ে তোলে। রুবা তো বলেছিল, ‘সরাসরি বললেই তো পারো।’ এ কথার ছাপ তো আজ ওর মধ্যে দেখা গেল না, নাকি সাবিত বুঝতে পারেনি? কিন্তু ও তো রুবার দিকেই বেশি নজর রাখে।
পরদিন সকালে সাবিত চলে যায় করোটিয়া। সাবিত কলেজের সময়টুকু এখানেই মেসে থাকত। অসংখ্য বিদ্ঘুটে স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানকার। তবু আজ স্মৃতিগুলো নাড়া দিচ্ছে বারবার। বিকেলে সাবিত ওর স্কুল ফ্রেন্ড রিপনকে নিয়ে বের হয়। যায় সা’দত কলেজ মাঠে হাঁটতে আর আগের মেস দেখতে।
ওরা দ্বিতীয় গেট দিয়ে কলেজে প্রবেশ করে। রাস্তার মাথায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সামনের বড় মাঠে ছেলেরা খেলছে ছোট ছোট টিম করে। মসজিদ বরাবর পশ্চিম দিকে রাস্তা। রাস্তার শেষে পকেটগেট। গেট থেকে মিনিটখানেক পর সাবিতের পূর্বের মেস। এ কী অবস্থা! ঘুটঘুটে পরিবেশ। মনে হচ্ছে একযুগ ধরে কারও বাস নেই। ঘাস হাঁটু সমান হয়েছে। অথচ ওদের সময় জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান হতো। করোনার পর নতুন করে কেউ এখানে আসেনি। মেসের নাম নট আউট হলেও এখন পুরো মেসটাই বোল্ড আউট।
পরদিন সকাল ৯টায় বাস। আপত্তি সত্ত্বেও রিপন করোটিয়া বাইপাস পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। করোনার আগে এ রুটে পর্যাপ্ত ভালোমানের বাস চলাচল করত না। জামালপুর পর্যন্ত রাস্তার ত্রুটি না থাকলেও এরপর থেকে রৌমারী পর্যন্ত কিছু কিছু জায়গায় নাজেহাল অবস্থা ছিল। রাস্তার সংস্করণ চলছিল পুরোদমে। সাময়িক অসুবিধা হলেও এখন হনহন করে গাড়ি চলে। লোকাল বাসে তখন ৬ ঘণ্টা লাগলেও এখন ৪ ঘণ্টার একটু বেশি লাগে। সময় কম লাগলেও এ পথে আর আসা-যাওয়া হবে না সাবিতের। যদি না নিয়তি চায়।
সাবিতের বাড়ি পৌঁছাতে আসর পার হয়ে যায়। রৌমারী থেকে সরাসরি স্থলপথে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্রহ্মপুত্র নদের কিছু অংশ খেয়া পার হতে হয়। তারপর গ্রাম; ফাঁকা মাঠের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয় আরও কিছুক্ষণ। উঠানে পা রাখতেই ওর দুই ভাতিজি দৌড়ে আসে।
বড় ভাবি: ওই দ্যাখ, তোর চাচ্চু আইছে।
সিনহা: চাচ্চু আইছে, চাচ্চু আইছে!
সিনথিয়া: ও চাচ্চু...।
সাবিত: (আদর করে) আম্মাজান, কেমন আছো তোমরা?
মেঝো ভাবি: ভার্সিটি ছুটি দিছে তিন দিন আগে, সরাসরি বাড়িতে আসা বাদ দিয়া টাঙ্গাইলে কী তোমার?
বড় ভাবি: কোন বউয়ের সঙ্গে দ্যাখা কইরা আইল কেরা জানে।
সাবিত: (হেসে) হ্যাঁ, ওখানে আমার মেলা বউ। দেখা তো করতেই হয়।
মেঝো ভাবি: নিয়া সে আইবা। আমরাও দেখমু।
সাবিত: আপাতত বুকিং দিয়ে আসলাম।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি বেশি দিন না। সাবিত স্বভাবতই ছুটি হাতে রেখে ক্যাম্পাসে ফেরে। নিজ বাড়ি এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ির মতো লাগে। আর নিজেকে লাগে মেহমান। আত্মীয়ের বাড়িতে বেশিদিন থাকলে কদর কমে যায়। কদর থাকতেই স্থান ত্যাগ করা ভালো।
একদিন রুবার সঙ্গে সাবিতের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা ওঠে। সাবিত গড়গড় করে সব বলে। পরিবারের সবার ফটোও দেখায়, বিশেষ করে ভাবিদের। যৌথ পরিবারের সুবিধা–অসুবিধা মিলেই ওরা একসঙ্গে বসবাস করে। ওর আব্বা-মা বেঁচে থাকা অবধি ভাইদের পৃথক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সাবিত: আমাদের যৌথ পরিবার, আপাতত বারোজন সদস্য।
রুবা: বাহ! তাইলে তো খুব ভালো।
সাবিত: হ্যাঁ, আগামীতে আরও বাড়বে।
রুবা: আমাদের অণু পরিবার। আর এমনিতেই আমার বেশি মানুষ ভালো লাগে না।
ব্যক্তির সামাজিকীকরণ যেভাবে হয় সেভাবেই পরিবার ও সমাজজীবনে তার বিচরণ। রুবার অণু পরিবারে বেড়ে ওঠা শৈশব থেকে। হয়তো এদিক থেকে ওর যৌথ পরিবার ভালো না লাগাটা স্বাভাবিক। অন্যদিকে সাবিতের জন্মের কয়েক মাস পর ওর বাপ-চাচা পৃথক হলেও সবাই পাশাপাশি বাস করত। আর আগে থেকেই বাড়িভর্তি মানুষ। ফলে যৌথ পরিবারের কাঠামো থেকে বেরিয়ে এলেও যৌথ পরিবারের নব্য উত্থান ঘটেছে। এটাই ঐক্য।
আরেক দিন কথা হয় বৈবাহিক বিষয় নিয়ে। রুবার দূরে বিবাহ করার ইচ্ছা নেই। রুবার যৌথ পরিবার, দূরে স্থায়ী সম্পর্ক করতে আপত্তি আছে বলে প্রতীয়মান। কোন প্রেক্ষিতে রুবা বলেছে সাবিত জানে না জানার চেষ্টাও কখনো করেনি। ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছায় প্রশ্ন করতে নেই ভেবে। সাবিতের সঙ্গে দুটো বিষয়ই বিপরীতমুখী। মধ্যবিত্তের কাছে পরিবারই প্রধান। হাসিমুখে অনেক কিছু বির্সজন দিতেও আপত্তি নেই।
বেশ কিছুদিন হলো সাব্বিরের সঙ্গে কথা হয় না। চাইলে খোঁজখবর নেওয়া যায়, কিন্তু এটুকুই হয়ে ওঠে না। তবু কথা যে হয় না, তা নয়। কখনো কখনো সপ্তাহে দু–একদিন কখনো কখনো একবারও না। পার্থক্য এতটুকু। তবে এবার অনেক দিন পর সাব্বির নক দেয়।
সাব্বির: কী অবস্থা বন্ধু, ভুলেই গেছো?
সাবিত: তোমারও কোনো খবর পাচ্ছি না?
সাব্বির: খবর পাইবা কেমনে, গার্লফ্রেন্ড পাইয়া আমাদের ভুইলা গেছো!
সাবিত: আর গার্লফ্রেন্ড, বান্ধবী লাগে, বান্ধবী।
সাব্বির: এতদিন ধরে কথা কও, অথচ সেটআপ করতে পারো নাই?
সাবিত: হয়তো সে রকম কিছু ভাবিনি।
সাব্বির: এত সুন্দর বান্ধবী পাইয়া হাতছাড়া কইর না। পারলে বলে দিও।
সাবিত: হবে না বন্ধু। বান্ধবী হিসেবেই থাকুক। বললে যদি সম্পর্ক খারাপ হয়।
সাব্বির: না বললে ও জানবে কেমনে?
সাবিত: থাকুক এভাবেই।
সাব্বির তো জানে না রুবার দূরে বৈবাহিক সম্পর্ক করার ইচ্ছা নেই, নেই যৌথ পরিবারের মতো কাঠামোয় আবদ্ধ হতে। এ জন্য সাবিতের আগ্রহ থাকলেও বলার স্কোপ পায় না। তবে কেন সেদিন বলেছিল ‘সরাসরি বললেই তো পারো।’
মানুষের মন জয় করা সহজ কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে মেয়েদের তো না-ই। কথায় আছে নারীর মন জয় করা যুদ্ধ জয় করার সমান। ওরা সহজে যেমন কাউকে বিশ্বাস করে না, ঠিক তেমনি হেঁয়ালিভাবে বিশ্বাস করে সহজেই কষ্ট পায়। প্রকৃতপক্ষে ওরা ঠিক কী চায়, নিজেরাই জানে না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের চোখ-কান খোলা রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়। সব সময় আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। শেষে বিবেকের দংশনে যেন তাড়িত না হতে হয়। হয়তো রুবা তখন আবেগের বশবর্তী হয়ে সাবিতকে প্রস্তাব দিতে বলেছিল।
সাবিত নানাবিধ ভেবে রুবার আশা ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে সাবিতের এক মেয়েকে ভালো লাগতে শুরু করে। ওর ডিপার্টমেন্টের মেয়ে; একই ব্যাচ। সাবিতেরা ছ’জনের একটি গ্রুপ। মোটামুটি একই সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে পাশাপাশি ওদের বিচরণ। এ গ্রুপের দুজন মেয়ের মধ্যে একজন ওই মেয়েটি। নাম স্নিগ্ধ। একসঙ্গে চলতে-ফিরতে ভালো লাগা শুরু। স্নিগ্ধ বুঝতে পারত। ভালো লাগলেই তো আর প্রকাশ করা যায় না। বোঝাপড়ার হাজারো বিষয় থাকে একে-অপরের প্রাসঙ্গিকতায়। সাবিত বুঝতে চেষ্টা করত মেয়েটিকে। কখনো ওর বাকি বন্ধুদের বুঝতে দিত না। ওরা জানলে মজা নেবে। অহেতুক রব তুলবে অনেকে। শাখাপ্রশাখা টেনে পুকুরকে মহাসাগর বানাতেও বেগ পেতে হবে না। তবে রুবাকে শেয়ার করতো অনায়াসে। রুবা পরামর্শ দিত কীভাবে এগোনো যায়।
রুবা: ভালো লাগলে দ্রুত বলে দিও।
সাবিত: যদি না করে দেয়, এই ভয়ে বলছি না।
রুবা: ভয় ভেঙে বলে দাও, হইলে হইয়া যাইব।
সাবিত: ভয় ভাঙতে গেলে যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয এটাই বিষয়।
রুবা: না বললে তো হবে না। পছন্দ করবা অথচ বলবা না, তাইলে থাকো এভাবেই। মনে কইর না মেয়েরা কখনো আগে বলবে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে নাকি ছেলেদের প্রচেষ্টা বেশি থাকতে হয়। নানাভাবে অ্যাপ্রোচ করতে হয় মেয়েদের। অথচ রুবা কোনো অ্যাপ্রোচ ছাড়াই সাবিতকে ইঙ্গিত দিলেও বেচারা বুঝতে পেরেও পদক্ষেপ নেয়নি। চেয়েছিল আরেকটু সময় নিয়ে ভালোভাবে এগোতে। ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। মানুষের মন পরিবর্তনশীল। ঠিক ঋতু যেমন। তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন না হলেও সময়ের প্রয়োজনে অথবা নিজের প্রয়োজনে পরিবর্তন হয়।
রুবার কথামতো সাবিত স্নিগ্ধকে ওর ভালো লাগার বিষয় জানায়, তবে চিঠিতে। সরাসরি কখনো প্রস্তাব করেনি। কখনো ফোনেও কথা হয়নি এসব বিষয়ে। যতটুকু কথা হতো ফর্মাল ও প্রয়োজনে। রাতে খেতে বসলে স্নিগ্ধের ফোন—
স্নিগ্ধ: সাবিত, ফ্রি আছিস?
সাবিত: হ্যাঁ, বল।
স্নিগ্ধ: দেখ সাবিত, আমাকে তোর ভালো লাগতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক। আর নিজের ভেতর কথা না রেখে বলে দিছিস, খুব ভালো করছিস। কিন্তু আমি না রিলেশনে আসতে চাইনা না। এসবে আমি বিশ্বাস পাই না।
সাবিত শুধু শোনে কোনো কথা বলে না...
স্নিগ্ধ: কিরে কিছু বলছিস না কেন?
সাবিত: (নরম স্বরে) কী আর বলব, তুই তো বলেই দিলি তোর কথা।
স্নিগ্ধ: জানিস, আমি খুব চোট পেয়েছি রে। তোর থেকে কখনো এসব আশা করিনি। ওই দৃষ্টিতে তোকে কখনো দেখিনি। কষ্ট নিস না রে।
কষ্ট হয় ঠিকই। সাবিত প্রতিটি নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে ঝেড়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করে। বাস্তবতা সবার ঊর্ধ্বে। যেখানে একজন মেয়ে যথেষ্ট সম্মান রেখে অসম্মতি জানিয়েছে সেখানে নিজের সম্মান থাকতে দূরত্ব বাড়ানো শ্রেয়। সম্মানে সম্মান আনে। পছন্দ–অপছন্দ ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। একজনের ভালো লাগা আরেকজনের বিপরীত হওয়া অযৌক্তিক কিছু নয়। ব্যক্তিগত মতামতে জোরিজুরি করতে নেই; বোধজ্ঞান থাকা জরুরি।
পরদিন লাস্ট ক্লাস। কোরবানি ঈদের ছুটি কিছুদিন। সাবিত কখনো ক্লাস মিস করে না। কিন্তু সেদিন আর ক্লাসে যায় না। মন ছটফট করছে বাড়ি যেতে। আর একমুহূর্ত এখানে থাকার ধৈর্য নেই। অথচ কথা ছিল ঈদের তিন দিন আগে বাড়ি যাবে। তবে সরাসরি বাড়ি না গিয়ে রংপুর দুদিন থাকে গ্রামের এক বন্ধুর কাছে। দেহে মন খারাপের ঠাঁই নেই। ঘোরাঘুরি করে ইচ্ছেমতো।
এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে অনেক কাজ। বিশেষ করে ধান লাগানো। সাবিত যত দিন বাড়িতে থাকে যথাসাধ্য শ্রম দেয়। সারা দিন ফোনের সঙ্গে মোলাকাত হয় না বললেই চলে। মোবাইল কখন কার কাছে থাকে, তারও হদিস নেই। তবে ভাবিরা ছাড়া কেউ ধরে না। কাজ শেষে বিকেলে বাড়িতে এলেই মেঝো ভাবির হাঁকডাক। রান্না করছে বড় ভাবিসহ। কাছেই ওর মা কাঁথা সেলাই করছে।
মেঝো ভাবি: তোমার ফোনে একজনের ছবি দেখলাম।
সাবিত: কার ছবি?
মেঝো ভাবি: হেইডাই শোনার জন্যে ডাকতাছি।
সাবিত: দেখি, কার ছবি দেইখা এত হাইপার হইছেন?
মেঝো ভাবি: কেরা এইডা, ভালোই তো দেখা যায়?
সাবিত: বান্ধবী, টাঙ্গাইলে বাড়ি। আমরা একসঙ্গে কোচিং করতাম।
মেঝো ভাবি: (হেসে) ওরে দেখার জন্য কয়দিন পরপর টাঙ্গাইলে যাও?
সাবিত: কেন, এমনি যাওয়া যায়?
বড় ভাবি: কবে শুনমু সাবিত কোনো মেয়ে বিয়া কইরা বাড়ি আইছে।
মা: আনুকছে, মাইনা নিমু।
মেঝো ভাবি: নাম কী ওর?
সাবিত: (হেসে) নাম বলা যাবে না।
মেঝো ভাবি: নাম না কইলা, নম্বর দিও, কথা কমুনি। চলবে...
* লেখক: মো. সবুজ আহমেদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]