মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে খুদে শিক্ষার্থীরা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ট্রাক্টরের ফলার আঘাতে ভেসে ওঠা মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা।
ছবি: প্রদীপ রায়

দেশে কৃষিতে যুক্ত হয়েছে যান্ত্রিকীকরণ। ফলে, গরুর বদলে ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষাবাদ। জমি চাষের সময় ট্রাক্টরের ফলার আঘাতে ভেসে ওঠে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আর এসব মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে করোনার কারণে একধরনের ঘরবন্দী শিশু শিক্ষার্থীরা। কাদামাটিতে শিশুদের কচি পায়ের স্পর্শে মুখরিত বিস্তীর্ণ মাঠের এ দৃশ্য দেখে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন উপস্থিত অনেক কৃষক। তাই মাছ ধরার উৎসবে মাতোয়ারা শিশুদের বাধা দিচ্ছেন না অভিভাবকেরাও। উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাই প্রতিদিন মাঠে দল বেঁধে মাছ ধরতে যায় বলে জানিয়েছে শিশুরা।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের কোমরপুর ইউনিয়নের কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রাকেশ রায় বলে, ‘স্কুল বন্ধ, তাই জমিতে চাষ দেওয়ার সময় ট্রাক্টরের শব্দে দল বেঁধে মাঠে ছুটে যাই। জমিতে নেমে কে কত মাছ কুড়াতে পারে, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক কেজি বিভিন্ন জাতের মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।’

একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র কমলা কান্ত রায় বলে, ‘করোনা কারণে দূরে কোথায় যেতে পারি না। তাই বাড়ির পাশে জমিতে বন্ধুদের সঙ্গে মাছ ধরতে যাই। মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অনেকে আমাদের কাছে মাছ কিনে নিতে চায়। কিন্তু আমরা বাড়ির জন্য মাছ ধরি। আমরা মাছ ধরে বাড়িতে নিয়ে আসায় বাজার থেকে আর কিনতে হয় না।’

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দশরথ রায় বলেন, ‘বর্ষাকালে কাদামাটিতে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে আমাদের গ্রামীণ জনপদের মানুষ। এটি আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। কিন্তু করোনার কারণে এ দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে আমাদের শিশুরা এসব উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করোনা কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা ঘরবন্দী। তবে এ মাছ ধরার উৎসব তাদের বন্দিজীবনে কিছুটা আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। এসব উৎসব শিশুদের মানসিক প্রশান্তির খোরাক জোগাবে। এতে করে তাদের মনের অস্থিরতা কমবে।’