ইটপাথরের শহর ছেড়ে: ৮ বন্ধুর কাপ্তাই অভিযান
অফিসের চার দেয়ালের ক্লান্তি আর রোস্টারবদ্ধ জীবন যখন দম বন্ধ করে দিচ্ছিল, ঠিক তখনই আমরা আটজন—আরজু, শাওন, মুসলিম, ইয়াসিন, নূর উদ্দিন জিসান (১), সোহেল, নূর উদ্দিন (২) এবং ফাহিম সিদ্ধান্ত নিলাম প্রকৃতির বুকে ডুব দেওয়ার। গত ২৯ জানুয়ারি ঠিক বেলা দুইটায় যখন পতেঙ্গার নোনা হাওয়ায় যান্ত্রিকতার বিদায়ঘণ্টা বাজল, আমাদের গন্তব্য তখন পাহাড় আর হ্রদের শহর কাপ্তাই।
যাত্রা ও শুরু—
সময় বাঁচাতে আমরা পতেঙ্গা থেকে দ্রুত সিএনজি নিয়ে ফ্লাইওভার হয়ে পৌঁছে গেলাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে। সেখানে ফাহিম আগে থেকেই আমাদের জন্য বেলা আড়াইটার বাসের টিকিট কেটে অপেক্ষায় ছিল। ঝটপট কিছু মুখরোচক খাবার খেয়ে আমরা বাসে চড়ে বসলাম। গন্তব্য, কাপ্তাই লিচুবাগান। বাস যত এগোচ্ছিল, শহরের ব্যস্ততা ততই ফিকে হয়ে আসছিল।
গোধূলির মায়ায় কর্ণফুলী ইকো–ভিলেজ
ঠিক গোধূলিবেলায় আমরা যখন কাপ্তাইয়ের গহিন অরণ্যের কাছাকাছি, চারপাশের প্রকৃতি এক মায়াবী রূপ নিল। আমাদের গন্তব্য ছিল আগে থেকে বুক করা ‘কর্ণফুলী ইকো–ভিলেজ’। জনপ্রতি মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকায় থাকা-খাওয়ার প্যাকেজটি ছিল আমাদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী।
লিচুবাগান থেকে সিএনজি নিয়ে আমরা পৌঁছালাম কর্ণফুলী পেপার মিল এলাকায়। তবে এই জায়গায় নতুন পর্যটকদের জন্য একটি ছোট্ট টিপস—এখানকার স্থানীয় ড্রাইভাররা সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া চেয়ে বসতে পারেন, তাই ভালো করে দরদাম করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
নদীর ওপারে অন্য এক জগৎ
কয়লার ডিপুর মেঠো পথ ধরে আমরা যখন কর্ণফুলী নদীর কিনারে পৌঁছালাম, তখন অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। নদী পারাপারের জন্য উপজাতিদের ছোট ছোট বোট রয়েছে। জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় নদী পার হতে হতে ওপারেই দেখতে পেলাম আলোঝলমলে ইকো–ভিলেজ। ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় আমরা রিসোর্টে পা রাখলাম। আমাদের আগমনে রিসোর্টটি যেন আলোর সাজে সেজে আমাদেরই অভ্যর্থনা জানাল।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
আড্ডা, গান আর পাহাড়ি রাত
রুমে ঢুকেই হাত-মুখ ধুয়ে সতেজ হতেই শেফ আমাদের জন্য গরম–গরম নুডলস পরিবেশন করলেন। এরপর শুরু হলো আমাদের আসল আনন্দ। পাহাড়ের নির্জনতায় ৮ বন্ধুর প্রাণখোলা হাসি, আড্ডা আর গানের আসরে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম অফিসের কোনো কাজের চাপ বা শহরের কোনো কোলাহল। রাতে পরিবেশন করা হলো চমৎকার সব স্থানীয় পদ, যা আমরা সবাই বেশ তৃপ্তিসহকারে চেটেপুটে খেলাম।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও ফেরার পালা
পরদিন সকালে আমরা ঘুরে দেখলাম স্থানীয় গ্রাম আর বাজার। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের সাদাসিধে জীবনযাপন আর পাহাড়ের স্নিগ্ধতা আমাদের মন ভরিয়ে দিল। প্রকৃতির সান্নিধ্যে পুরোটা সময় কাটিয়ে ঠিক বেলা দুইটায় আমরা আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করলাম।
ভ্রমণ টিপস
খুব অল্প খরচে (জনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০-২ হাজার টাকার মধ্যে) যাঁরা এক দিনের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান, তাদের জন্য এই রুটটি সেরা। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আগে থেকে দরদাম ঠিক করে নেবেন।