default-image

আমি এবং আমার বন্ধুদের কাছে প্রতিবছর শীতকালে একবার সুন্দরবন ভ্রমণ একপ্রকার আবশ্যক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর শীতকাল শুরু হলে আমাদের মনে এক নতুন প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায়, ‘কবে যাব সুন্দরবন?’ এ বছরের প্রথমে ঘুরতে গিয়েছিলাম সুন্দরবন। আজ সেই ভ্রমণের স্মৃতিচারণা করতে বসলাম।

১ জানুয়ারি ২০২১, দিবাগত রাত দুইটায় খুলনার পাইকগাছা থেকে নদীপথে শুরু হলো আমাদের যাত্রা। গন্তব্য সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্র।

এ যাত্রায় আমার সঙ্গে ছিলেন আরও ১৫ বন্ধু। শীতের রাত, সঙ্গে নদীর ঠান্ডা হাওয়া সব মিলিয়ে একপ্রকার অসহনীয় হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কম্বল নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাই পরনে থাকা জ্যাকেটই ছিল ওই শীতে আমার একমাত্র ভরসা। ট্রলারের ওপরে কোনো ছাউনি ছিল না। তাই শিশিরে ভিজে যাচ্ছিল পুরো শরীর। অবশেষে আমার ঠাঁই হলো বন্ধু অয়নের কম্বলে। কম্বলে আশ্রয় পেয়ে আমি যেন প্রাণ ফিরে পেলাম। এভাবে কয়েক ঘণ্টা নদীপথে চলার পর পৌঁছালাম চালনার ঘাটে। ততক্ষণে ফজরের আজান দিচ্ছে। তখন বন্ধু সোহান বলল, ‘চল, নামাজ পড়ে আসি। সারারাত ঘুম তো হলো না। নামাজ পড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে নিলে ভালো লাগবে।’ তার কথায় সম্মতি দিয়ে নামাজ পড়লাম। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম। তারপর সব বন্ধু মিলে চালনা বাজার থেকে সকালের নাশতা সেরে নিলাম।

বিজ্ঞাপন

চালনায় সকালের নাশতা শেষে আমরা আটটায় নৌযাত্রা শুরু করলাম করমজলের উদ্দেশে। চালনা থেকে থেকে করমজলের নৌপথটা অনেক ভালো লাগছিল। যাত্রাপথে শত শত শিল্পকারখানা, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, কোস্টকার্ড ও নৌবাহিনীর ঘাঁটি এবং সবশেষে মোংলা সমুদ্রবন্দর দেখলাম। অবশেষে আমরা বেলা ১১টায় পৌঁছালাম সুন্দরবনের বিপরীত পাশের এক স্থানে, সে স্থানের নাম আমার জানা নেই। এই স্থানে আমাদের আসার কারণ, ‘খাবার রান্না করে খাওয়াদাওয়া করা’। খাওয়াদাওয়া শেষ করতে বেলা তিনটা বেজে গেল।

default-image

বিকেল সাড়ে তিনটার সময় আমরা সুন্দরবনের করমজলে ঢুকলাম। করমজলে কয়েকটি কুমির, কুমিরের বাচ্চা, হরিণসহ বিভিন্ন প্রকার ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ দেখলাম। করমজলে একটি ওয়াচটাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে সুন্দরবনটা ভালোভাবে দেখা যায়। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে অনেকটা মুগ্ধ হলাম।

ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থানরত অবস্থায় বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আজ সুন্দরবনের গভীরে ঢুকব। যেই ভাবা সেই কাজ, সবাই ঢুকে পড়লাম সুন্দরবনের ভেতরে। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে একসময় আমাদের সবার মনে বাঘের ভয় বাসা বাঁধতে শুরু করল। তখন আমরা সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে এলাম।

default-image

সুন্দরবন থেকে ঠিক সন্ধ্যাবেলা খুলনার পাইকগাছার উদ্দেশে নৌযাত্রা শুরু করলাম। ফেরার পথে মোংলা বন্দরের এক অন্য রূপ দেখলাম। হলুদ, লাল আলোতে পুরো মোংলা বন্দর এক অন্য রূপ পেয়েছিল। পুরো বন্দর হয়ে উঠেছিল কর্মব্যস্ত। অবশেষে রাত ১১টায় পাইকগাছায় পৌঁছালাম এবং শেষ হলো আমাদের সুন্দরবন যাত্রা।
আমি দেশের অনেক স্থানে ভ্রমণ করেছি। তবু সুন্দরবন ভ্রমণ আমার কাছে সব সময়ই বিশেষ কিছু। প্রতিবছর সুন্দরবন ভ্রমণের সময় দেখা হয় আমার স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে। সুন্দরবন ভ্রমণকে আমাদের জন্য একপ্রকার রিইউনিয়ন বললেও ভুল হবে না। আসছে শীতে আবারও সুন্দরবন গিয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভের আশায় আছি।

*লেখক: মো. আজিজুল হাকিম রাকিব, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

default-image
বিজ্ঞাপন
ঘোরাঘুরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন