default-image

মানুষ আর সমুদ্রের মধ্যে গভীর মিতালি সে প্রাচীনকাল থেকে। বায়ু পরিবর্তনের জন্য কিংবা নিছক আনন্দের জন্য বন্ধু-পরিজন নিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় সমুদ্রের কথা। সমুদ্রের সঙ্গে এই যে আত্মার বন্ধন, তা চাইলেও তো ছিন্ন করা যায় না। এ আনন্দ লাভের জন্য এবার সমুদ্রের ডাকে সাড়া দিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যাত্রা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে।

১৭ ফেব্রুয়ারি কুবিসাসের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের নিয়ে আনন্দের মেলা বসে কক্সবাজারে। ৪৮ জনের বহর দুই দিন যাত্রা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। শিক্ষক, বিভিন্ন সংগঠনের নেতার উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বনভোজনটি।

ওই দিন সকাল ছয়টায় বাস ও মাইক্রোবাস দুটি কক্সবাজারে পৌঁছায়। রুমে চেক ইনের পর সকালের নাশতা শেষে যেন তর সয় না সবার। বিশ্রাম না নিয়ে ছুটে যাওয়া হয় সমুদ্রে গা ভেজাতে। এ যেন সমুদ্রের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। নোনাজলে গা ভেজানো কত যে আনন্দের, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ দেখান সদ্য বিদায়ী সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছি, কিন্তু বন্ধনের মায়া এখনো সজীব। বনভোজন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব আর সৌহার্দ্য আরও গভীর হবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

কুবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আহসান হাবিব ও তাঁর স্ত্রী নাজনীনের সমুদ্রের সঙ্গে খুনসুটি চমকপ্রদ ছিল। সমুদ্রে গা ভিজিয়ে সবার চোখে–মুখে যে আনন্দ, তা যেন বলে দেয় ভ্রমণের দিনগুলোই আমাদের। বিকেলের সময়টা যেন সমুদ্রের ছোঁয়ায় শিহরণ জাগায়। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ছবির তোলা হিড়িক ওঠে। কেউ কেউ সূর্যকে হাতে, কেউ মুখের মধ্যে নিয়েছে, এমন ঢঙে ছবি ধারণ করা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

শেষ দিন দর্শনের জন্য রাখা হয় রামু বৌদ্ধবিহার আর রাবারবাগান। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়ের চূড়ায় ১০০ ফুট লম্বা গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা মূর্তি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। স্থানীয় লোকজনের মতে, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়। এর আশপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় বৌদ্ধবিহার।

default-image

রাবারবাগানের সারি সারি রাবারগাছ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। রাবার ছাড়ানোর কাজ সামনাসামনি না দেখলে বোধগম্য হতো না। একটু সামনে গেলে বাগানের ভেতরে দেখা যায় বাসভবন। তার পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে শতবর্ষের বটগাছ। তারাই যেন কালের সাক্ষী হয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছে পুরো রাবারবাগান। আর এদিকে আবার শিক্ষকদের একটা অংশ রোহিঙ্গাদের দেখতে চলে যায় উখিয়ায়। রোহিঙ্গাদের জীবনব্যবস্থা কাছ থেকে অবলোকন করেন তাঁরা।

default-image

কুবিসাসের প্রতিষ্ঠা আহ্বায়ক আহসান হাবিব বলেন, সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কটা একান্তই আত্মিক গভীরতার। এর প্রত্যেক কলাকুশলী আত্মার স্বজন। যেকোনো সম্পর্ককে অধিকতর হৃদ্যতাপূর্ণ করতে ভ্রমণের মতো ‘ইনফরমাল’ আয়োজনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবারকার এই সফরও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তসম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সম্পর্কের এই নতুন মাত্রা কুবিসাসের আগামী দিনের পথচলাকে সমৃদ্ধতর করবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

ক্লান্তি আর বিষণ্নতা থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে ও সজীবতা পেতে প্রতিবছর বনভোজনের আয়োজন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

  • লেখক: মো. জয়নাল আবেদিন, শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • নাগরিক সংবাদে লেখা পাঠান [email protected]

বিজ্ঞাপন
ঘোরাঘুরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন