বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৭ সালে একবার ২৮ থেকে ২৯ ঘণ্টার যাত্রা শেষে চেন্নাই গিয়েছিলাম, কলকাতা থেকে। দীর্ঘ এ যাত্রায় ট্রেনে আমাদের সিটের নিকটতম সহযাত্রী ছিলেন কলকাতার এক ভদ্রমহিলা। যদিও জন্ম তাঁর অন্য রাজ্যে—সম্ভবত গুজরাটে। তিনি চারটা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন। সাময়িক আলাপে এত আপন করে নিয়েছিলেন, বিরক্তিকর দীর্ঘ যাত্রাটা বেশ পারিবারিক আবহেই কেটে গিয়েছিল। রীতিমতো নিজের বাড়িতে দাওয়াতও দিয়েছিলেন—নিজের পরিচিতি কার্ড, ঠিকানা ইত্যাদি দিয়ে।

এমনিভাবে সিমলা যাওয়ার পথে ট্রেনে খুব স্বল্পসময়ের জন্য এক বাংলাদেশি ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। দীর্ঘ সে যাত্রা ভাগ্যের ফেরে আমরা দাঁড়িয়েই পার করি। তবে উনি এবং ওনার বন্ধুরা আমাদের পর্যায়ক্রমে বসতে দিয়েছিলেন বটে। এ রকম অভিজ্ঞতা ভাবতে বসলে আরও পাওয়া যাবে। চিন্তা করে দেখলাম, দেশের ভেতরকার ভ্রমণে সঙ্গী–সাথির সংখ্যা এত বেশি থাকে যে নতুন কারও সঙ্গে ওভাবে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয় না। নিজেদের মধ্যে কথা বলেই কেটে যায়। একা বা অল্প কয়েকজন নিয়ে গেলেই নতুনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারটা সম্ভব হয়।

এই যে ক্ষণিকের পরিচয়, সাময়িক বন্ধুত্ব—এ ব্যাপারগুলো কী আশ্চর্য না? আমি জানি, জীবনে তাঁর সঙ্গে আমার আর কোনো দিনই দেখা হবে না। প্ল্যাটফর্মে পা রাখা মাত্র দুজন দুদিকে চলে যাব এবং কোনো দিনই আর সেই পথ এক হবে না। শুধু সাময়িকভাবে জানলাম, চিনলাম, জীবনের খাতায় দাগ কেটে গেল। আগন্তুকের মতো জীবনে পদার্পণ ঘটে এদের, সেভাবেই চলে যায়। কী অসাধারণ!

ভ্রমণের সুযোগ চলে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সেসব ক্ষণিকের সাহচর্যকে ভীষণভাবেই মিস করি...
সবশেষে আরেকটি কথা যোগ করি। দুঃখজনকভাবে সম্পর্ক ধরে রাখতে আমি খুব একটা পটু না। এই পথিকদের সঙ্গে আমার পথেই পরিচয় আর সেখানেই সমাপ্তি—কারও সঙ্গেই আমার পরে আর যোগাযোগ হয়নি। এর জন্য দায়ী আমি নিজেই, সেসব ঠিকানা আমি গুছিয়ে রাখতে পারিনি।
এ রকম কোনো পথেই দেখা মেলে আগন্তুকদের।

*লেখক: অংকন ঘোষ দস্তিদার, শিক্ষার্থী, বুয়েট

ঘোরাঘুরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন