default-image

বসন্তকালে প্রকৃতি যখন নবরূপে সতেজ সাজে নিজেকে সাজায়, ঠিক তখনই ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমণের টানে বেরিয়ে পড়ার হিড়িক আসে। মন আনচান করে দূরে কোথাও ঘুরে আসতে, যার অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জাগতিক ক্লান্তি মুছে দিয়ে মনকে করবে চাঙা। জীবনকে করবে আরও উৎফুল্লময় ও বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তাই বলছি, এবারের বসন্তে ঘুরে আসতে পারেন সুনামগঞ্জের বারিক্কা টিলা, শিমুলবাগান, জাদুকাটা নদী অথবা নীলাদ্রি লেক। তবে নীলাদ্রি লেকে ঘুরে আসার আহ্বান জানাই।

নীলাদ্রি লেক কী

প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক, যদিও লোকে নীলাদ্রি নামে চেনে। নীলাদ্রি লেক মূলত চুনাপাথরের পরিত্যক্ত লাইমস্টোন লেক। নীল স্বচ্ছ জলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের কারণে এটি ‘নীলাদ্রি’ নামে পরিচিত। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাটে নীলাদ্রি লেক অবস্থিত।

নীলাদ্রি লেকে কেন যাবেন

নীল রঙে রূপায়িত ‘নীলাদ্রি’। এ যেন নীলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া। হ্যাঁ, নীলাদ্রির কথা বলছি। ভাবছেন এটা আবার কী? এই স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ভরা জায়গাটা কাশ্মীর নয়, আমাদের দেশেই! কী, অবাক হচ্ছেন? ছবি দেখে কাশ্মীর ভেবে ভুল করবেন না, একে নীলাদ্রি নামেই চেনে সবাই।

নীলাদ্রি লেককে অনেক পর্যটক ‘বাংলার কাশ্মীর’ বলে অভিহিত করে। নীলাদ্রি লেক হচ্ছে অনেক টিলা–পাহাড়ের সমারোহ, যার একপাশে রয়েছে নীল জলের স্বচ্ছ লেক, আবার স্বচ্ছ জলের মাঝখানেও রয়েছে ছোট ছোট ঢিলা। অদূরে ভারত সীমান্তে সুউচ্চ সুবিশাল সবুজ পাহাড়। স্বর্গীয় সৌন্দর্যের আধার। যেখান থেকে ভেসে আসে পাহাড়ের ওপর জন্মানো গাছের পাতার সঙ্গে হাওয়ার মিতালি সুরসংগীত।

বিজ্ঞাপন

নীলাদ্রি লেকের জলে অবগাহন করামাত্র আপনি ভুলে যাবেন ভ্রমণকষ্ট ও সব জাগতিক ক্লান্তি। মনে হবে, সারা দিন এখানেই জলে অবগাহন করি। তবে মনে রাখবেন, বেশিক্ষণ জলে অবগাহন করা যাবে না, কারণ সর্দি লেগে যেতে পারে। পাহাড়-টিলা আর লেকের স্বচ্ছ জলের প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনার প্রাণে আনবে অনাবিল শান্তির আবেশ।

নীলাদ্রি লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আপনি নৌকা পাবেন। জলে অবগাহনের সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পাহাড়ের ওপর জন্মানো কলাপাতার সঙ্গে বাতাসের সম্মিলিত সুরসংগীত শুনতে পাবেন।

default-image

নীলাদ্রি লেকের পাশে রয়েছে সিমেন্টের তৈরি বসার জায়গা। সেখানে বসেও সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। পাশেই রয়েছে চায়ের টং দোকান। চায়ে চুমুক দিতে দিতে উপভোগ করতে পারেন অপার্থিব সৌন্দর্য। জলের তেষ্টা পেলে ধারেকাছেই কিনতে পাবেন ডাব।

নীলাদ্রির পাশে রয়েছে রেলস্টেশনের পুরোনো জংধরা ইঞ্জিন-বগি, যা দিয়ে একসময় পাথর নেওয়া হতো। এখানে দাঁড়িয়ে আপনি চাইলে ছবিও তুলে নিতে পারেন। অবশ্য ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার জন্য দক্ষ ফটোগ্রাফার সেখানে পাওয়া যায়। ফটোপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা।

নীলাদ্রি গেলে আপনি চাইলে টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাটা নদী, শিমুলবাগানও দেখে আসতে পারেন। এক ঢিলে চার পাখির মামলা। তবে হাতে বেশি সময় নিয়ে যেতে হবে। যাতে সব ঘুরে আসা যায়। সে জন্য সকাল সকাল পৌঁছালেই ভালো হয়।

নীলাদ্রি বা শহীদ সিরাজ লেকে কীভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাসে সরাসরি নেত্রকোনায় আসতে হবে। নেত্রকোনা রাজুর বাজারে ভাড়ায় চালিত বাইক রয়েছে। শুকনো মৌসুমে নীলাদ্রি লেক যেতে হলে বাইকে উঠতে হবে। বাইকে কলমাকান্দা হয়ে মহেশখোলা দিয়ে পৌঁছাতে পারেন গন্তব্যস্থল নীলাদ্রি লেকে। যেতে যেতে যাত্রাবিরতিও দিতে পারেন। কারণ, বেশ লম্বা একটা ভ্রমণ বলে কথা। মহেশখোলা যাত্রাবিরতি নিয়ে সস্তায় কমলা খেতে পারেন কিংবা এক কাপ চা। যেহেতু অনেক দূরের ভ্রমণ, তাই সকাল সকাল বের হওয়াই শ্রেয়।
যাওয়ার পথে আপনি অনুভব করবেন গ্রামীণ পরিবেশ ও সংস্কৃতির স্বাদ। মাটির রাস্তার দুপাশে সারি সারি সবুজ গাছগাছালি। রাস্তার অদূরে সুবিশাল সবুজ পাহাড় চোখ জুড়াবে আপনার। রাস্তার পাশে সুবিশাল বিস্তীর্ণ মাঠে দেখতে পাবেন সবুজ ধান। সবুজ ধানের ওপরে মুক্তোর মতো সকালের শিশিরবিন্দু। তাতে চিকচিক করছে সকালের নরম রোদ্দুর।

*লেখক: মো. মাহাবুবুর রহমান, উদ্যোক্তা।

বিজ্ঞাপন
ঘোরাঘুরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন