স্মৃতির পাতায় অধ্যাপক হোসনে আরা চারু
১৯৫৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বগুড়া জেলায় বাবা মাহতাবউদ্দিন সরকার ও মা শাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান হিসেবে পৃথিবীতে আগমন অধ্যাপক ডা. হোসেনে আরা চারুর। মেধাবী হিসেবে ১৯৬৭ সালে প্রথম বিভাগে বগুড়া ভিএম গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৬৯ সালে প্রথম বিভাগে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৭৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, আইপিজিএমআর থেকে অ্যানাটমিতে এমফিল, ১৯৮৫ সালে স্কটল্যান্ডের সেন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি, ১৯৯৮ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে এমফিল এবং ২০০৫ সালে এফসিপিএস সম্পন্ন করেন।
কর্মকাল
অ্যানাটমি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে, সহকারী অধ্যাপক হিসেবে, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হিসেবে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও আইপিজিএমএন্ডআর এ ১৯৭৪-২০০৩ সময়ে শিক্ষক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কর্মসম্পাদন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০-০৩ সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ, ২০০৩-০৬ সময়ে অধ্যক্ষ, ২০০৬-১০ সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান। অবসরপরবর্তী সময়ে তিনি ২০১০-১৭ সময়ে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রীড়াঙ্গন ও সেবামূলক কার্যক্রমে অবদান
একজন সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে ১৯৭০-৭৪ সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন, ১৯৭২ সালে আন্তমেডিকেল কলেজ স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন, ১৯৭২-৭৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য হিসেবে ২০০৩-০৬ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অ্যানাটমিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সহসভাপতি হিসেবে ২০০০–০৬ মেয়াদে এবং সভাপতি হিসেবে ২০০৯-১০ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
বৈবাহিক জীবন
১৯৭৭ সালের ৬ নভেম্বর তিনি বগুড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তাজমিলুর রহমানের সেজ ছেলে অধ্যাপক ডা. তাহমিনুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্বামী উপাধ্যক্ষ হিসেবে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৩ কন্যাসন্তান, যথাক্রমে ডা. তাব্বাসুম তাহমিন সজনী, ডা. তানজিলা তাহমিন স্বর্ণালী এবং তিলোত্তমা তাহমিন স্বরূপার মা। তাঁর আফরাজ রায়ান মুরসালিন নামের এক নাতি রয়েছে।
একজন সফল চিকিৎসক, একজন সফল অধ্যাপক, একজন সফল ক্রীড়াবিদ,একজন সফল সংগঠনক, একজন সফল জননী এবং একজন সফল নারী হওয়ায় তিনি তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৬ সালে অনন্যা পুরস্কার লাভ করেন।
স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রত্যুষে তিনি পরলোকে যাত্রা করেন। পরিসমাপ্তি ঘটে এক অসাধারণ নারীর পথচলা। যিনি আমাদের নারীদের অন্যতম পথিকৃৎ হয়ে রইলেন।।
নাগরিক সংবাদ, জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]