প্রেমিকার জার্নাল

তোমার পথচলার নৃত্যে জেগে ওঠে—ধূলিকণা। দিলে এসে ধাক্কা খায়—প্রেমের আলতো ঢেউ। তোমার পদচুম্বনে ওদের ঠোঁটে ফোটে হর্ষমিছিল। একতারা হাতে করে ওরা দাঁড়িয়ে কল্লা দোলাতে দোলাতে মন ঢালে প্রেম পেয়ালায়। দিন হয় তোমার‚ রাতও হয়। একতারা হতে টকটক করে ঝরতে থাকে—প্রেমের মদ।...সেই প্রেমমদ বৃষ্টি হয়; বাতাসে করে পৌঁছে যায়—পুরো ধরিত্রীপুরে। পৃথিবী যেন—প্রেমের আড়ত। তোমার প্রেমমাখা চলন; যেন—এক কমলারঙা শুক্রবার। প্রণয়ের সুর টেনে টেনে আমাকে স্বাগত জানায় ঘুমভাঙা ওই ধূলিকণা। বলে—আহলান‚ বলে—সাহলান। আহ্লাদী সুরে; বলে ওঠে—মারহাবা। কারণ; আমিই তো তোমার শুদ্ধতম প্রেমিক।

এভাবেই তুমি চলো—

চলতে থাকো। তুমি হাঁটতে থাকো; অবিরত। কত সুন্দর আর মোলায়েম তোমার স্যান্ডেল জোড়া; প্রাণপতির রক্তবিন্দুর দামে খরিদ করা। কত শান্ত আর নীরব তোমার পা যুগল; প্রেম দিয়ে কেনা। পায়ের সঙ্গে জুতো আর দুটোর সঙ্গে তোমার; কত আশ্চর্য মিল। একদম মানানসই—কবিতার ছন্দের মতন। তবুও তুমি হোঁচট খাও। পড়ে যাও—দোল খেতে খেতে। যেভাবে হোঁচট খায় এভারেস্টসম উঁচা চপ্পল পায়ে পরা—চীনা রমণী। আমি জানি না সেটা কার গুণ! পায়ের, নাকি জুতা জোড়ার। তোমার দোল খেয়ে পড়ে যাওয়ার সেই ক্ষণটাতেই—কাঁটা ফোটে দিলে। আমার ভোগান্তি বাড়ে—নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতায়। যে নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে স্রেফ দিল থেকে দিল।

দেখে যাও একবার হলেও—

বিচ্ছেদের হুলুস্থুলে পঙ্খিকুল আকাশ ত্যাগ করে; ডানা ঝাপটে ঝাপটে নেমে পড়ে খোদার জমিনে। মাটিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে একে একে মরে যায় সবগুলো—আবাবিল। আর ওই পানকৌড়ির দল; যারা অবলোকন করতে চায়—প্রেম রাউন্ড; বেলা শেষে প্রেমসুধা পান করতে না পারার বেদনায় চোখ জোড়া বুজে আসে ওদের। শেষমেশ তেষ্টার জ্বালায় দুনিয়া ত্যাজে একে একে। আর ওদের রাহবার পাখিটা; যাকে আমি পরিচয় করতে পারতাম না। তুমিই আমাকে চেন-পাঁহচান দিয়েছিলে‚ ঠিক এভাবে; ‘তার আঁখি দুটিতে বয়ে চলে—প্রেমনদ।’ সেও নিজেকে উৎসর্গ করে প্রেমবৃত্তান্তে। জেনেশুনে চুমু দেয় বিষের পেয়ালায়। সেও মরে। মরে যায় একসময়। তবে তার মরণে অন্যদের থেকে কত তফাত দেখি আমি। তার মরণে পৃথিবী টেনে ধরে শোকের চাদর। তার প্রেমের ন্যায় তার মরণটাও হয়ে ওঠে অতুল্য।