ঢাবি লোকপ্রশাসন অ্যালামনাইয়ের কৌশলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কখনো কখনো একটি কর্মশালা কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়ে থাকে না; এটি হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকার ক্যানভাস। কিছু মানুষের মিলন তখন কেবল উপস্থিতির হিসাব নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানের আগামী পথচলার ভিত্তিপ্রস্তর। এমনই এক প্রত্যাশা, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত অঙ্গীকারের পরিবেশে শনিবার ১১ জুলাই মুন্সিগঞ্জের মাওয়াঘাটের পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়া-১-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডুপা) কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬-২৭-এর ‘কৌশলগত পরিকল্পনা কর্মশালা ২০২৬’।
বর্ষার স্নিগ্ধতা, পদ্মার বিশালতা আর প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য যেন দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছিল। সারা দিনের রিমঝিম বৃষ্টিতে চারপাশ যখন ধুয়েমুছে নির্মল, তখন ডুপার নেতারা ভবিষ্যতের একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও প্রাণবন্ত অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার রূপরেখা প্রণয়নে ছিলেন নিবিষ্ট। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা ছিল চিন্তার মুক্ত বিস্তার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা।
দিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করেন ডুপার প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। সূচনা বক্তব্যে ডুপার মহাসচিব ও অতিরিক্ত সচিব এএসএম হুমায়ুন কবীর কর্মশালার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। সেশন পরিচালনা করেন ডুপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কর্মশালা বাস্তবায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক ড. এ কে এম সাইফুল্লাহ্, যিনি আলোচনাকে সুসংগঠিত ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডুপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিকী; ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ফরহাদ জেসমীন লিটি; ডুপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ; যোগাযোগ-প্রকাশনা সম্পাদক ও যুগ্ম সচিব রত্না শারমীন ঝরা; সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডেভেলপমেন্ট প্রাকটিশনার হোসনে আরা বেগম; সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মঈনা খাতুন তুলি; যুগ্ম শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোসা. শামসুন্নাহার হীরা; মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক ও এসবিএসি ব্যাংকের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আসাদুল্লাহিল গালিব; দপ্তর সম্পাদক ও ব্যবসায় উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম; কার্যনির্বাহী সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আসাদুল মাহবুব সালাম (নিপু); সমাজকর্মী মোহাম্মদ এরশাদ খান, ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপক (সিনিয়র সহকারী সচিব) রফিকুল হক এবং ব্যবসায় উদ্যোক্তা মো. সাইফুল্লাহ। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যা আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
ব্রেনস্টর্মিং সেশনে ‘ড্রিমিং ফিউচার ডুপা’, ‘ড্রিম টার্নিং ইনটু রিয়েলিটি’ এবং ‘অ্যাকশন প্ল্যান প্রিপারেশন’ শীর্ষক বিষয়গুলোর ওপর হাতে–কলমে বিস্তারিত আলোচনা ও দলভিত্তিক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ডুপার দীর্ঘমেয়াদি ভিশন, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনের কৌশল এবং সেসব বাস্তবায়নের জন্য সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। আলোচনা শেষে প্রাপ্ত সুপারিশগুলোর আলোকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কর্মশালায় ডুপাকে একটি আধুনিক, গতিশীল ও পেশাদার অ্যালামনাই সংগঠনে রূপান্তর করা। কীভাবে অ্যালামনাইদের মধ্যে আরও দৃঢ় যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়, কীভাবে তরুণ ও প্রবীণ গ্র্যাজুয়েটদের অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধ তৈরি করা যায়, কীভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতা, জ্ঞান বিনিময়, পেশাগত উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়; এসব বিষয় নিয়ে হয় প্রাণবন্ত আলোচনা।
সভাপতির বক্তব্যে জালাল আহমেদ বলেন, একটি সংগঠনকে দীর্ঘ মেয়াদে সফল করতে হলে পরিকল্পিত চিন্তা, ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনা এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, এই কর্মশালা শুধু ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য নয়; বরং এটি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বিশ্বাস ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের এই উদ্যোগ আগামী দিনের ডুপাকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও অনুকরণীয় সংগঠনে পরিণত করবে।
ডুপা মহাসচিব এ এস এম হুমায়ুন কবীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি অ্যালামনাই সংগঠনের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততায়। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডুপার কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ডুপার ইতিহাসে কৌশলগত পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কর্মশালা প্রথম। এই কর্মশালায় গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ডুপা শুধু সদস্যদের জন্যই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বৃহত্তর সমাজের জন্যও একটি কার্যকর ও অনুপ্রেরণাদায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
কর্মশালার একফাঁকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হওয়ায় রত্না শারমীন ঝরাকে ডুপার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। দিন শেষে যখন পদ্মার বুকে সন্ধ্যার আলো নেমে আসে, তখন যেন কর্মশালার প্রতে৵ক অংশগ্রহণকারীর মনেও জ্বলে ওঠে নতুন প্রত্যয়ের দীপশিখা। দিনের আলোচনা, মতবিনিময় ও সিদ্ধান্তগুলো কেবল একটি সভার কার্যবিবরণী নয়; এগুলো ছিল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সম্মিলিত অঙ্গীকার। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে উচ্চারিত সেই প্রতিশ্রুতিগুলো যেন পদ্মার স্রোতের মতোই বহমান থেকে আগামী দিনের ডুপাকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও মানবিক সংগঠনে রূপ দেওয়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে।