নৌঘাটে প্রবেশমূল্য: ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা

ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

বাংলাদেশের নৌপথ বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। তবে লঞ্চঘাটে প্রবেশের সময় যাত্রীদের ‘প্রবেশমূল্য’ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা যেন এক নতুন ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। দেশের অন্য পরিবহনব্যবস্থা যেমন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল বা বিমানবন্দরে সাধারণত কোনো প্রবেশ ফি নেওয়া হয় না, কিন্তু লঞ্চঘাটে প্রবেশ করতে গিয়ে যাত্রীদের এমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদযাত্রার মতো ব্যস্ত সময়ে বিষয়টি যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়, যা আসলে পরিষ্কারভাবে একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ বলে মনে হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিলেও, লঞ্চঘাটের অবস্থা প্রায়ই যে যাত্রীর জন্য নিরাপদ বা সুবিধাজনক নয়, সে বিষয়ে সবাই অবগত আছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই প্রবেশমূল্য আদায় করা হয় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য, যাতে টার্মিনাল ও তার আশপাশের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকে। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কিছু—অধিকাংশ লঞ্চঘাট এখনো অপরিচ্ছন্ন, যেখানে ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি, দুর্গন্ধ আর বিশৃঙ্খলা। এ ছাড়া নিরাপত্তার নামে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা কার্যত অপারেশনাল নয়; যাত্রীদের ব্যাগ হারিয়ে যাওয়া কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটা নিত্যদিনের ব্যাপার। এমনকি কর্তৃপক্ষও এসব বিষয়ে কখনো দায় নিতে চায় না। সর্বোপরি টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও তা শুধু ফাঁকা বুলি হয়ে থাকে।

যদিও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ঈদে লঞ্চের ভাড়া বেশি নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য গতি নির্ধারণের কথা বলেছে, তবু লঞ্চঘাটে প্রবেশমূল্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিতর্ক অব্যাহত। মূলত এই ফি আদায়ের কোনো সঠিক ও যুক্তিসংগত কোনো ভিত্তি নেই। এর কোনো প্রকৃত সুবিধা বা ব্যবস্থাপনা যাত্রীদের জন্য কার্যকরী নয়; বরং এটি একটি বাড়তি বাধা ও বিড়ম্বনা। বিআইডব্লিউটিএ বা স্থানীয় প্রশাসন যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তাহলে হয়তো যাত্রীরা আরও স্বস্তিতে থাকতে পারতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সঠিক সমাধান আসেনি, যা যাত্রীদের জন্য হতাশাজনক।

বাংলাদেশের নৌপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনব্যবস্থা, যা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই খাতে মানুষের আস্থা বজায় রাখার জন্য, প্রবেশমূল্যের মতো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করা জরুরি। যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা, টার্মিনালের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় না করা—এটাই হতে পারে কার্যকর সমাধান। সরকারের উচিত, যাতে লঞ্চঘাটগুলোকে সত্যিই যাত্রীবান্ধব করে তোলা যায়, যা জনস্বার্থে এক বৃহৎ পদক্ষেপ হবে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দরকার। সরকার যদি চোখ তুলে এসব বিষয়ের দিকে আরও ভালোভাবে নজর দেয়, তাহলে যাত্রীরা নৌপথের যাত্রায় স্বস্তি ফিরে পাবে। তাই সরকার দৃঢ় সহায়তা কামনা করছি।

* লেখক: ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন, শিক্ষার্থী, মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

নাগরিক সংবাদ-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভ্রমণ, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]