শহরের শব্দগুলো আজ অন্য রকম

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাস্তায় বের হয়েই নীলা বুঝল, আজকের শহরটা যেন আগের মতো নেই।

রিকশার লাইনে মানুষের ভিড়, বাসস্ট্যান্ডে ধাক্কাধাক্কি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে দীর্ঘ লাইন—পেট্রলপাম্পে।

নীলা তার ছোট ভাইকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে দেখল, একটা পাম্পের সামনে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। কারও হাতে বোতল, কারও হাতে ক্যান, কেউ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।

‘তেল নেই আপা,’ একজন ড্রাইভার বিরক্ত গলায় বলল, ‘দুই দিন ধরে ঘুরতেছি।’

নীলা কিছু বলল না। শুধু মনে মনে ভাবল—এই শহরে এখন শুধু সময় নয়, ধৈর্যও যেন ফুরিয়ে যাচ্ছে।

বিকেলের দিকে খবরের কাগজ খুলতেই চোখ আটকে গেল শিরোনামে।

‘ধর্ষণ, হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা—ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ’

নীলার বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। প্রতিদিনই এমন খবর। কখনো নাম জানা যায়, কখনো অজানা থেকে যায়। কিন্তু প্রতিটি খবরের পেছনে একটা পরিবার ভেঙে যায়—এটা কেউ শিরোনামে লেখে না।

তার পাশের বাসার আন্টি বলছিলেন, ‘এখন তো মেয়েদের একা বের হওয়াই ভয় লাগে।’

নীলা চুপ করে শুনছিল। সে নিজেও তো প্রতিদিন বের হয়, কিন্তু ভেতরে–ভেতরে একটা অজানা ভয় তাকে ঘিরে রাখে—বাসে উঠলে, রাস্তা পার হলে, সন্ধ্যা নামলে।

রাতে বিদ্যুৎ চলে গেল। অন্ধকার ঘরে বসে নীলা জানালার পাশে দাঁড়াল। বাইরে দূরে কোথাও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যাচ্ছে। হয়তো আবার কোনো দুর্ঘটনা, কোনো আহত মানুষ, কোনো কান্না।

তার মনে হলো, এই শহরের প্রতিটি শব্দ এখন ক্লান্ত—হর্ন, চিৎকার, খবরের শিরোনাম, মানুষের হতাশা।

কিন্তু হঠাৎ করেই ছোট ভাইটা বলল, ‘আপু, কাল আবার স্কুলে যাব তো?’

নীলা হালকা হেসে বলল, ‘যাবি না কেন?’

তার এই ছোট্ট প্রশ্নটাই যেন নীলার ভেতরে একটু আশা জাগিয়ে দিল।

এসব অস্থিরতার মধ্যেও জীবন থেমে থাকে না। মানুষ বাঁচে, স্বপ্ন দেখে, আবার নতুন করে শুরু করে।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]