আবারও ভাইরাসের দাপট বনাম আমাদের প্রস্তুতি!

ফাইল ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাসের দাপটে ২০২০ সাল থেকে পুরো বিশ্ব এখনো তার প্রভাব বয়ে বেড়াচ্ছে। জীবাণু নিয়ে যাঁরা একসময় অট্টহাসি হেসেছেন, জীবাণুকে যাঁরা পাত্তা দেননি, করোনাভাইরাস তাদের জীবাণুর দাপট বুঝিয়েছে। হ্যাঁ, জীবাণুর গতিপথ আর মিউটেশন আজ পর্যন্ত সঠিকভাবে কেউ বুঝতে পারেনি। স্থান, কাল, পাত্রভেদে এরা দ্রুত রূপ বদলায়। বৃষ্টিতে ভিজেও যেমন জ্বর আসে আবার প্রখর রোদে পুড়েও জ্বর আসে। ভেজাল খেয়েও যেমন পেট খারাপ হয়, তেমনই খুব ভালো খেয়েও পেট খারাপ কেন হয়, সেটাই বোঝা দায়!

কোভিডের পরে নিপাহ ভাইরাস, হাম, হান্টা আর এখন আবারও ইবোলাভাইরাস ফিরে এসেছে মহাক্ষমতা নিয়ে কঙ্গোয়। তবু কি আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই! ঘুরেফিরে আবারও কেন এসব ভাইরাস ফিরে আসছে। বিভিন্ন প্রজাতির এসব ভাইরাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে মানুষে ছড়াচ্ছে। আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অভ্যাস, খাদ্য আর ওষুধের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় দিনের পর দিনে এসব ভাইরাসের তাণ্ডবলীলা বেড়েই চলেছে এবং বাড়তে থাকবেই।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

এখনই সময়, প্রতিটি সেক্টর এ মাইক্রোবায়োলজিস্ট নিয়োগ করে এসব ভাইরাসের গতিপথ, নিয়ন্ত্রণ আর প্রতিকার-প্রতিরোধ সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা আর এর জন্য যথেষ্ট বাজেট নিরূপণ করা। কোভিডের পরও কতটুকু গুরুত্ব বেড়েছে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের!

ডাক্তার-মাইক্রোবায়োলজিস্ট সম্মিলিত উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে এসব ভাইরাস নিয়ে এখনই কাজে না করলে সামনের বাংলাদেশ অনেক কঠিন সময় পার করবে। শুধু টিকা নয়, টিকার সঠিক প্রয়োগ, ভাইরাসের বিস্তার আর আটকানোর পথ তৈরি করে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

  • লেখক: মনোজিৎ কুমার রায়, মাইক্রোবায়োলজিস্ট