মামদানির সৃজনশীল সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলের খোঁজে
১ জানুয়ারি ২০২৬, নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জোহরান মামদানি। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর মতো চমক আর কেউই দেখাতে পারেননি। নিউইয়র্ক সিটির সব সমাজিক ও ঐতিহাসিক ট্যাবু একাই ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর পরিচয়ে তিনটি সত্তা—আমেরিকান, মুসলিম ও আফ্রিকান! এমন পরিচয়ে রাজনৈতিক বিজয় বিরল ঘটনা এবং একই সঙ্গে অত্যাশ্চর্যজনক ইতিহাসের নজির। নির্বাচনের রেশ থেমে গেছে অনেক আগেই, কিন্তু এখনো বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচনা ও বিশ্লেষণের শেষ টানা যাচ্ছে না। নানা রহস্য ভেদ করছেন গবেষক ও সামাজিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষণবিদেরা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে এশীয় বংশোদ্ভূত এমন বালক বীরের অভূতপূর্ব জয় কারও কল্পনাতেও ছিল না। ঘটনাটি কারও কারও কাছে অলৌকিকের মতো মনে হলেও, তা বাস্তবে হয়ে গেল লৌকিক। কেন হলো, কীভাবে হলো, তা মোটাদাগে জেনে গেছেন সবাই। এখানে মামদানির সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনকে আলোকপাত বা পর্যালোচনা করার চেষ্টা করব।
বিশ্বজুড়ে নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচন ঘিরে এখন এটাই হুক পয়েন্ট। মামদানির সৃজনশীল সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলের নেপথ্যে আদতে কীভাবে কাজগুলো ঘটেছিল! একটি ফোকাস কীভাবে এলইডি বাল্বের মধ্যে সন্নিবেশিত হয়ে মূল ফোকাস হয়ে লাখো নাগরিকের মুখে আলো ফেলল! বিজয়ের পর সবাই বলছেন, মামদানির সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিই ছিল উত্থান জয়ের মূল চালিকা সূত্র! এটা তো সত্যই, সোশ্যাল মিডিয়া দিয়েই তিনি আজ আকাশে জাজ্বল্যমান ধ্রুবতারা। কিন্তু আমরা মেলাতে পারছি না, সেটা কেমন করে, কীভাবে এত নিঁখুত করে বাস্তবায়িত হলো। এর সূত্র কোন গোড়ায় বা উৎসমূল কোথায়!
নির্বাচনী প্রচারণা-প্রপাগান্ডা শুধু টাকা ঢেলে সফল হয় না। তাহলে তো তার অপজিশন প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ব্যয় করেছেন আকাশচুম্বী মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার! মামদানির জন্য চ্যালেঞ্জিং জায়গাটি ছিল বহুভাষিক, বহুসংস্কৃতির নিউইয়র্ককে সুনির্দিষ্ট এজন্ডা দিয়ে একত্র করা। যে নিউইয়র্কবাসী ৮০০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলে, প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়ে। এক–তৃতীয়াংশেরও বেশি নাগরিক জীবনযাত্রায় প্রান্তিকতার অভিশাপে! তার ম্যাজিকটা এখানেই দেখিয়েছেন। তিনি কী করে সবার প্রতিবিম্ব হয়ে উঠলেন!
আমি এখানে ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যবচ্ছেদ করে অনুসন্ধান শুরু করতে চাইছি। এর প্রধান কারণ, এখানে আমরা অনেকটা মিল খুঁজে পাই মহাত্মা গান্ধীর ভারতবাসীকে একত্র করার কৌশলের সঙ্গে। যদিও পুরো ভারতকে একত্র করা আর ভারতবাসীকে একত্র করা এক বোঝায় না। তাহলে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামও চলে আসে। মহাত্মা গান্ধী ভারতীয়দের একত্র করেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য। ব্রিটিশ ভারতে ৫৬৫টি প্রিন্সলি স্টেট ছিল। ব্রিটিশ সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল যে এই প্রিন্সলি স্টেটগুলো চাইলে স্বতন্ত্র থাকতে পারবে। অর্থাৎ ৫৬৫টি নতুন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র তৈরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এটা হয়নি তাঁদের জন্য। নিউইয়র্কের মতো পুরো ভারতও ছিল বহুজাতিক, বহু ধর্ম-বর্ণের।
ডানপন্থী লোকেরা মামদানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিতে বামপন্থী নীতিগুলোকে ক্ষমা না করে গ্রহণ করার জন্য তাঁকে ব্যাপকভাবে ঘৃণা করেছিল। রক্ষণশীল কর্মী ক্রিস্টোফার রুফো এক্সে লিখেছিলেন, ‘তার ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক; কিন্তু তার উপস্থাপনা আকর্ষণীয়।’‘তিনি এমনকি “শহরের মালিকানাধীন মুদিদোকান”—তৃতীয় বিশ্বের কমিউনিজমের ইতিহাস থেকে সরাসরি নেওয়া একটি ধারণা—একটি মিমে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।’
গান্ধী এমন একটি রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করেছিলেন, যা পৃথিবীতে ছিল নতুন। যেখানে সত্য ও অহিংসার ওপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। তিনি ভারতীয়দের ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি চাকরি, আদালত ও ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার আহ্বান জানান। এই অসহযোগ আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কৌশলে আরও ছিল কৃষকদের ওপর করের চাপ প্রত্যাহার, নারী মুক্তি, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং জাতিগত বৈষম্য সম্প্রীতি বজায় রাখার কাজ। বিশ্বের সব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রচলিত সংগ্রামের প্যাটার্নগুলোর একেবারে বাইরে গিয়ে গান্ধী এসব কৌশল দিয়ে ভারতীয়দের আলোকিত করে তেলেন। মামদানির পলিটিক্যাল স্কুলিংটা অনেক গভীরে, তা বুঝতে পারছি না আমরা। কৌশলটাই এমন যে সেটাকে অন্য কোনো দেশের নেতারা তাঁদের নির্বাচন ক্যাম্পেইনে কপি করতে পারবেন না। গান্ধীর কৌশলটাও পৃথিবীর অন্য দেশে কপি পেস্ট করা যায়নি।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো মাদানির পরিচয়কে ‘মুসলিম’ কৃতিত্ব বলে যতটা ঘটা করে সামনে এনেছে, ততটা অগ্রাধিকার দেয়নি ‘সমাজতান্ত্রিক এজেন্ডার’মেনিফেস্টোকে। দেশের মুসলমানিত্বকে তারা খুশি রেখেছে ব্যবসায়িক পাঠকপ্রিয়তার জন্য। এতে করে পরিচয় কেবল আমাদের দেশেই প্রকটারে হয়েছে। অথচ মামদানি মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়ে অংশগ্রহণ করলেও মূল ক্যাম্পেইনে ১০ লাখের বেশি মুসলমানের কাছে একবারও ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেননি ‘আমি মুসলমান’ তাই জাতি ভাই হিসেবে আমাকে ভোট দিন! বলেননি কোরআন সুন্নাহর আলোকে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করব। সমাজতান্ত্রিক আদলে নাগরিক ইস্যুগুলো মূল প্রচারণা প্রতিষ্ঠা দিলেও একবারও উচ্চারণ করেননি ‘মার্ক্সবাদ-লেলিনবাদ’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই! তিনি বরং নিজেকে একজন বার্নি স্যান্ডার্স প্লেবুকার হিসেবে নর্ডিক সামাজিক গণতন্ত্রকে প্রকাশ করেন। যিনি (বার্নি স্যান্ডার্স) আধুনিক আমেরিকান প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন অন্যতম গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নেতা। তো বিড়াল সাদা না কালো সেটা মুখ্য না হয়ে, সে ইঁদুর মারে কি না, সেটাই আসল পরিচয় হয়ে উঠল।
নির্যাতিত, অবহেলিত, দুঃখ–কষ্টে থাকা মানুষের ভাষা পৃথিবীজুড়ে একই। তাঁদের কান্নার লোনাজলের ভার কেউই বইতে চায় না, দেখতেও চায় না। মামদানি সেখানেই পৌঁছেছেন। তাঁর প্রচার বামপন্থী নীতিগুলোকে তুলে ধরতে বা বিরোধী এবং সমালোচকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে ভয় পায়নি। হ্যাঁ, মামদানির পলিটিক্যাল স্কুলিংয়ে আরও একটি সংগ্রামের ইতিহাস ভিত্তি দিয়েছে, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে সংগ্রামের ইতিহাস। দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর থেকে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই, যা মূলত ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৮ সালের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধান রূপ নেয়। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্ণবৈষম্য, বিচ্ছিন্নতা ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চনার অবসান ঘটান। এই সংগ্রামে মার্টিন লুথার কিংয়ের মতো নেতারা অহিংস প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমতার জন্য লড়াই করেছেন। মামদানি বর্ণবৈষম্যকে সামনে আনেনি সচেতনভাবেই। তাহলে নির্বাচনী ইস্যু ভিন্ন খাতে চলে যেত। আজকের দিনেও কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, যা শুধু গায়ের রঙের ওপর নয়; বরং সামাজিক বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু নিউইয়র্কবাসীদের একত্র করার জন্য ‘অর্থনৈতিক মুক্তির’ এজেন্ডার মধ্যে সবই ঢুকিয়ে ফেলেছিলেন মামদানি। যেখানে সব জাতি–ধর্ম-বর্ণের মানুষের মনের চাওয়া মৌলিক চাহিদাগুলো ঠাঁই করে নিয়েছিল। এসব মানুষ জীবনে কখনো মেয়র পদে দলীয় প্রাইমারিতে ভোট দেননি। সেই বঞ্চিতরা তাঁদের বঞ্চনার উত্তর দিয়েছেন মামদানির মাধ্যমে। তিনি তা প্রমাণ করে দেন ভোটিং উৎসবে। অন্তত পাঁচ দশকের ইতিহাসে এত ভোটার মেয়র নির্বাচনে ভোট দেননি। তিনি এই একত্র করতে পারার ‘জাদু’ দেখিয়েছেন। ক্যারিশমা একটি শেখার বিষয় এবং অনুশীলনের মাধ্যমে এটি উন্নত করার বিষয়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন।
জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা এত তুঙ্গে ওঠার পেছনে ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল ছিল অত্যন্ত খাঁটি, যুগোপযোগী, সৃজনশীল এবং প্রায়ই হাস্যরসাত্মক বিষয়বস্তুর সঙ্গে মূল প্রগতিশীল নীতিগুলোর ওপর দৃশ্যত একটি লেজার ফোকাসকে একত্র করে ভোটারদের। বিশেষ করে তরুণদের, একটি নতুন, বৈচিত্র্যময় জোটের কাছে পৌঁছাতে এবং সেটাই তাদের সংগঠিত করতে সাহায্য করেছে। এখানে বারবার বলতে হবে—মেধা, মেধা ও মেধা! যে মেধা মাতৃগর্ভের ভ্রুণ থেকে বিল্টইন হয়ে যায়! এটা তো হাল আমলের ভাষায় ব্র্যান্ড! রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও কাস্টমাইজ হয়ে যায়—মানুষের জীবন বোঝাপড়ার গভীর পর্যবেক্ষণ দিয়ে।
নির্বাচনের পর আমরা জানতে পারলাম, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী জারা রহিমের নাম। যার মেধা-প্রজ্ঞা ও পেশাদারত্বে তোলপাড় করে দেয় মামদানির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনকে। নিঃসন্দেহে তিনিই এখন বিশ্বসেরা সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার। যাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ দৃষ্টি নিউইয়র্কবাসীকে রিড করতে পেরেছে গভীরভাবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচন ক্যাম্পেইনে কাজ করার অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণা এতটাই শক্তিশালী ও নিখুঁত ছিল, যা অপজিশন পার্টি তাঁর অতল ছুঁতে পারেনি। পারেনি তাঁর নিজ দলের লোকজনও। সবাই কাজ করে গেছেন, কিন্তু ফলাফল কী হবে, তা পুরোপুরি অনুমানে আনতে পারেননি। মামদানিকে জারা প্রথম পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘রাজনৈতিক কৌশলবিদদের বানানো কল্পিত নিউইয়র্ককে ভুলে যাও, প্রকৃত নিউইয়র্ক নগর নিয়ে প্রচার চালাও।’ তাঁর এই পেশাদারত্বের পরামর্শ মামদানি লিড টিপস হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁকে মামদানির জয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে অভিহিত করা হলেও বিষয়টি ততটা সরলীকরণের নয়।
মামদানির সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষ্ফোরিত হওয়ার ঘটনাটি এখন বিশ্বজুড়ে ম্যাস কমিউনিকেশন থিওরির জন্য গবেষণার বিষয়। পুরোনো প্রতিষ্ঠিত অনেক ক্ল্যাসিক্যাল থিওরি এখানে স্থান পায়নি। অর্থাৎ তিনি সেগুলো ফলো করেননি; বরং উল্টো পথে হেঁটেছেন। আমরা সাদা চোখে দেখা ঘটনাবহুল নাগরিক জাগরণগুলোর পটভূমি অনুসন্ধান করলে বেশ কিছু নেপথ্যে থাকা কৌশলী চিন্তাশীল মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাই। জারা রহিম তো আছেনই; কিন্তু ‘মেল্টেড সলিডস’ নামের ক্যাম্পেইন ভিডিও মেকার মামদানির নির্বাচনে ডিজিটাল এজেন্সি হিসেবে নিযুক্ত ছিল। এখানে তাদের বয়স ও সাংস্কৃতিক রেফারেন্স তৈরির বুদ্ধিমত্তার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল। জারার সঙ্গে মামদানির বয়সের পার্থক্য মাত্র এক বছর। বন্ধুত্বের বোঝাপড়াটা এখানে বড় একটি ফ্যাক্টর। অন্যদিকে মেল্টেড সলিডসের দুই কর্ণধার অ্যান্থনি ডিমিয়েরি ও ডেবি সাসল ২০২১ সালের শুরু থেকে বিভিন্ন প্রচারণায় মামদানির সঙ্গে কাজ করে আসছেন। মাঝের এই যৌথ পথচলার অভিজ্ঞতায় তাঁরা মামদানিকে ভালো করেই চিনেছেন, জেনেছেন। হঠাৎ টাকা দিয়ে এটা কেনা যায় না। মামদানি কী চাচ্ছেন এবং তাঁর অন্তরের অভিপ্রায় তাঁরা ভিডিও নির্মাণে যথাযথ ভূমিকা নিতে পেরেছেন। তাঁরা বাজার অর্থনীতির বিপণনকারী গল্পকার। গল্প দিয়েই মানুষের পণ্য ক্রয়ের চয়েস বদলে দিতে পারেন। কিন্তু তাঁরা রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে দিলেন নতুন চমক। তাঁরা রূপান্তরিত হলেন নিউইয়র্কবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শোনার পাত্র হিসেবে। বের করে আনলেন নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরগুলো, যাঁরা সব কালেই ছিল উপেক্ষিত। এই যে শ্রেণিবৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতা তৈরি, এটাই ছিল কনটেন্ট ইনোভেশন। এই ক্ষমতার কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে যান মামদানি নিজেই। আরও একজন আছেন, ক্রিয়েটিভ টিমে তিনি বোরেনস্টাইন। যিনি উর্দু ও স্প্যানিশ ভাষায় প্রচারণার ভিডিওগুলোও পরিচালনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে দলটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং নিউইয়র্কভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোয় তাঁদের পটভূমি দেখেছে, যাতে অনুপ্রেরণার জন্য একটি হ্যান্ডহেল্ড, অন্তরঙ্গ নান্দনিকতা থাকে। তাঁদের নির্দেশিকা নীতি ছিল সর্বদা বিষয়বস্তুকে মামদানির নীতি প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
আমরা জেনে গেছি, এই ‘মেল্টেড সলিডস’ প্রতিষ্ঠানটি জোহরান মামদানির বেশ কয়েকটি ভাইরাল ভিডিও তৈরি করেছিল। সেগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পায়, যার থেকে নির্বাচনী খরচ অনেকটাই উঠে আসে। বাংলাদেশে যেমন ফেসবুকভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া বোঝায়, অথচ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁরা এই মাধ্যমে প্রবেশই করেননি। এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, থ্রেডস ও লিংডিনকেন্দ্রিক সোশ্যাল ক্যাম্পেইন ছিল। ক্যাম্পেইনকেন্দ্রিক যে পডকাস্টগুলো হয়েছিল, সেগুলোয়ও ছিল তাঁর নিজস্ব বুদ্ধিদীপ্ততাপূর্ণ। তাঁর প্রচারণা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে এবং বিভিন্ন নতুন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং পডকাস্টে উপস্থিত হয়েছে, যারা সাধারণত রাজনীতি বা ঐতিহ্যবাহী সংবাদ অনুসরণ করে না, এমন দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে। এটি একটি ‘রাজনৈতিক আকর্ষণ’ তৈরি করেছে, যার ফলে অনেক নির্মাতা তার প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন।
বলছিলাম তাদের প্রচারণার উল্টো পথের কৌশলী যাত্রার কথা। সেটা কীভাবে হলো! মেল্টেড সলিডস সংস্থাটি এবং জারার বুদ্ধিমত্তায় ইতিপূর্বের রাজনৈতিক প্রচারণায় আধিপত্য বিস্তারকারী লাল, সাদা ও নীল রঙের স্কিম থেকে নিজেদের মুক্তি দিয়ে দেয়। তারা বেগুনি ও হলুদ/সোনালি [ফ্লায়ার, সাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য মামদানির প্রচারণায় ব্যবহৃত রং] আকর্ষণীয় ও অপ্রত্যাশিতভাবে নাগরিকদের মধ্যে হাজির করে। সেখানে ব্যবহৃত টাইপোগ্রাফি মুদিদোকানের সাইনবোর্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এটিকে একটি প্রতিবেশী-সমাজের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। গণমাধ্যমের সুবাদে আমাদের চোখের সামনে হাজির হয় মামদানির ভাইরাল হওয়ার প্রধান ইস্যুগুলো। যেসবের মধ্যে ছিল, ম্যারাথনে জগিং করার সময় নিউইয়র্ক মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ ব্যাখ্যা। স্যুট ও টাই পরে হিমশীতল সমুদ্রে লাফিয়ে ভাড়া জমা করার ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা প্রচার। এই সাধারণ নাগরিক আচরণের মাধ্যমে প্রায় বিনা পয়সায় নিজের আত্মপরিচয় গড়ে তোলার অসাধারণ আইডিয়া বিশ্বকে আর কেই–বা দেখাতে পরেছে!
হ্যাঁ, আরও অনেকগুলো পিপলস কানেকটিং দিক রয়েছে, যা এককথায় অপূর্ব। সবই নতুন আনকোরা। যেমন ভালোবাসা দিবসের একটি পোস্টে, তিনি ‘ক্যান ইউ ফিল দ্য লাভ টুনাইট’ গানের একটি প্যারোডি গেয়েছিলেন এবং শহরের রাস্তায় লাল হৃদয় আকৃতির বেলুন বহন করেছিলেন। তিনি সাবেক একজন র্যাপার—সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছেন সফলভাবে। আর সেটা হয় ধীরগতির হিপহপ সংগীতের ওপর ভিত্তি করে জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কে ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে। খাবারের গাড়ির ভেতর থেকে ক্রমবর্ধমান খাদ্যমূল্য নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি ‘হালাফ্লেশন’ শব্দটি তৈরি করেছিলেন এবং পরে উর্দুতে র্যাংক-চয়েস ভোটিং ব্যাখ্যা করেছিলেন, যা দইভিত্তিক পানীয় লস্যির কাপ ব্যবহার করে প্রপস হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে, মামদানি সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন যে ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি ভিউসহ একটি ভাইরাল এক্স পোস্ট ঘোষণা করেছিল, ‘আপনি কেবল “জোহরান মামদানি”কে টুইট করতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১০০০ লাইক পেতে পারেন।’ কি চমৎকার ইনোভেশন এটি! যা ভালোবাসার জনজোয়ারে অন্যকে শামিল করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই যুথবদ্ধতার ঘোষণা একজন সাধারণ নিম্নবিত্ত নাগরিককেও আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে তোলে। এভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে অত্যন্ত সূক্ষ্মতর অনুভূতিময় কৌশলে মামদানি সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় দর্শক তৈরি করেছিলেন, বিরোধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং বামপন্থী নীতিগুলোকে তুলে ধরার জন্য নিজদলীয় আদর্শ ডেমোক্রেটিক রীতি কৌশল থেকে সরে এসেছিলেন পুরোপুরি।
নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন পোস্টকে সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে, মেয়র নির্বাচনগুলো এয়ারওয়েভ ও মেলবক্সে, সব ধরনের পেইড মিডিয়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বেছে নিয়েছিলাম যে কেবল নিউইয়র্কবাসীর জীবনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে—এমন রাজনীতিকেই সমর্থন করা নয়, সেই রাজনীতিকে সরাসরি নিউইয়র্কবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও।’
এদিকে ডানপন্থী লোকেরা মামদানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিতে বামপন্থী নীতিগুলোকে ক্ষমা না করে গ্রহণ করার জন্য তাঁকে ব্যাপকভাবে ঘৃণা করেছিলেন। রক্ষণশীল কর্মী ক্রিস্টোফার রুফো এক্সে লিখেছিলেন, ‘তাঁর ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক, কিন্তু তাঁর উপস্থাপনা আকর্ষণীয়।’‘তিনি এমনকি “শহরের মালিকানাধীন মুদিদোকান’—তৃতীয় বিশ্বের কমিউনিজমের ইতিহাস থেকে সরাসরি নেওয়া একটি ধারণা—একটি মিমে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।’
কিন্তু কেবল সোশ্যাল মিডয়াতেই তিনি থেমে ছিলেন না। তাঁর ড্রাইভ ছিল চতুর্মুখী। জারা রহিম হয়তোবা বয়সভিত্তিক, জাতিগত সম্প্রদায় ও আয়ভিত্তিক নানা শ্রেণিভেদ করেছিলেন। যেখানে মাইগ্রেটেট প্রজন্ম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বংশোদ্ভূতরা গবেষণা বিশ্লেষণে এসেছেন। বিশেষ করে ‘জেনারেশন জেড’ বা ‘আই-জেনারেশন’, যা তাঁদের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাত্রাকে উপলব্ধ করেছেন পুরো ক্যাম্পেইনে। জনারেশন জেড যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রজন্ম, যাঁরা সামাজিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ও তাঁদের অন্যান্য মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাস্তববাদ, আর্থিক সচেতনতা, সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্বেগের একটি শক্তিশালী অনুভূতি, একটি বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও একটি উদ্যোক্তা মনোভাব। তাঁরা তাঁদের কাজ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায়।
এই প্রজন্মকে মামদানি অত্যন্ত সফলভাবে তাঁদের প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করতে পেরেছিলেন। যাঁরা নিউইয়র্কে শুধু ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাঁদের সংখ্যাও বিশাল। তাঁরাও বার্তা পেয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে। এখানে ‘এআই ইনোভেশন’ সর্বোচ্চ ব্যবহারও হয়েছে। মোটকথা, যাঁরা কোনো গ্যাজেট ব্যবহার করেন না তাঁদেরও অনটাচ রাখেননি। স্বেচ্ছাশ্রমে এক লাখের বেশি ভলান্টিয়ার ছুটে গেছেন প্রতিটি দুয়ারে দুয়ারে এবং তাঁরা ফোন ব্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা অনলাইন গতিকে সশরীর আন্দোলনকে আরও তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে। এসব তৎপরতা হুজুগে ছিল না মোটেই, সম্পূর্ণ গবেষাণা তথ্যে চেকলিস্ট করে ল্যাপস-গ্যাপস মিলিয়ে হয়েছে। নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে বার্তাপ্রেরণে নির্ভীকতা, ধারাবাহিকভাবে নিজের মূল বার্তাটির প্রতিটি বিষয়বস্তু মনোনিবেশ করে শহরকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলার তাঁর নীতিগুলো তুলে ধরেছেন। প্রতিদিনের নিউইয়র্কবাসীদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজির অন্যতম কর্মযজ্ঞ। যে ডিভাইস বা অ্যাপটি আপনি খুলেন না কেন, মামদানি সেখানেই হাজির!
সবশেষে তাঁর শ্রেষ্ঠ ম্যাজিকটি ছিল নিজস্ব স্টোরি টেলিং পারফরম্যান্স, যা পৃথিবীর অন্য কোনো নির্বাচন প্রার্থীর পক্ষে নকল করার ক্ষমতা হবে না। এই অনন্য জাদু–বাস্তবতার ক্ষমতা কীভাবে অর্জন করলেন! যেখানে সঙ্গোপনে লুকিয়ে আছে চার-পাঁচটি ভাষায় নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলার শক্তি, সিনেমাটিক প্রেজেন্টেশনে গল্প বলার দুর্দান্ত আকর্ষণ! এগুলো তো ডিগ্রি নিয়ে, ট্রেনিং করে পারা যায় না। মামদানি এমনই এক বাস্তবতা, যেন নিউইয়র্ক সিটি জেগে উঠেছে একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা গল্পে, যার চিত্রনাট্য, সম্ভবত কাব্যিকভাবে, শিল্প ও রাজনীতি উভয়ের দ্বারা বর্ণিল। তাঁর ঐতিহাসিক জয়ের পেছনের প্রকৃত স্থপতি হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে তার গর্ভধারিণী মাকে। যিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা মীরা নায়ার। মামদানি রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর আগে, নায়ার তাঁর মধ্যে এক ‘বিশ্ব’ তৈরি করেছিলেন। যেখানে রং, দ্বন্দ্ব ও বিবেকের জগৎ বেড়ে উঠেছে। যে চলচ্চিত্রনির্মাতা তাঁর কর্মে মানুষের প্রান্তিকতা তৈরি করেছিলেন। মেয়র নির্বাচনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা কৌশল তৈরিতে সেগুলো সরাসরি, বাস্তবমুখী ভূমিকা পালন করেননি ঠিক, তাঁদের পথও আলাদা। তবে তাঁর সিনেম্যাটিক পটভূমি এবং গল্প বলার দর্শন তাঁর পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। মামদানির প্রচারণা তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিল, বিশেষ করে চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা এবং সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তুর ব্যবহারে। যা অভিবাসন, পরিচয় ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
মীরা নায়ারের নির্মিত ‘সালাম বোম্বে’, ‘মিসিসিপি মাসালা’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘কুইন অব কাটওয়ে’এবং ঝুম্পা লাহিড়ীর উপন্যাস থেকে অভিযোজিত ‘দ্য নেমসেক’—প্রতিটি চলচ্চিত্রেই এক নীরব বিদ্রোহ লুকিয়ে ছিল। ভারতের রাস্তা থেকে শুরু করে উগান্ডার বস্তি এবং নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্ট পর্যন্ত, মহাদেশজুড়ে, নায়ারের দৃষ্টিভঙ্গি গণতান্ত্রিক রয়ে গেছে। প্রতিটি ছবিতে, নায়ার শৈল্পিকতার মাধ্যমে অসাম্যকে বর্জনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, তা সে শ্রেণি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জাতি যা–ই হোক না কেন এবং সহানুভূতির মাধ্যমে সেগুলোকে পুনঃকল্পনা করেছেন। তিনি কেবল গল্প বলেননি; তিনি দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্নির্মাণ করেছেন। তিন দশক ধরে মায়ের সিনেমায় যে বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিশ্বকে, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মামদানির সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনে। নায়ার এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করেছিলেন, যাঁরা ক্ষমতাকে ভিন্নভাবে দেখেন। মামদানি একজন যোগ্য সন্তান, যিনি এখন তাঁর দর্শনকে নীতিতে রূপান্তরিত করে দেখালেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শহরে!
সামনের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমাদের কত আশা আর হতাশা মেশানো যোগ্য নেতৃত্ব পাওয়ার স্বপ্নমাখা বিভোরতা! প্রকৃত দেশপ্রেমী, মানবপ্রেমী শতকে যেন একটাও নেতা মেলে নাই সংসদীয় ইতিহাসে। কথা হলো, এই তিন শ আসনের একটি আসনে এমন একজন মামদানির মতো সংবেদনশীল, মানবতাবাদী ও আধুনিক সংস্কৃতিমনা নেতা আমরা কি পাব! যাঁকে নিয়ে নাগরিকেরা সমস্বরে আনন্দে গেয়ে উঠবে—“আইলারে নয়া দামান আসমানেও তেরা/বিছানা বিছাইয়া দেও/শাইল ধানের নেরা/দামান্দ বও দামান্দ বও।”
* লেখক: শওকত আলী তারা, প্রকাশক, সমগ্র প্রকাশন
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]