সি চিন পিং ও বাংলাদেশ: ঐতিহাসিক সফর থেকে অভিন্ন ভবিষ্যতের পথে
২০২৬ সালের ১ অক্টোবর চীন যখন ৭৭তম জাতীয় দিবস উদ্যাপন করবে, তখন সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বের সময়কালে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রযাত্রার দিকে ফিরে তাকানো সময়োপযোগী। বাংলাদেশের জন্য সি চিন পিংকে বোঝা শুধু একটি বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তির নেতাকে বোঝার বিষয় নয়; বরং এটি এমন এক নেতার সময়কালকে বোঝার বিষয়, যার নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশের অধ্যায়ও যুক্ত।
চীনের সঙ্গে আমার নিজের সম্পর্কের সূচনা ১৯৮৮ সালে। সে বছর সরকারি বৃত্তিতে আমি প্রথম বেইজিংয়ে যাই এবং তৎকালীন বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে, বর্তমানে বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার ইউনিভার্সিটিতে (বিএলসিইউ) পড়াশোনা শুরু করি। এর পর থেকে চীন আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে, চীনা ভাষার শিক্ষার্থী ও স্নাতক, দোভাষী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক হিসেবে।
তৃণমূল থেকে চীনের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে
সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক যাত্রা চীনের গ্রামীণ তৃণমূল থেকে শুরু হয়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছেছে। ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণকারী সি চিন পিং কৈশোরের একটি সময় শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে কাটান, যেখানে তাঁকে ‘শিক্ষিত যুবক’ হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ফুচিয়ান, চচিয়াং ও সাংহাইয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এই বিস্তৃত অভিজ্ঞতা সিকে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসন, সংস্কার, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করে। ২০১২ সালে তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর নেতৃত্বের সময়কালে চীনের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও দরিদ্রতা হ্রাসে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।
চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা নির্দিষ্ট নীতিমালা সম্পর্কে যার যার নিজস্ব মূল্যায়ন থাকতে পারে; তবে এই সময়ে চীনের রূপান্তরের ব্যাপকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
চিন পিং ও বাংলাদেশ: গভীরতর সম্পর্কের অভিযাত্রা
সি চিন পিং প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন ২০১০ সালের জুনে, তখন তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ১৪-১৫ জুনের সেই সফরে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই দেশ তাদের ‘ঘনিষ্ঠতর সার্বিক সহযোগিতার অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা করে। আলোচনায় যোগাযোগ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৃহত্তর উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।
সেই সফরের একটি বিশেষ স্মরণীয় ঘটনা ছিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সি চিন পিংয়ের সাক্ষাৎ। ১৫ জুন খালেদা জিয়া ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় অবকাঠামো, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সমসাময়িক প্রতিবেদনে সি চিন পিংয়ের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে চীন সফরের আমন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
আমার সক্রিয় সামরিক জীবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে চীন-সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমে বহুবার দোভাষী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তবে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ, ২০০৮ সালের শুরুতেই আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করি। এরপর চীনা ভাষা শিক্ষা এবং চীন নিয়ে আমার দীর্ঘদিনের কাজ আমাকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে।
২০১৬: সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়
২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সি চিন পিং আবার বাংলাদেশ সফর করেন। ১৪-১৫ অক্টোবরের সেই রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। এ সময় বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়।
আলোচনায় অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, পানি, সামুদ্রিক বিষয় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র স্থান পায়। ২০১৬ সালের গুরুত্ব শুধু সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণের জন্য আরও বিস্তৃত একটি কাঠামো তৈরি হয়—রেলপথ, সড়ক, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পানি, অন্যান্য অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
একই সঙ্গে সম্পর্কটি বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার সঙ্গেও ক্রমশ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সংযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে থাকে।
কৌশলগত অংশীদারত্ব থেকে অভিন্ন ভবিষ্যতের পথে
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়। উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, কৃষি, পানি সম্পদ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপিত হয় এবং বছরটি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়ের বছর হিসেবে পালিত হয়। এসব মাইলফলক দেখায়, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে অবকাঠামো, উৎপাদন, প্রযুক্তি, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত একজন হিসেবে আমি চীনা ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখেছি। আমার বিশ্বাস, ভাষা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম কার্যকর সেতু।
২০২৬: নতুন অধ্যায়ের সূচনা
২০২৬ সালের ২৬ জুন বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই নেতা নতুন যুগে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করেন।
আলোচনায় রাজনৈতিক যোগাযোগ, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। নতুন জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল, অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রগুলোকেও সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের আধুনিকায়নের পরবর্তী পর্যায়ে এসব নতুন ক্ষেত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের তরুণ, ব্যবসা ও শিল্প খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বন্দর, পানি ব্যবস্থাপনা, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়েও দুই দেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারের যোগাযোগে ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আবার বাংলাদেশ সফর করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের নেতাদের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনাকেও আমি স্বাগত জানাব। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের সফরে আরও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।
এ ধরনের একটি সফর বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী প্রজন্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, শুধু চলমান প্রকল্প নয়; বরং উপযুক্ত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের আরও উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, তিস্তা ও অন্যান্য পানি সম্পদের ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক ও ব্লু ইকোনমি সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তর, নতুন জ্বালানি, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তির জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির মতো ক্ষেত্র।
বাংলাদেশে আলোচিত কিছু ধারণার মধ্যে রয়েছে ঢাকার বাইরে একটি বৃহত্তর বাংলাদেশ-চীন কমপ্লেক্স, আরও শক্তিশালী চীনা ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ। এগুলো এখনো আকাঙ্ক্ষা বা প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে, নিশ্চিত প্রকল্প নয়। এগুলোর বাস্তব মূল্য নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা, পারস্পরিক সম্মতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের ওপর।
চীনের উত্থান প্রত্যক্ষ করা থেকে অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণ
চীনের সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে বেইজিংয়ে। এরপর থেকে আমি চীনের অসাধারণ রূপান্তর এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যায়ের বিকাশ প্রত্যক্ষ করেছি।
আমার কাছে তাই সি চিন পিংয়ের গল্প শুধু একজন চীনা নেতার গল্প নয়। এটি চীনের রূপান্তর, বাংলাদেশের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার একটি বৃহত্তর গল্পের অংশ।
এই বন্ধুত্বের একটি বিশেষ আবেগঘন প্রতীক হলো আলিফা চিনের গল্প। ২০১০ সালে চীনের হাসপাতাল জাহাজ ‘পিস আর্ক’-এ থাকা চীনা সামরিক চিকিৎসকেরা তার মাকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছিলেন। তার বাবা তার নাম রেখেছিলেন ‘চিন’, বাংলায় যার অর্থ চীন। ২০২৩ সালে আলিফা চিন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে চিঠি লিখলে তিনি তাকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে, নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করতে এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করে জবাব দেন। পরবর্তী সময় আলিফা চিন ও তার পরিবার চীন সফরও করে।
এই গল্প দেখায়, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সরকার ও চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা মানুষের জীবনেও স্পর্শ করতে পারে।
চীন যখন আরেকটি জাতীয় দিবসে প্রবেশ করছে এবং বাংলাদেশ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন চ্যালেঞ্জ শুধু অতীতের অর্জনের পুনরাবৃত্তি নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, একই সঙ্গে একে অপরের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের নিজস্ব পথকে সম্মান করা।
১৯৮৮ সাল থেকে চীন ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে কাছ থেকে অনুসরণ করা একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমার এই বিনম্র ভাবনা যদি একই বন্ধুত্বের চেতনায় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের কাছে পৌঁছায়, সেটিই হবে আমার জন্য আনন্দের। হয়তো এটি সেই আশার কথাও সামান্যভাবে তুলে ধরতে পারে, একদিন তিনি আবারও বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করবেন।
আমার কাছে চীনের উত্থান প্রত্যক্ষ করা থেকে অভিন্নভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রকৃত অর্থ এটাই।
লেখক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন, পিএসসি, এমবিএ, এমডিএস, বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার ইউনিভার্সিটির (বিএলসিইউ) চীনা ভাষার স্নাতক।