নিজের বাড়িতেই অতিথি কর্মজীবী সন্তানেরা

ঈদের ছুটির শেষ দিনে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা, ২৩ মার্চ ২০২৬ছবি : তানভীর আহাম্মেদ

ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ কোনো ছুটি এলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মজীবী মানুষ বাড়ির পথে রওনা হন। কয়েক দিনের জন্য পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেও বাস্তবতা হলো, বছরের অধিকাংশ সময়ই তাঁদের থাকতে হয় কর্মস্থলের শহরে। ফলে একসময় নিজের বাড়িতেই তাঁরা অনেকটা অতিথিতে পরিণত হন।

বাংলাদেশের অনেক কর্মজীবী ছেলে-মেয়ে বছরে মাত্র দুই বা তিনবার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পান। প্রতিবার কয়েক দিনের জন্য পরিবারের সদস্যরা একত্র হলেও সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সন্তান, পুত্রবধূ কিংবা নাতি-নাতনিদের আগমনে মা-বাবার মনে যে আনন্দের সঞ্চার হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাড়িতে শুরু হয় পছন্দের খাবারের আয়োজন, আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা এবং পারিবারিক ব্যস্ততা।

কিন্তু সময় যেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়। কয়েক দিনের ছুটি শেষ হতেই আবার কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়। বিদায়ের মুহূর্তে মা-বাবার চোখে দেখা যায় অদৃশ্য এক শূন্যতা। অনেক মায়ের মনেই তখন আফসোস থেকে যায়—সন্তানের পছন্দের কোনো খাবার হয়তো এখনো রান্না করে খাওয়ানো হলো না, কোনো গল্প হয়তো বলা হলো না, কোনো কথা হয়তো বলার আগেই সময় শেষ হয়ে গেল।

গ্রামবাংলার অসংখ্য পরিবারে প্রতিবছর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সন্তানদের জীবিকার প্রয়োজনে দূরে থাকতে হয়, আর মা-বাবারা অপেক্ষা করেন পরবর্তী ছুটি কিংবা উৎসবের দিনের জন্য।

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় কর্মজীবী সন্তানেরা পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও দূরত্বের এই বাস্তবতা অনেক মা-বাবার জীবনে নিঃসঙ্গতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাড়িতে ফেরা শুধু একটি ভ্রমণ নয়; এটি হয়ে উঠেছে অপেক্ষা, আনন্দ, আবেগ ও বিচ্ছেদের এক চিরচেনা চক্র।

কেউ একজন বলেছিলেন, ‘লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে একবার ঘর ছাড়লে মৃত্যু ছাড়া আর সত্যিকার অর্থে ঘরে ফেরা হয় না।’ কথাটি হয়তো আক্ষরিক অর্থে সত্য নয়, তবে কর্মজীবনের বাস্তবতায় এর গভীরতা আজও অনেক পরিবারের জীবনে প্রতিফলিত হয়।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]