মসলা–চা
২৩ ডিসেম্বর। দিনের হিসেবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আজ প্রথমবারের মতো টঙে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি। হুম, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি। আদা দেওয়া লাল চা সঙ্গে মৃদু হাওয়া আর লোকে লোকারণ্য অথচ কোনো পাখি নেই। এই গোধূলি বেলায় সাধারণত পাখিদের বেশ ভালো দেখা যায়। এক কাপ চায়ের দাম বেশি হলে ১০ টাকা হওয়া উচিত কিন্তু এখানে রাখছে কুড়ি টাকা করে আর মানুষ খুব আগ্রহ করে তা খাচ্ছেও। যা–ই হোক আমি কাপ দুয়েক খেয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়াতেই মাথাটা কেমন জানি ভারী হতে লাগল।
পরপর সাতদিন আমি ওই দোকানের চা খেলাম। কিন্তু অষ্টম দিনে! না আমার কিছুই হয়নি। কেন যেন আর গেলাম না। আমি আগে তেমন চা খোর ছিলাম না কখনোই, আজকাল হয়েছি। ওই দোকানের পাশে আরও একটা দোকান ছিল কিন্তু সেটা তেমন চলত না। তারপর আমি আবার গেলাম কিন্তু দোকানটা বন্ধ! ইচ্ছা করেই কতক্ষণ ঘুরঘুর করলাম। ফিরে আসার পথে দেখতে পেলাম দোকানিকে। আমায় দেখে চোখে মুখে শঙ্কা আর ভয়। হাতে কী কী যেন... চায়ের মসলাপাতি বোধ হয়?
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
দিন তিনেক পর শুনতে পাই ওদিকে নাকি একটা খুন হয়েছে। কত কথাই তো মানুষ বলে তাই তেমন পাত্তা দিইনি। তবু মনের কোণে ভয় ছিল। ভয় ছিল একটা গল্পে। হুম, খুনের আগের দিন এক বৃদ্ধের মুখে শোনা আজগুবি কথায়! এমন না যে এর পর থেকে ওখানে যাওয়া বাদ দিয়েছি বরং আরও বেশি যেতাম। গিয়ে খুঁজতাম ওই বৃদ্ধকে। বৃদ্ধকে আমি পাইনি কোনো দিন!
কিন্তু পেয়েছিলাম একটা ক্যান আর পুলিশের জিপের শব্দ। স্বভাবতই নিজেকে আড়াল করে পালিয়ে আসি।
এবার আর যাইনি। যাওয়ার প্রয়োজন অবশ্য বহুবার পড়েছিল। রাতদুপুরে সেই চায়ের ঘ্রাণ, বৃদ্ধের খুনি হওয়ার গল্প কম তাড়া করেনি। তবু নিজেকে আটকেছি। যারা পারেনি, তাদের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি, শুধু বেঘোরে প্রাণটা গেছে!
লেখক: তাসমিয়া জাহান নীলা, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়