ভালো ফলের পরও ‘ভালো কলেজের’ দুশ্চিন্তা
এসএসসির রেজাল্টের দিন মিষ্টি বিলিয়ে যে স্বস্তিটা পাওয়া যায়, সেটার মেয়াদ বেশি দিন নয়। জিপিএ–৫ এল। ঘরে আনন্দ, অভিনন্দনের ফোন। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যায় আরেক হিসাব। নিজের মোট নম্বর কত? অমুক কলেজে গতবার কত নম্বরে হয়েছে? পছন্দের কলেজ না পেলে মাইগ্রেশনে কিছু বদলাবে তো?
ভালো ফলের আনন্দটা তখন আবার অনিশ্চয়তায় মিশে যায়।
আমাদের সমাজে কিছু কলেজের নাম এমনভাবে গেঁথে গেছে যে সেখানে ভর্তি হওয়াটাও যেন আরেকটা সাফল্য। অভিভাবকেরাও চান, সন্তান এমন জায়গায় পড়ুক, যেটার পড়াশোনা ও পরিবেশ নিয়ে ভরসা করা যায়।
অথচ হিসাবটা মিলছে না। দেশে তো কলেজের আসনের অভাব নেই।
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে দেখলাম, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসন ২৬ লাখের বেশি। এসএসসি ও সমমানে পাস করেছে প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী। সবাই ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকত।
তারপরও প্রথম ধাপে ১১টি কলেজে একটি আবেদনও পড়েনি। অন্যদিকে আনন্দ মোহন কলেজের ৯৮১টি আসনের বিপরীতে পছন্দের তালিকায় কলেজটির নাম এসেছে ৩২ হাজারের বেশি বার।
নামী কলেজের ভিড়টাকে শুধু হুজুগ বলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু পরিবারগুলো কেন ওই নামগুলোর দিকে ঝোঁকে, সেটা দেখলে ব্যাপারটা বদলে যায়। কারও কাছে নিয়মিত ক্লাস বড় বিষয়, কারও কাছে যাতায়াত, কেউ আবার আগের ফল বা পরিচিত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতায় ভরসা করেন।
এইচএসসির দেড়–দুই বছর দ্রুত চলে যায়। এরপরই জীবনের সবচেয়ে বড় ভর্তিযুদ্ধ। তাই অভিভাবকেরা এমন একটা জায়গাই খোঁজেন, যেটা নিয়ে পরে আফসোস করতে হবে না।
আরেকটা ব্যাপারও চোখে পড়ে। যে কলেজগুলো শুরু থেকেই বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী পায়, তাদের ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সেই ফল কলেজের নামকে আরও শক্ত করে। পরের ব্যাচের পছন্দেও তার প্রভাব পড়ে। এটাই পুরো ব্যাখ্যা নয়, তবে এই চক্রটাকে বাদ দেওয়াও কঠিন।
এত আসন থাকার পরও যদি অনেক কলেজ শিক্ষার্থীর পছন্দেই না আসে, তাহলে শুধু তাদের পছন্দকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওই কলেজগুলো কেন ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে না, সেটা নিয়েও কথা হওয়া দরকার।
*লেখক: সাজিদুর রহমান তাহসিন, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা