স্বস্তির নিশ্বাস
নওশাদ গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। শীতল বাতাসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখনই পাশ থেকে ভেসে এল ধোঁয়ার কুণ্ডলি। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে জামসেদ একটা সিগারেট ধরিয়েছে। ধোঁয়াটা বাতাসের সঙ্গে মিশে তার দিকেই ছুটে এল। নওশাদ একটু বিরক্ত হলো, কিন্তু সরাসরি কিছু বলল না।
কিন্তু এই ধোঁয়া কেবল একবারের নয়। যখনই সে বাইরে বের হয়, অফিসের সামনে, পার্কের বেঞ্চে, ফুটপাতের ধারে সর্বত্রই সে এই বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হয়। জামসেদের মতো অনেকে ভাবেই না যে তাদের ধোঁয়া অন্য কারও শ্বাস রুদ্ধ করে দিতে পারে।
নাগরিক সংবাদ-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভ্রমণ, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
নওশাদ আর চুপ থাকতে পারল না। সে জামসেদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘শুধুই সিগারেট নয়, কেউ যদি নিজের জীবন নষ্ট করতে চায় ভয়ংকর নেশায় করুক, কিন্তু তার ধোঁয়ায় আরেকজনের জীবন বিষিয়ে তুলবে কেন? এ শহরের বাতাস এমনিতেই ভারী; নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার ওপর সিগারেটের ধোঁয়া আমাদের আরও দম বন্ধ করে দেয়, এটা কি ন্যায্য?’
জামসেদ একটু অবাক হয়ে নওশাদের দিকে তাকাল, ‘তুই এত ভাবিস কেন এসব নিয়ে? আমি তো আমার সিগারেট টানছি। তোকে জোর করছি নাকি?’
নওশাদ এবার কড়া গলায় বলল, ‘তোর ধোঁয়া আমার গায়ে এসে লাগছে, ফুসফুসে ঢুকছে, আমি বিনা দোষে শাস্তি পাচ্ছি। ফুটপাতে হাঁটছি, পার্কে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি, কিন্তু তখনই তোর মতো কেউ একজন ধোঁয়া ছেড়ে দিচ্ছে—এতে আমার জীবন বিষিয়ে উঠছে, এটা কি ঠিক?’
জামসেদ একটু অপ্রস্তুত হলো; কিন্তু মুখে বলল, ‘আরে ধুর এত বাড়াবাড়ির কী আছে?’ নওশাদ এবার সরাসরি বলে দিল, ‘বাড়াবাড়ি তোদের জামসেদ; যেখানে-সেখানে ধোঁয়া ছেড়ে অন্যদের কষ্ট দেওয়া, প্রকাশ্যে ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা দরকার। অন্তত ঢাকা শহরকে ধোঁয়ামুক্ত ঘোষণা করা উচিত। যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে রাস্তায় হাঁটার সময় সিগারেট খাওয়া চিরতরে বন্ধ করা হোক। আমরা যারা ধূমপান করি না, যারা বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে চাই, আমাদের কি কোনো অধিকার নেই?’
জামসেদ চুপ হয়ে গেল। সে জানত, নওশাদ যা বলছে, তা ঠিক। কিন্তু স্বভাবের দাস হয়ে সে এত দিন কিছুই ভাবেনি।
বাতাসে সমতা আসুক; বিষমুক্ত নিশ্বাস চাই। নওশাদের কথাগুলো মাথায় ঘুরতে থাকল জামসেদের...
লেখক: ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন, শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ