ডিজিটাল সহিংসতা: নারীর সুরক্ষায় দরকার নতুন পথরেখা

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

উনিশ শতকের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রী চার্লস ফুরিয়ের ঘোষণা করেন যে ‘কোনো একটি সমাজের সাধারণ মুক্তির স্বাভাবিক মাপকাঠি হলো সে সমাজের নারীমুক্তির মান।’ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই নারীরা আজ নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সমাজে একদিকে উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটলেও নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও শোষণ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রকাশিত বিগত ১০ বছরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতার নতুন রূপ হিসেবে ডিজিটাল সহিংসতা এখন বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী নারীদের প্রায় ৫৩ শতাংশই ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হন। অন্যদিকে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তথ্য বলছে, অনলাইন হয়রানির শিকারদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই নারী। সহিংসতার এই মাত্রা উদ্বেগজনক হলেও এটিই কিন্তু চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নয়। পারিবারিক সম্মান, লোকলজ্জা, ভয়ভীতি, বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি কারণে দেশে বিপুলসংখ্যক নারী সহিংসতার ঘটনা অজানা থেকে যায়। এসব পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশে নারীর প্রকৃত সামাজিক অবস্থাটা কী! মূলত দেশের সাংস্কৃতিক আদর্শ-মূল্যবোধ, রীতিনীতি, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজাল নারীকে আবদ্ধ করে রেখেছে নানা অনুশাসনে।

বিগত কয়েক দশকে তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়ন বৈশ্বিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে বহুগুণে। মূলত ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতি তথ্যপ্রযুক্তির পরিধিকে ব্যাপকতা দিয়েছে। এই মহামারির ক্রান্তিকালে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অফিস-আদালত ও দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রমও হয়ে পড়ে অনলাইন নির্ভর। একই সঙ্গে বেড়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকির হার। প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার বর্তমানে ডিজিটাল রাজ্যে সহিংসতার ঘটনাকে প্রভাবিত করছে। এই অনলাইন সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রেই অফলাইন অপরাধের চেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। জানা যায়, উত্তর আমেরিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিংয়ের তুলনায় সাইবার বুলিংয়ের কারণে নারী ও শিশুরা অধিক আত্মহত্যা করে।

যেকোনো প্রযুক্তিই লিঙ্গ নিরপেক্ষ হওয়া আবশ্যক। কিন্তু আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গির একটা প্রতিফলন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। আর নারীরা এই ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনলাইনে এই হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। বিবিএস এর জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ নারী তাঁদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে অন্তত একবার জীবনসঙ্গীর কর্তৃক শারীরিক, যৌন, মানসিক ও অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক নারী (৪৯ শতাংশ) গত এক বছরে এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ৮.৩ শতাংশ নারী প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (যৌন ব্ল্যাকমেল, ছবির অপব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ) শিকার হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মুঠোফোনের মালিকানায় ৭০ শতাংশ পুরুষ। আর নারীদের মুঠোফোনের মালিকানার হার প্রায় ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া দেশে প্রায় ১২ কোটি ৬১ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ৫০.২ শতাংশ নারী এবং ৫৬.৬ শতাংশ পুরুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (২০২৪) তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, এমন নারীদের প্রায় ৮৯ শতাংশ অন্তত একবার ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮-৩০ বছর বয়সী নারীরা সবচেয়ে বেশি ডিজিটাল সহিংসতার শিকার। ইউনিসেফ পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৭ বছরের শিশুদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ শিশুই ১১ বছরে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে, যা তাদের সহিংসতার মতো ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। নারীর প্রতি সহিংসতা আগেও ছিল, তবে এখন তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার কিছু ধরনের মধ্যে রয়েছে সাইবার স্টকিং, সাইবার বুলিং, হ্যাকিং, গ্রুমিং, সেক্সটিং, রিভেঞ্জ পর্ন, ট্রলিং, ডক্সিং, অ্যাস্ট্রোটার্ফিং ইত্যাদি।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]

বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতার ধরন পাল্টে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অন্তর্ভুক্তি পুরুষের তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের ৮৬ শতাংশ পুরুষের মুঠোফোন রয়েছে, নারীদের ক্ষেত্রে তা ৬১ শতাংশ। এ ছাড়া দেশের ৪৮ শতাংশ পুরুষ যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, সেখানে নারীদের এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ। তারপরও নারীদের ৭৮ শতাংশ প্রযুক্তিগত হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। এক হিসাব মতে, দেশে প্রতি ১০ জনের ৭ জন সাইবার বুলিংয়ের শিকার। বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের জরিপ অনুযায়ী ৮.৩ শতাংশ নারী ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছে। পুলিশি পরিসংখ্যান (২০২৪) বলছে, টাকা না দিলে অন্তরঙ্গ ছবি/ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুরুষ ভুক্তভোগীর সংখ্যা ছিল ২৩, অন্যদিকে নারীর সংখ্যা ছিল ১০০। এ ছাড়া ভুয়া আইডি থেকে সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পুরুষের সংখ্যা ছিল ৪৯, নারীর সংখ্যা ছিল ১০০। পুলিশি রিপোর্ট বলছে- ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএসডব্লিউসি প্ল্যাটফর্মে ৭১ জন ভুক্তভোগী অনলাইন সহিংসতার জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৬২টি সাইবার অপরাধ ও ৯টি পর্নোগ্রাফি –সম্পর্কিত। ৫৬টি ঘটনা ঢাকায়, বাকিগুলো ঢাকার বাইরে ঘটেছে। সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- চলতি বছরের (২০২৫) প্রথম ছয় মাসে ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই নারী ও শিশু।

বেসরকারি সংগঠন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এক জরিপে উঠে এসেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের বেশি নারী কখনো না কখনো ডিজিটাল হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ নারী সহিংসতার শিকার হন ফেসবুকে। সকল মানুষ যখন বিশ্ব সংবাদ জানতে অনলাইনের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে তখন সাইবার ওয়ার্ল্ডের সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যায়। এ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লাইভ সেশনগুলোর মাধ্যমে সাইবার সুরক্ষা–সম্পর্কিত তথ্য প্রচার শুরু করে টেইক ব্যাক দ্য টেক। আয়োজনগুলোয় উঠে আসে—ফেক লিঙ্ক এবং সাইবার ক্রাইম থেকে সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল হয়রানি, অপরাধ এবং সমাধান, সাইবার বুলিং, সাইবার অপরাধীদের মনোবিজ্ঞান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাষা ব্যবহারের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নারীরাও পিছিয়ে নেই। তবে নারীরা ডিজিটাল সহিংসতার বেশি শিকার হচ্ছে। তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার ২০২০ সালে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন নামে একটি অনলাইন সেবা চালু করেছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে নারীদের পড়াশুনার হার ২৫ শতাংশ। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ, মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। এই সমস্যার প্রতিকারে দেশে নারীদের অনলাইন ব্যবহারে সচেতন করতে এবং ডিজিটাল নারী সহিংসতা রোধ করতে কাজ করে যাচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা। ডিজিটাল সহিংসতা রোধে সরকার, সামাজিক সংগঠন ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশে নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতার কারণ বিশ্লেষণে সমাজবিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখে, এটি সমাজের কাঠামো, সংস্কৃতি, ক্ষমতার সম্পর্ক ও লিঙ্গবৈষম্যের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে সাইবার এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ডিজিটাল প্রতিরোধ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা প্রদানে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনটি স্তরের পদক্ষেপ অপরিহার্য। প্রথম স্তর হলো আইনি শক্তি। আইনের ফাঁকফোকর সংস্কার করা, কার্যকর প্রটোকল প্রণয়ন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

দ্বিতীয় স্তর হলো সংগঠন ও সাংগঠনিক শক্তি। দেশে বিভিন্ন সংগঠন একত্র হয়ে নারীর ও শিশুর প্রতি সাইবার সহিংসতা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। সংগঠনগুলো সরকারকে চাপ দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করতে পারে। আইনি সহায়তা এবং সমবেত উদ্যোগ সমাজে সচেতনতা বাড়ায়।

তৃতীয় স্তর হলো সামাজিক সচেতনতা। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নারীর অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যথাযথভাবে স্বীকৃত নয়। নারীর ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্যকে প্রমাণহীনভাবে প্রকাশ করা অনলাইন সহিংসতার এক দৃষ্টান্ত। মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটিত ন্যূনতম ঘটনা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কেবল আইনি কাঠামো নয়, বরং তার কার্যকর প্রয়োগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রটোকল গড়ে তুলতে হবে। এই যুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ, সামাজিক সংগঠন এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। আইন ও নীতির কাগজে-কলমে থাকা দায়বদ্ধতাকে যখন মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা হবে, তখনই নারীর অনলাইন নিরাপত্তা প্রকৃত অর্থে জোরদার হবে। বাস্তবতা হলো, ডিজিটাল সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা প্রায়শই পরিবার ও সমাজে মর্যাদাহানি বা গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে গুটিয়ে থাকেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সংশয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা তাদের অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করে। এই আস্থার সংকট কাটাতে ‘ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক’ একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করা সময়ের দাবি। যেখানে পুলিশ, সাইবার ইউনিট ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলো একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গণসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা’ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশীয় আইনের প্রতি দায়বদ্ধ করতে হবে, যাতে যেকোনো সহিংস কনটেন্ট অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করা যায়। সর্বোপরি সবার সম্মিলিত নৈতিক জাগরণ এবং জেন্ডার সচেতনতাই পারে একটি নিরাপদ ও স্মার্ট সমাজ উপহার দিতে।

*লেখক: অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান ও অতিরিক্ত পরিচালক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, খুলনা-৯২০৩, বাংলাদেশ