এ সময়টাতে আমাকে মূলধারায় ধরে রাখার মতো অসম্ভব কাজটি করেছিল দাদা ও মা। অবশেষে সব হতাশার অবসান হয় ৪ জুলাই। ওই দিন প্রকাশিত হয় ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। সেদিন আমি, দাদা ও মা তিনজনই কেঁদেছিলাম আনন্দে। সুযোগ পেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির।

টিএসসি, কলাভবন, কার্জন হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, চারুকলা অনুষদকে নিজের মনে হয় প্রথমবার ১১ অক্টোবর। কারণ, ওইদিন আমি প্রথম প্রাণের ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন হয়ে এসেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার এ পথ যেমন ছিল দীর্ঘ, তেমনই ছিল সংগ্রামময়।

তবে আমি সৌভাগ্যবতী; কারণ, আমার এ সংগ্রামময় পথে কোনো আঘাত আমায় ছুঁতে পারেনি। আমার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আমার দাদা, মা, বাবা, ও শিক্ষকেরা। আমাকে রক্ষা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন আমার দাদা। জীবনের যাত্রাপথে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য লাল বাসের টিকিটটা আমার দাদা আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, তিশা সাহা, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২২, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়