তিনজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও চারজন। ট্রাফিক পুলিশ মনির হোসেনের সুযোগ ছিল নিজেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে মঞ্চস্থ নাটকের দর্শক হওয়ার। কিন্তু বিবেক তাঁকে বাধা দিয়েছিল। মনির হোসেনেরা এভাবেই স্ত্রী-সন্তানের ভালোবাসা উপেক্ষা করে আত্মাহুতি দিয়ে যান দায়িত্ব বোধ থেকে। আর যাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা, তাঁরা কিছুদিন তৎপর থাকেন, বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা ভুলতে থাকি। অনুরূপ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের তৎপরতা আবার বেড়ে যায়। এ যেন এক পুনরাবৃত্তি চক্রে আমরা নিমজ্জিত, যা থেকে উত্তরণের পথ কারও জানা নেই!

রেল দুর্ঘটনায় যত প্রাণহানি হয় এর ৮৩ শতাংশই মারা গেছে রেলক্রসিংয়ে। আমি একজন রোড সেফটি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দুর্ঘটনাগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করব। বাঙালি আবেগপ্রবণ জাতি, তাই শুরুতেই আবেগঘটিত বিষয়গুলোকে সজ্ঞানেই দূরে সরিয়ে দিচ্ছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কেন আগে থেকেই সতর্কতামূলকব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বোকামি। আর খুঁজতে যাবেনই-বা কেন? কিছু রেলক্রসিংয়ের সাইনবোর্ডে তো লেখাই রয়েছে: ‘এখানে কোনো গেটম্যান নাই। পথচারী ও সব যানবাহনচালক নিজ দায়িত্বে পারাপার করিবেন এবং যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে নিজেই বাধ্য থাকিবেন’।

অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষ এখানে সম্পূর্ণ নির্দোষ! অবাক ব্যাপার হলো, রেলের আইনে রেলক্রসিংয়ে মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং আমাদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়, কেন সারা দেশের ২ হাজার ৫৬১ রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৮২% অরক্ষিত? কোনো প্রহরী ছাড়াই চলছে এ রেলক্রসিংগুলো। কিছু ক্রসিংয়ে নামমাত্র প্রতিবন্ধক থাকলেও সেগুলো দেখার মতো কেউ নেই। এমনকি আমাদের এ ব্যাপারে চুপ থাকাই ভালো যে বাকি ১৮% ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকা সত্ত্বেও গেটম্যানের ঘুমের কারণে গেট বন্ধ না করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে!

২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন। রেলক্রসিং খোলা দেখে বাসচালক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে ঘটে দুর্ঘটনা। আমরা শপিং মলগুলোতে অটোমেটেড ডোরিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছি। আর রেলক্রসিংগুলোর দায়িত্ব দিয়েছি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত গেট-কিপারের হাতে যাদের ক্লান্তি আসে, ঘুম পায়, আবার কখনো বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়! আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নাসা আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য ল্যান্ডিং রোবট বানিয়ে পুরস্কার পর্যন্ত জিতে নিয়েছে আর এ একবিংশ শতকে এসেও মেকানিক্যাল লিভার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গেটম্যানরা গেট ওঠান আর নামান!
আলোচনার সুবিধার্থে বিষয়টি তুলে ধরছি—

১.

লেখায় নলছাটা রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ব্যাপারে বলা হয়েছে। রেল গেটটি অরক্ষিত। ২০২১ সালের ১ অক্টোবর রেলক্রসিংটি অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবদুর রহিম খানের। তাঁর প্রাইভেট কারটি খাদে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই শিক্ষকের মৃত্যু হয়। মারাত্মক আহত হন তাঁর স্ত্রী যুগ্ম সচিব দিলজুয়ারা।

রক্ষিত এবং অরক্ষিত রেলক্রসিং কাকে বলে? রক্ষিত রেলক্রসিং পাহারাদার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রেলক্রসিং, যেখানে লোহার গেট থাকে। এ রকম ক্রসিং গেট খোলা পাওয়ার অর্থই হলো, আপনি নিশ্চিন্তে রোড ক্রস করতে পারবেন। পক্ষান্তরে অরক্ষিত রেলক্রসিং হলো পাহারাদারবিহীন রেলক্রসিং। আপনাকে নিজ দায়িত্বে রাস্তা পার হতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কীভাবে বুঝবেন যে সামনের রেলক্রসিংটি রক্ষিত নাকি অরক্ষিত?

এটা আপনি বুঝবেন রোড সাইন দেখে। প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে ওঠার একটু আগে এ রোড সাইনটি থাকে, যা নির্দেশ করে ক্রসিংটি রক্ষিত নাকি অরক্ষিত। অধিকাংশ অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সামনে সাইনটি থাকে। মজার ব্যাপার হলো, যদি চালক এ সাইনের অর্থ না জানেন, তবে ছবি দেখে মনে হতে পারে এটি একটি সুরক্ষিত রেলক্রসিং এবং যেহেতু কোনো রেল গেট ফেলে দেওয়া হয়নি, সুতরাং আমাকে ক্রসিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে!

রক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সাইন এটি (ডান দিকে)। মূলত লাল ত্রিভুজের সাইনগুলো সতর্কতামূলক সংকেত। শুধু সংকেত ভুল বোঝার কারণে দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মোটকথা, আপনি কিংবা আপনার চালককে এ দুটি সাইন অবশ্যই জানতে হবে এবং শুধু জানলেই হবে না, মানতেও হবে।

আচ্ছা ধরুন, আপনি রাস্তা পার হওয়ার সময় রক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সাইন পেলেন। এর মানে যদি গেট লাগানো না থাকে, আপনার জন্য পার হওয়া নিরাপদ। প্রশ্ন হলো, আপনি কি নিশ্চিন্তে পার হবেন? আমার উত্তর হলো ‘না’। কারণ, আপনি বাংলাদেশে বসবাস করেন, যেখানে ‘রক্ষিত’ একটি কেতাবি বিষয়, যা বইপত্র আইনে থাকে, বাস্তবে নয়।

আপনাকে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ লেখার শুরুতেই মিরসরাই বড়তাকিয়া এবং ঝাউতলা ক্রসিংয়ের যে দুটি দুর্ঘটনার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কিন্তু সুরক্ষিত রেলক্রসিং ছিল, যেখানে বড়তাকিয়া ক্রসিংয়ে গেট-কিপার অনুপস্থিত ছিল এবং ঝাউতলা ক্রসিংয়ে গেট-কিপার ভুলবশত লোহার বার নামাননি! পরবর্তী পয়েন্টে (দুই নম্বর) আপনার কৌশল কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

২.

প্রশ্ন উঠতে পারে, রোড সাইন না-হয় চালকের চোখ ফাঁকি দিল, কিন্তু আস্ত একটা ট্রেন কীভাবে তাঁর চোখ এড়ায়? খেয়াল করে দেখবেন, বেশির ভাগ রেললাইন উলম্বভাবে (৯০ ডিগ্রি কোণে) সড়ককে ক্রস করে। রেললাইনের দুই পাশে ঘন গাছের কারণে কিংবা শহরাঞ্চলে দোকানপাট বা বসতি থাকার কারণে, যা বোঝা যায় না। সাধারণত ট্রেন চালকেরা ক্রসিংয়ের সময় হর্ন বাজান, এ ক্ষেত্রেও বাতাসের দিক রাস্তা বরাবর না থাকলে শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে।

প্রাইভেট কারের গ্লাস থাকায় যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বোঝা যাবে না। তাহলে উপায়? উপায় একটিই। অরক্ষিত রেল গেটের মুখে এসে গাড়ি ব্রেক করতে হবে। ডানে এবং বামে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই আপনি সামনের দিকে এগোবেন। মনে রাখবেন, এটি কোনো বোকামি অথবা সময়ের অপচয় নয়। বরং এটাকেই রোড সেফটির পরিভাষায় আমরা বলি সতর্কতা এবং ব্যক্তি সচেতনতা। এ কাজটি ভুলেও চালকের হাতে ছেড়ে দেবেন না।

বেশির ভাগ চালকেরা সাধারণত আশপাশের গাড়ির চলাচল দেখে ধরেই নেন রাস্তা ক্লিয়ার। এটি কিন্তু সতর্কতার মাপকাঠি নয়। বেশির ভাগ মানুষই একই সঙ্গে ভুল করতে পারেন। খেয়াল করে দেখুন, ২০০৯ সালের ১৭ জুন মগবাজার রেলক্রসিংয়ের ট্রেনের ধাক্কায় একটি বাসসহ তিনটি প্রাইভেট কার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, যা ক্যামেরায় ধারিত হয়েছিল এবং ইন্টারনেটের ইউটিউবে আজও আপনি সেই ঘটনাটি চাইলে দেখতে পারবেন। দুর্ঘটনার মূল কারণই হলো সম্মিলিতভাবে ঝুঁকি নেওয়া, যা একে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

৩.

অনেক ক্ষেত্রে ট্রেন দেখার পরও চালকেরা ঝুঁকি নেন এ কারণে যে ট্রেন এখনো দূরে আছে। এ বছর সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখে মৌলভীবাজারের ভাটেরা লেভেল ক্রসিংয়ে এলাকায় ট্রেনের হুইসেলের মধ্যেই পার হচ্ছিলেন মাইক্রোবাস চালক। চালক ভেবেছিলেন পার হতে পারবেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে ঠেলে আধা কিলোমিটার নিয়ে গিয়েছিল ট্রেনটি। এতে নিহত হন দুজন। অন্যরা বরণ করেন আজীবনের পঙ্গুত্ব।

রোড সেফটিতে এটাকে বলে ‘আন্ডার এস্টিমেটেট স্পিড অ্যান্ড ডিসট্যান্স ‘অর্থাৎ অন্য বাহনের গতিবেগ বা দূরত্বকে অবমূল্যায়ন করা বা ভুল ধারণা (wrong Estimation) করা। এটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে—একটি গতিশীল বস্তুর গতি যতটা ধারণা করা হয়, প্রকৃতপক্ষে তার গতিবেগ আরও বেশি। উদাহরণস্বরূপ যদি একজন চালকের কাছে চলন্ত ট্রেনের গতিবেগ ৫০ কিলোমিটার বা ঘণ্টা মনে হলেও তার প্রকৃত গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার বা ঘণ্টা।

দূরত্বের ক্ষেত্রেও যদি কোনো চালকের কাছে মনে হয়, ট্রেনটি ২০০ মিটার দূরে আছে বাস্তবিক পক্ষে ট্রেনটি ১৫০ মিটার দূরত্বে। এমনকি চলন্ত অবস্থায় একটি ট্রেনকে যতটা ছোট মনে হয়, বাস্তবিক পক্ষে ট্রেনটি তার থেকেও বেশি লম্বা। একজন সচেতন চালক যদি এ তথ্যগুলো জানেন, তবে তাঁর পক্ষে এ রকম ঝুঁকি নেওয়ার কথা নয়।

৪.

নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বলি। বনানী রেলক্রসিংয়ে ট্রেন পার হওয়ামাত্রই এক মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত লাইনে উঠে যান। এটি ছিল ডাবল লাইন। অপর লাইন থেকে যে আর একটি ট্রেন আসতে পারে, তা সে কল্পনাও করতে পারেননি। দুই লাইনের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থানে তার সেই ৩০ সেকেন্ডের অবস্থান না সে ভুলতে পারবে, না আমরা যারা ঘটনাস্থলের সাক্ষী ছিলাম, তারা ভুলতে পারব। আল্লাহর রহমতে তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। এটি মূলত ঘটেছিল অসহিষ্ণুতার কারণে। বিশেষত, বাইক চালকেরা প্রায় সময়ই এ রকম যেচে গিয়ে নিজেদের বিপদের মুখে ফেলে দেন।

৫.

এ পয়েন্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের চিন্তার খোরাক হতে পারে। কী কারণে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রেলগেটগুলো পরিচালিত হচ্ছে, তা রেল মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আবার এটাও সত্যি যে বিদেশের উন্নত প্রযুক্তি কপি পেস্ট করে বসিয়ে দিল সমস্যার সমাধান হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো টেকনোলজি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা একটি দেশের কৃষ্টি-কালচার, জনগণের জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

আমরা একটা জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারি, যেখানে বাংলাদেশের যত সরকারি এবং বেসরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তারা প্রত্যেকেই এই জ্বলন্ত সমস্যার একটা বাস্তব সমাধান খুঁজে বের করবে, যেখান থেকে কার্যকর পাঁচটি আইডিয়াকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসে পরীক্ষা চালাতে হবে।

সন্দেহ নেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেশীয় প্রযুক্তিতেই এই সমস্যার তাক লাগানো সমাধান বের করে আনার পরিপূর্ণ সক্ষমতা রাখে, শুধু দরকার একটু পৃষ্ঠপোষকতা। আমার কল্পনা করতেই ভালো লাগছে যে পুরো দেশে আলোড়ন উঠে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যে কীভাবে নিজের প্রতিষ্ঠানকে সেরাদের কাতারে নিয়ে আসবে, শুধু কী তাই, দারুণ একটা সুযোগ এসেছে দেশের জন্য কিছু করার। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে এটা একটা সাংঘাতিক আবেগের ব্যাপার, তা নিশ্চয় খুলে বলার দরকার নেই।

৬.

এ পয়েন্ট সবার জন্য। ভালো করে চিন্তা করে দেখুন, রেলক্রসিংয়ের প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনায় চালকের নেওয়া একক সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে যাত্রীদের। চালককে অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দিতে হবে, তবে তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। চালককে তাঁর ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে হবে এবং সেটি করতে হবে আন্তরিকতার সঙ্গে, শাসিয়ে লাভ হবে না। আমাদের দেশের বেশির ভাগ চালকেরা কিন্তু পছন্দের পেশা হিসেবে এ পরিবহন খাতকে বেছে নেননি। সত্যি বলতে, এটা হলো তাঁদের জীবিকার লাস্ট অপশন।

চালকেরা অকপটেই বলে থাকেন, উঠতি বয়সের লাগামহীন জীবনযাপন আর লেখাপড়ার গুরুত্ব অনুধাবন না করার কারণেই বাধ্য হয়ে এই পেশা বেছে নিতে হয়েছে।

আপনার সন্তানকে কী বানাতে চান—এ প্রশ্নের জবাবে আজ পর্যন্ত একটা উত্তরও পাইনি যে ভালো গাড়িচালক বানাতে চাই! তাহলে কীভাবে আশা করেন পোড়খাওয়া মানুষগুলো আপনার ধমকে ঠিক হয়ে যাবে? যুক্তি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় আপনার উদ্বেগের কথাগুলো শেয়ার করুন, দেখবেন তাঁর তরফ থেকে এবার পজিটিভ ফিডব্যাক আসছে!

পরিশেষে বলতে চাই, কোনো জাতির অবস্থা নাকি ততক্ষণ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে, যতক্ষণ না তারা চেষ্টা চালায়। তবে চলুন আমরাও সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাই এ অঙ্গীকারনামায়—‘শিখি ভালো কিছু অভ্যাস, এসো বদলাই সড়কের পরিবেশ’।

লেখক: মুহাম্মদ আর হুসাইন

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন