অদৃশ্য স্পিডব্রেকার
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে অনেক চালকের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক শুধু যানজট নয়; বরং হঠাৎ সামনে এসে পড়া চিহ্নহীন স্পিডব্রেকার। ছবিতে দেখা গাড়িটির মতো নিচু উচ্চতার যানবাহনের জন্য এমন বাধা শুধু অস্বস্তিকর নয়, অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশজুড়ে অসংখ্য স্পিডব্রেকার রয়েছে, যেগুলোতে নেই প্রতিফলক রং, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন। ফলে চালকেরা সময়মতো গতি কমানোর সুযোগ পান না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা এ কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
২০২৫ সালে হাতিরঝিলে চিহ্নহীন স্পিডব্রেকার নিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের ঝুঁকি শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন শহর, বাজার এলাকা ও আবাসিক সড়কেও একই সমস্যা রয়েছে।
কেন এই সমস্যা—
স্পিডব্রেকার নিয়ে সমস্যার অন্যতম কারণগুলো হলো—
স্পিডব্রেকার নির্মাণে একক মানদণ্ডের অভাব।
রং ও প্রতিফলক চিহ্নের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া।
রাস্তা সংস্কারের পর পুনরায় চিহ্নায়ন না করা।
জনগণের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা।
করণীয়—
এ সমস্যা সমাধানে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি—
প্রতিটি স্পিডব্রেকারে টেকসই প্রতিফলক রং ব্যবহার করা।
আগাম সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক করা।
নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।
প্রকৌশলগত যাচাই ছাড়া নতুন স্পিডব্রেকার নির্মাণ বন্ধ করা।
একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণের খরচ হয়তো কম, কিন্তু একটি জীবন অমূল্য। দৃশ্যমান ও সঠিকভাবে চিহ্নিত স্পিডব্রেকার দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে; বিপরীতে, অদৃশ্য বা চিহ্নহীন স্পিডব্রেকার দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই বিষয়টি আর অবহেলা না করে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক: ফেয়ার টেকনোলজিতে কর্মরত, ঠিকানা: ৭৬ বি খাজা প্লাজা, বনানী-১১, ঢাকা
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]