ফেবারিট না হলেও জার্মানি কেন এখনো ভয়ংকর আন্ডারডগ

১৯৯০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তিন কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রইফ, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির দলকে হারিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। ইতিহাস বলছে, জার্মানিকে কখনোই শুধু বর্তমান ফর্ম বা কাগুজে হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না।

আসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানি অধিকাংশ মানুষের ফেবারিট তালিকায় নেই। সত্যি বলতে, দলটি এখনো পরিবর্তনের মধ্যেই আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী প্রজন্মের অনেক তারকা বিদায় নিয়েছেন। টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। ফলে অনেকের চোখে জার্মানি এখন আর আগের সেই ভয়ংকর দল নয়।

কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, জার্মানিকে এত সহজে শেষ ভাবা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান দলটি তারুণ্যনির্ভর, প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময়। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, কাই হাভার্টজ, ডেনিজ উনদাভ কিংবা আলেক্সান্দার পাভলোভিচ—নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলারদের মধ্যে আলাদা এক আত্মবিশ্বাস ও ভালো করার তাড়না দেখা যায়। তাঁদের ফুটবলে গতি আছে, সৃজনশীলতা আছে, আবার বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার ক্ষুধাও আছে।

অন্যদিকে নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কিমিখ ও ম্যানুয়েল নয়্যারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। বিশেষ করে নয়্যারের উপস্থিতি এখনো জার্মান দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। আর কিমিখ মাঠে নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও লড়াইয়ের মানসিকতার প্রতীক।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জার্মানি কখনোই শুধু একক তারকার ওপর নির্ভরশীল দল নয়। দলটির শক্তি বরাবরই দলগত ফুটবল, শৃঙ্খলা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তা।

আর বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই মানসিকতাই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

ইতিহাসও সেটিই বলে।

১৯৫৪ সালে আন্ডারডগ হয়েও সে সময়ের দুর্দান্ত হাঙ্গেরিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল পশ্চিম জার্মানি। সেই ম্যাচটি এখনো ‘Miracle of Bern’ নামে পরিচিত।

১৯৭৪ সালে ইয়োহান ক্রইফের বিখ্যাত টোটাল ফুটবলের নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

১৯৯০ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতে জার্মানি।

আর ২০১৪ সালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই চতুর্থ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে তারা। সেই আসরে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হয়ে আছে।

আবার অন্যদিকে, ২০১৮ ও ২০২২ টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। অর্থাৎ, জার্মানির ক্ষেত্রে শুধু ইতিহাস নয়, ব্যর্থতার উদাহরণও আছে। আর এ কারণেই দলটিকে ঘিরে প্রত্যাশা এবার তুলনামূলক কম।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কম প্রত্যাশা অনেক সময় জার্মানির জন্যই সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, চাপের মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো এবং সবাইকে চমকে দেওয়া—এটাই জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

তাই বলা যায়, জার্মানি হয়তো স্পষ্ট ফেবারিট নয়; কিন্তু তারা অবশ্যই ভয়ংকর এক আন্ডারডগ।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]