ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিচ্ছে পতেঙ্গা সৈকতে: অপার সৌন্দর্যের আড়ালে অব্যবস্থাপনার অন্ধকার
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সাগরের বিশালতা, গর্জন, দিগন্তে নোঙর করা সারি সারি জাহাজ আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো উৎসুক মানুষ। কিন্তু নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে এসে পর্যটকদের আনন্দের রেশ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগের আড়ালে।
পতেঙ্গা সৈকতের বর্তমান চিত্রটি যেন একই মুদ্রার দুটি পিঠ। দিনে যা চোখজুড়ানো আনন্দ দেয়, রাতে তা রূপ নেয় একচিলতে হতাশায়।
১. সন্ধ্যার পরেই ঘুটঘুটে অন্ধকার
পতেঙ্গা সৈকতের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো গোধূলিলগ্ন ও সন্ধ্যার মৃদু বাতাস। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামতেই পুরো সৈকত এলাকায় এক ভুতুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। সৈকতজুড়ে আধুনিক ল্যাম্পপোস্ট দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোয় কোনো আলো জ্বলে না। খুঁটি আছে কিন্তু লাইট নেই, এমন অদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে অন্ধকারে পর্যটকদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি পরিবার–পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
২. ময়লা–আবর্জনার স্তূপ
যে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচরে পর্যটকেরা হেঁটে বেড়াবেন, সেখানে এখন দখল করে নিয়েছে যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট আর ডাবের খোসা। অপর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদাসীনতায় সৈকতের চিরচেনা সৌন্দর্য আজ ম্লান। বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, যা প্রকৃতির নির্মল বাতাস উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য দারুণ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. মানহীন খাবারের চড়া দাম
সৈকত এলাকার অস্থায়ী দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোয় খাবারের মানের কোনো বালাই নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি মানহীন খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে পর্যটকদের। শুধু তা–ই নয়, উৎসবের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানের এসব খাবারের দাম রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বী। পর্যটকদের বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিম্ন মানের খাবার কিনে প্রতারিত হতে হচ্ছে।
পর্যটকদের আক্ষেপ, ‘প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে ঠিকই, কিন্তু এখানকার পরিবেশ ও অন্ধকারের কারণে আমরা বেশিক্ষণ থাকতে ভয় পাই। ল্যাম্পপোস্ট থেকেও আলো না থাকা আর চারপাশের নোংরা পরিবেশ পর্যটন নগরী চট্টগ্রামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]
দেখার যেন কেউ নেই!
চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান এই পর্যটনকেন্দ্র থেকে সরকার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় করলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটকদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি যেন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতা ও উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে সচেতন মহল।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে শুধু নামেই নয়, কাজেও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অবিলম্বে ল্যাম্পপোস্টগুলোয় আলোর ব্যবস্থা করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এবং খাবারের বাজারে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথা এই অব্যবস্থাপনার কারণে পতেঙ্গা তার ঐতিহ্য ও পর্যটক হারাবে।