গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শপথ গ্রহণ ও নবীনবরণ
দীর্ঘ সময় পর আবার, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শপথবাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সেশনের নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবুল হোসেন।
এদিন নবাগত শিক্ষার্থীদের পদচারণে সকাল থেকেই মুখর ছিল ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। শপথ গ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৪১৭ নম্বর কক্ষে বেলা ১ টায় নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই-২০২৪–এর গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফুয়াদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাপত্রের ওপর প্রেজেন্টেশন এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবনী নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া নবীন শিক্ষার্থীরা বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগতম এবং উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘সমাজের সব স্তরের মানুষ যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যার বিষয়ে আমার সঙ্গেও কথা বলতে পারে, শিক্ষার্থীদের জন্য আমার দরজা সর্বদা খোলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো-মন্দ দুটি বিষয়ই থাকে, তোমরা যেটা বেছে নেবে, তোমাদের জীবন সেভাবেই গড়ে উঠবে।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির প্রধান মো. রফিকুল আলম এবং ডিনস কমিটির প্রধান মো. জহিরুল ইসলাম খানও বক্তব্য দেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় কবিতা, নাচ, গানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধারাবাহিকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উপস্থিতে কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেও ২০২২ সালের পর পুনরায় এ বছর নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেছে গবি প্রশাসন।