গাজা: ঝরছে রক্ত, নীরব পৃথিবী

গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলার পর হতাহত ব্যক্তিদের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৮ মার্চ, ২০২৫ছবি: রয়টার্স

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীতে বহু যুদ্ধ হয়েছে, বহু হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে; কিন্তু গাজায় যে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে, তা মানবতার ইতিহাসে কলঙ্কের নতুন সংযোজন। শিশুদের কান্না, মায়েদের আর্তনাদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্বপ্ন—এগুলো শুধু খবরের শিরোনাম হয়ে রয়ে যায়, নীতিনির্ধারকদের বিবেককে নাড়া দিতে ব্যর্থ হয়।

আজকের গাজা এক রক্তাক্ত মৃত্যুপুরী। প্রতিদিন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে, প্রতিটি ঘরে শোকের ছায়া। হাসপাতালগুলোর মেঝেতে সারি সারি রক্তাক্ত লাশ, যারা হয়তো কদিন আগেও হাসিখুশি ছিল, নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল। নবজাতক শিশুরা অক্সিজেনের অভাবে মায়ের কোলে মারা যাচ্ছে, হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচে চিকিৎসকেরা চাপা পড়ে যাচ্ছেন, অথচ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

পশ্চিমাদের মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের বুলি গাজায় এসে থেমে যায়! এক শিশু যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শেষবারের মতো ‘আম্মু’ বলে ডাকে, তখন তাদের বিবেক কি একবারও কেঁপে ওঠে না? ফিলিস্তিনিদের রক্ত কি তাদের কাছে রক্ত নয়?

গাজায় আজ শুধু বাড়িঘর ধ্বংস হচ্ছে না, মানবতার শেষ চিহ্নও মুছে যাচ্ছে। বিশ্বনেতারা ‘শান্তি’র নামে কথার ফুলঝুরি ছড়ালেও বাস্তবে তাঁরা যুদ্ধের মদদদাতা। জাতিসংঘের প্রস্তাব ধুলায় মিশে যায়, অথচ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুনাফা বাড়তেই থাকে।

কিন্তু গাজার প্রতিটি শহীদ শিশুর চোখে প্রশ্ন—পৃথিবী কেন চুপ? কবে শেষ হবে এই বর্বরতা?

এই নীরবতা একদিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে। গাজার রক্ত শুধু ফিলিস্তিনিদের নয়, এটি আমাদের নৈতিকতা ও মানবতার ব্যর্থতার প্রতীক। এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। বিশ্ব যদি সত্যিই মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে চায়, তবে এখনই গাজার পাশে দাঁড়াতে হবে—শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে। নতুবা এই পৃথিবী একদিন সভ্যতা হারিয়ে ফেলবে, রক্তের সমুদ্রে ডুবে যাবে।

গাজা বাঁচুক, মানবতা বাঁচুক!

*লেখক: ইব্রাহীম খলিল সবুজ, শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভ্রমণ, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]