গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির চিন্তা নেই কারও
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুচ্ছ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া। আর্থিক দিক থেকেও ছিল স্বস্তির বিষয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উপস্থাপন করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)—এই সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে আবার একাধিক ভিন্ন ভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব এবং আর্থিক ব্যয়ের পাশাপাশি মানসিক চাপও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুচ্ছে থাকার আহ্বান জানানো হলেও তারা নানা অজুহাতে বেরিয়ে গেছে। এ বছর আমাদের আর কিছু করার নেই। তবে আগামী দিনে যেন এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, সেই চেষ্টা করা হবে। এখানে মূলত নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও জানিয়েছেন, গুচ্ছভুক্ত অবস্থায় ভর্তিতে কী পরিমাণ ব্যয় হতো এবং গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী পরিমাণ অর্থ আয় করছে, তার হিসাব নেওয়া হবে।
গুচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার মনে হয়, গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নিজেদের আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বা সমন্বিত পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে চিন্তা করেনি।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি ছিল একটি স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ থাকলেও, কঠোর পদক্ষেপের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু এবারের মতো বড় একটি সিদ্ধান্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে বোঝা যায়, শিক্ষাব্যবস্থায় নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব প্রকট।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে যে উদ্যমে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু হয়েছিল, সেই উদ্যম ধরে রাখতে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে, ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা আমাদের হতাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে এমন বিভক্তি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে গুচ্ছ পদ্ধতির কার্যকারিতা বাড়াতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সুসংগঠিত পদক্ষেপ নেবে।
*লেখক: রেশমা রিয়া, ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক, পঞ্চগড়, বন্ধুসভা