বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আজকের সকাল বেশ আরামদায়ক। বৃষ্টির কারণে সকালের ঘুমও বেশ ভালো হয়েছে। ঘুম ভাঙার পর প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দারুণ ভালো লাগা কাজ করছে। মনে হচ্ছে সবুজ গাছগুলো আবার যেন প্রাণ পেয়েছে। যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে মায়াবী হরিণীর মতো। আমিও আমার সকালের মায়ায় আটকে আছি অপলক।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর কেউ মজা করে ঈদ করতে পারেনি। এবার তাই ভিন্ন রকমের ঈদ ছিল। সবার চোখেমুখে আনন্দ ছিল। ছেলেদের রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস করতেও দেখা গেছে। দেখলাম, এই গ্রামেও অনেকে ডিজে পার্টির গান বাজাচ্ছে। ট্রাকে-অটোতে বড় সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে নাচানাচি করতে দেখলাম অনেককেই।

গত ১০ বছর গ্রামে আসিনি। বিদেশে থাকার কারণে খুব কাছ থেকে গ্রামের পরিবর্তন দেখিনি। তবে এই পরিবর্তন আমার ভালো লাগছে না। ছেলেরা এখন আর একদম মাঠমুখী নয়। খেলাধুলার সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ নেই। ছোট ছেলেদের দেখলাম ছোট ছোট গ্রুপে বসে সিগারেট টানতে।

জানি না এটি বিশ্বায়নের প্রভাব কি না। এই পরিবর্তনে একটু খটকা লেগেছে। তবে অবাক হইনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে—এটিই স্বাভাবিক। আমি মেনেও নিতে প্রস্তুত। তবে সবকিছুর পরও আমি চাই গ্রামের কিছু বিষয় টিকে থাকুক অনন্তকাল।

default-image

আমেরিকার মতো দেশগুলোয় মাঠে খেলাধুলা হয় সারা বছর। সেখানে একটু পরপর মাঠ আছে। ছেলেমেয়েরা বিকেলে কাজ শেষে মাঠে আসে। উইকএন্ডে প্রায় সবাই মাঠে কাটায়। খেলাধুলা করে। আমেরিকানদের রাষ্ট্রকাঠামোয় খেলাধুলা একটি অপরিহার্য অংশ।

কিন্তু আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে খেলাধুলা উঠেই গেছে। আমাদের এখানে স্কুলের সামনে সুন্দর একটি মাঠ আছে। দেখলাম মাঠটি ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরে আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আশা করি নজর দেবে। এর বাইরে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে আমাদেরও মাঠের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

আমাদের গ্রামটি ঢাকার অনেক কাছে। ঢাকার অনেক কাছে এ রকম গ্রামীণ আবহ পেতে সত্যি ভালো লাগে। সিঙ্গাইর, কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জের সংযোগ পয়েন্ট আমাদের গ্রাম। দুই পা বাড়ালেই ঢাকা। তবে ঢাকার সুযোগ-সুবিধার ছিটেফোঁটাও নেই। রাস্তাঘাট অবশ্য ভালো হয়েছে। এখন চাইলেই ৩০ মিনিটের মধ্যে ঢাকার গাবতলী যাওয়া যায়।

গ্রামের প্রতি আমার অন্য রকম টান সব সময় ছিল। এখানে আসতে আমার সব সময় ভালো লাগে। ঈদের দিন বিকেলে যখন বহু বছর পর মাঠে ফুটবল খেললাম, তখন সেই ছোটবেলা যেন ফিরে এসেছিল। জলজমাট মাঠে এই স্মৃতি আরও বড় করে মনে উঁকি দিয়েছিল।

বারবার এই গ্রামে ফিরে আসার আকুতি সব সময় আছে। জানি এই ব্যাকুলতা থাকবে আমৃত্যু। কবি জসীমউদ্‌দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতা থেকে তাই বলতে ইচ্ছা করছে—
‘তুমি যাবে ভাই-যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায়–পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া–মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই-যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়।’

লেখক: ড. মো. ফজলুল করিম, সহযোগী অধ্যাপক, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন