বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ভরসা রেলপথ। সেখানেও টিকিট সংগ্রহ যেন যুদ্ধজয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এরপর যারা টিকিট পেতে সফল, তাদের ব্যবস্থা হলেও বাকিদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাঁদে, গেটের মুখে গাদাগাদি করে কোনোভাবে একটু জায়গা করে নেওয়ায় একরকম স্বপ্ন পূরণ। এ ছাড়া সড়কপথ কিংবা নৌপথে রয়েছে ছোট যানবাহনের ব্যবহার। এমনকি রেলপথেও রয়েছে মালবাহী ট্রেনে যাত্রীদের গন্তব্যে ফেরার গল্প।

default-image

যাত্রাপথের এ ভোগান্তিগুলোর সঙ্গে আমরা একরকম পরিচিত। কিন্তু প্রতিবারেই কী যাত্রাগুলো এমন হওয়াটা কাম্য? শুধু যাত্রাপথে ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়, রয়েছে মাঝারি থেকে বড় রকমের দুর্ঘটনার চিত্র। এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কিংবা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সবাই কতটা প্রস্তুত?

প্রতিটি সমস্যার কিছু না কিছু সমাধান রয়েছে। ঠিক তেমনি যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন যাত্রাপথে সমন্বয়। নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমের মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় খুব বড় রকমের ভূমিকা রাখে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে যে যে বিষয়গুলোর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে—

১. সড়কপথ, নৌপথ কিংবা রেলপথে টিকিট কাউন্টার কিংবা টিকিট সংগ্রহের বুথগুলোতে টিকিট সংগ্রহের নির্ধারিত সময়ে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নজরদারি রাখতে হবে এবং ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দিয়ে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো যাত্রী কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন হলে কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিছু দেখলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন, নৌযান কিংবা রেলের ইঞ্জিন, যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে দেখতে হবে যাত্রার জন্য প্রস্তুত কি না। একই সঙ্গে চালকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই তাঁকে চলাচলের দায়িত্ব দিতে হবে।

৩. বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন যেন না করে। অধিক মুনাফার লোভে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্নগুলো যেন যাত্রাপথেই শেষ না হয়। এগুলো তদারকির জন্য নির্দিষ্ট স্থানে চেকপোস্ট বসাতে হবে। নৌপথে টহল বাড়াতে হবে এবং যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

৪. যেহেতু যানযট যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় রকমের গলার কাটা, সেহেতু কীভাবে কিছুটা ভোগান্তি লাঘব করে যাত্রাপথে যানযট কমানো যেতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলে একসঙ্গে দীর্ঘ যাত্রীর চাপ থাকবে না। তা ছাড়া মালামাল পরিবহন ও ছোট যানের ব্যবহার এই সময়ে রোধ করা যেতে পারে, এতে কিছুটা যানযট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

৫. ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত যান বা যোগাযোগ মাধ্যম নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদেরও এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রায় যেকোনো সময় জীবনপ্রদীপ নিভে যেতে পারে। পরিবার ও নিজের কথা ভেবে এ বিষয়গুলো বর্জন করতে হবে।

৬. বিশেষ করে নৌপথে ছোট যান তথা স্পিডবোট, ট্রলারে করে যাত্রী পরিবহনে বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে। অধিক মুনাফার লোভে কোনোভাবেই যাত্রীদের বিপদের মুখে ফেলা যাবে না। তা ছাড়া এখন বৈশাখ মাস, যখন-তখন কালবৈশাখীর দেখা মিলতে পারে। সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে তৎপরতা বাড়াতে হবে।

৭. যাত্রাপথগুলো নজরদারিতে আনলে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে যাত্রী এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষ উভয়ই ওই বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

৮. প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবার পাশাপাশি, ঈদযাত্রার জন্য অভিযোগ কিংবা সাহায্যের জন্য হটলাইন সেবা চালু করা যেতে পারে।

নিরাপদ ঈদযাত্রা এবং দুর্ঘটনা রোধে ওপরে বর্ণিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। যাত্রাপথে সবাইকেই সহনশীলতা রাখতে হবে। যেকোনো রকম ভুল সিদ্ধান্ত নিজের এবং পরিবারের জন্য শুভকর নাও হতে পারে।

লেখা: কাব্য সাহা, শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন