সুন্দরবন রক্ষায় কিশোরী তাসফিয়ার অনন্য উদ্যোগ

সুন্দরবন রক্ষায় পোস্টার হাতে এক কিশোরীছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বন্য প্রাণীর ছবি তুলতে পছন্দ করে তাসফিয়া তাহসিন পূর্ণতা। আঁকে পাখি ও প্রাণীর ছবি। ছবি তুলতে তুলতেই বুঝতে পারে, বন্য প্রাণী আর পাখিগুলো ভালো নেই। সংখ্যায় কমছে, আবাসভূমিও কমছে। তাই ভালোবাসার প্রাণী আর পাখিদের বাঁচাতে সুন্দরবন রক্ষায় প্রচারে নেমে পড়েছে সে।

তাসফিয়া দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। সে ঢাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তাসফিয়া সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, জামতলা, কটকা, করমজলে সচেতনতামূলক পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘কাট ইওর গ্রিড, ইনস্টিড অব ট্রিস’ (গাছ কাটার বদলে তোমার লোভ বিসর্জন দাও), ‘সেভ সুন্দরবন, সেভ বাংলাদেশ’ (সুন্দরবন বাঁচাও, বাংলাদেশ বাঁচাও), ‘প্রটেক্ট ওয়াইল্ডলাইফ, প্রিজার্ভ দ্য প্ল্যানেট’ (বন্য প্রাণী রক্ষা করো, পৃথিবী রক্ষা করো) নিজ হাতে লেখা এসব পোস্টার নিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছে তাসফিয়া।

করমজলের সামনে সচেতনতামূলক পোস্টার নিয়ে এক কিশোরী
ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ৭ ডিসেম্বর ভূমি দখল, বৃক্ষনিধন ও দূষণে বিপন্ন সোনাদিয়া দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাসফিয়া প্রচার চালিয়েছে। ওই দিন সে সোনাদিয়া ও কালাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন অংশে নিজ হাতে লেখা পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে এই প্রচার চালায়। এসব পোস্টারে সোনাদিয়া দ্বীপ রক্ষা, কার্বন গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়। ওই দিন তাসফিয়া দ্বীপটির একাংশে পড়ে থাকা পানির বোতলসহ নানা প্লাস্টিক পণ্য, খাবারের মোড়ক, পলিথিন ইত্যাদি বর্জ্য সরায়।

তাসফিয়া প্রথম আলোকে বলেছে, ‘আমরা যারা কিশোর-কিশোরী আছি, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে। তাই নিজেদের প্রয়োজনেই কিশোর-কিশোরীসহ নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সোচ্চার হতে হবে।’

নিজেই সচেতনতামূলক এই পোস্টার বানিয়েছে তাসফিয়া
ছবি: সংগৃহীত

তাসফিয়া আরও জানায়, তার এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য স্থানীয় জনগণ, পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এ ছাড়া গণমাধ্যমের সহযোগিতায় বিষয়গুলো নানা পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের নজরে আনা ও জনমত তৈরি করা, যাতে তাঁরা এসব বিষয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ছোটবেলা থেকেই ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি করে তাসফিয়া
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি, তা জানে তাসফিয়া। এর মধ্যে নিজেরাও বনগুলো ধ্বংস করলে, বন্য প্রাণী শিকার ও পাচার করলে, পরিবেশ দূষিত করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে মনে করে সে। আর তাই তাসফিয়া নিজেই নেমেছে সচেতনতামূলক প্রচারে।