শোকের মাসে টুঙ্গিপাড়ায় একদিন

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব নাঙ্গলকোট (পিউসান)। পিউসানের উদ্যোগে নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল পরিদর্শন ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৯ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস নাঙ্গলকোট লোটাস কামাল চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে বেলা তিনটায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছায়। সেখানে তারা বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত করে। পরে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর বাসভবন, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও চারপাশের আঙিনা প্রদক্ষিণ করে।

এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকে জেনেছে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পড়েছে। এবার শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত টুঙ্গিপাড়া পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস কাছ থেকে জানাতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

বিজয়ীদের এই শিক্ষাসফরের পাশাপাশি জাতির জনকের জীবনীগ্রন্থ উপহার দেওয়া হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, বঙ্গবন্ধুদের আদর্শ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে ভবিষ্যতে তারাও দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাজেদুল হাসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের স্বার্থে এক আপসহীন ব্যক্তিত্ব। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে আরও কাছ থেকে জেনে নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে আমাদের এই আয়োজন নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

ছবি: সংগৃহীত

রচনা প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাসফরের অনুভূতি জানতে চাইলে বাঙ্গডা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মিতু বলে, ‘রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আজকের এই শিক্ষাসফরের এসে বঙ্গবন্ধুর নানান স্মৃতি ও নিদর্শন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানে আসার পর আমি নতুন উদ্যমে দেশ ও সমাজের জন্য নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ অবদান রাখার উদ্দীপনা পেয়েছি। এমন আয়োজনের জন্য আমি পিউসান পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে পিউসান কর্তৃক রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এ প্রতিযোগিতায় ৪৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং তিন ক্যাটাগরিতে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার ও টুঙ্গিপাড়া ভ্রমণের জন্য মনোনীত করা হয়।