অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

ফাইল ছবি

জীবাণু শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় সেই ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় জ্বর-সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে প্রায়ই শুনতাম—‘ভাইরাল ফিভার।’ তখন প্রশ্ন করতাম, ‘ভাইরাল আবার কী?’

চিকিৎসক খুব সহজ করে বোঝাতেন—ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র একধরনের জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আবার ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবকে কেন্দ্র করে রোগ প্রতিরোধ, টিকা উন্নয়ন ও বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তিগত গবেষণাও পরিচালিত হয়। ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রটোজোয়া এবং আরও নানা ধরনের অণুজীব আমাদের পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেখান থেকেই হয়তো জীবাণু সম্পর্কে আমার প্রথম কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে বুঝেছি, সব অণুজীব মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং অণুজীবের বিশাল একটি অংশ পরিবেশ, খাদ্য, কৃষি, শিল্প, মানবদেহের স্বাভাবিক জীবপ্রক্রিয়া এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে, আবার কিছু অণুজীব মানুষের উপকার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখে।

এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় অণুজীবজগৎকে জানা, তাদের বৈশিষ্ট্য, আচরণ, পরিবর্তন, রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণ এবং উপকারী ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা করাই অণুজীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত অণুজীববিজ্ঞানীরা।

করোনাকাল: অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্ব নতুন করে অনুভব

মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পৃথিবীর মানুষ এক অভূতপূর্ব আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, পিপিই—যেসব জিনিস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না, সেগুলো রাতারাতি হয়ে উঠল অপরিহার্য।

‘লকডাউন’ শব্দটিও আমাদের জীবনের অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল। ঘরবন্দী জীবন, রাস্তায় নীরবতা, পিপিই পরা মানুষ, হাসপাতালের ব্যস্ততা-সবকিছুই ছিল অভূতপূর্ব।

করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।

আমরা শিখেছি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব। নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার, কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা যে শুধু করোনার জন্য নয়, অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ-তা আমরা নতুন করে উপলব্ধি করেছি।

আমরা আরও শিখেছি, একটি অণুজীব কতটা দ্রুত মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং পুরো সমাজকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের প্রতি আস্থা কেন জরুরি

করোনাকালে পৃথিবীর মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে কার্যকর টিকার জন্য। বিজ্ঞানীরা তখন দিন-রাত গবেষণা করেছেন। ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য, সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, পরীক্ষা-পদ্ধতি এবং টিকা উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে।

টিকা নিয়ে নানা আলোচনা, প্রশ্ন, ভয় ও দ্বিধাও আমরা দেখেছি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া এমন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, কোনো টিকাই সব ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে দেয় না। সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, রোগ শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ—সবকিছুরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।

সংকটকালে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা

করোনাকালে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, প্রশাসন, সাংবাদিক, ব্যাংকার, খাদ্য ও ওষুধশিল্পের কর্মীদের পাশাপাশি অণুজীববিজ্ঞানীরাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

করোনা শনাক্তকরণে পিসিআর (PCR)-ভিত্তিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসংখ্য অণুজীববিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা, জীবাণু শনাক্তকরণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার মতো কাজে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও কাজ করেছেন।

এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অণুজীববিজ্ঞান শুধু একটি একাডেমিক বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা, খাদ্য, পরিবেশ, শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অণুজীববিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিবেশ মনিটরিং এবং বিভিন্ন কোয়ালিটি অপারেশনে মাইক্রোবায়োলজিস্টরা কাজ করছেন।

একটি ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের কাজ শুরু হয় অনেক আগেই।

ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত পানির মাইক্রোবায়োলজি কোয়ালিট পরীক্ষা করা হয়। পানিতে অণুজীবের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে আছে কি না এবং নির্দিষ্ট ক্ষতিকর কিছু উপস্থিত আছে কি না—এসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।

একজন মানুষ যখন নিরাপদ একটি ওষুধ হাতে পান, সেই নিরাপত্তার পেছনে অনেক মানুষের সম্মিলিত শ্রমের পাশাপাশি একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টের অদৃশ্য কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদানও থাকে।

তরুণ মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সামনে প্রশ্ন

প্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মাইক্রোবায়োলজি গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। কেউ সরকারি চাকরিতে যাচ্ছেন, কেউ ফার্মাসিউটিক্যাল, ডায়াগনস্টিক, গবেষণা বা অন্যান্য শিল্পে যোগ দিচ্ছেন, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য দেশের বাইরে পাড়ি দিচ্ছেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর একজন নতুন মাইক্রোবায়োলজিস্টের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—

‘আমি কোথায় যাব? কোন সেক্টরে কাজ করব? আমার জন্য কোন ক্যারিয়ার পথটি উপযুক্ত?’

অনেকেই সিনিয়র ভাই-বোন, শিক্ষক, বন্ধু কিংবা নিজের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তর খুঁজে নেন। কিন্তু একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্যারিয়ার নির্দেশনার ব্যবস্থা থাকলে এই পথ অনেক সহজ হতে পারে।

একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট শুধু একটি নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নন। ওষুধশিল্প, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শিল্প, বায়োটেকনোলজি, ভ্যাকসিনের উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা, অ্যাকাডেমিয়া এবং পরিবেশবিজ্ঞান—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুযোগের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করা।

মাইক্রোবায়োলজিস্টদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ

বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং চাকরি–সম্পর্কিত ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ, শিক্ষাবৃত্তি, নেটওয়ার্কিং এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করছে বিএসএম, বিপিএমএফ, জিএমএস, ডিইউএমএএ, ডিইউএমডিএএ, আইএসবিএম-এ ধরনের উদ্যোগ আরও সংগঠিত ও কার্যকর হলে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা উপকৃত হবেন।

একই সঙ্গে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের পেশাগত ভূমিকা, দায়িত্ব, দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রকে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

মাক্রোবায়োলজি কাউন্সিল—সময় এসেছে কি ভাবার

প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মাইক্রোবায়োলজিস্ট তৈরি হচ্ছে। তাদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত সুযোগ তৈরির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তাই একটি মাক্রোবায়োলজি কাউন্সিল বা অনুরূপ কোনো পেশাগত প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন কি না-এ নিয়ে এখনই গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।

আজ আলোচনা শুরু করলে হয়তো আগামীকালই ফল পাওয়া যাবে না। কিন্তু আজ শুরু না করলে সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্নটি তাই শুধু একটি সংগঠন তৈরির নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাইক্রোবায়োলজিস্টদের জন্য একটি সুসংগঠিত পেশাগত পথ তৈরি করার।

অণুজীববিজ্ঞান শুধু রোগের গল্প নয়

আমরা যখন ‘জীবাণু’ শব্দটি শুনি, তখন অনেক সময় শুধু রোগের কথাই মনে করি। কিন্তু অণুজীবের পৃথিবী তার চেয়ে অনেক বড়। অণুজীব আমাদের পরিবেশের অংশ। খাদ্য উৎপাদনে তাদের ভূমিকা রয়েছে। শিল্পে তাদের ব্যবহার রয়েছে। অণুজীববিজ্ঞানীদের কাজ শুধু ‘জীবাণু ধ্বংস করা’ নয়। বরং কোন অণুজীব ক্ষতিকর, কোনটি উপকারী, কীভাবে ক্ষতিকর অণুজীবকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং উপকারী অণুজীবকে মানবকল্যাণে কীভাবে ব্যবহার করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আমাদের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ জনবল, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।

এই অগ্রযাত্রায় ফার্মাসিস্ট, কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পেশাজীবীর নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।

মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সেই ভূমিকা আরও দৃশ্যমান, সুসংগঠিত এবং মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রয়োজন তরুণদের জন্য পরামর্শদাতা।

প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন।

প্রয়োজন ক্যারিয়ার গাইডেন্স।

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও মনোবল।

একজন নতুন মাইক্রোবায়োলজি শিক্ষার্থী যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বুঝতে পারে—তার পড়াশোনার মূল্য কোথায়, তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কী এবং কীভাবে সে দেশের মানুষের জন্য একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ না হয়ে সম্ভাবনার দিকে তাকাবে।

যেখানে একজন তরুণ মাইক্রোবায়োলজিস্ট শুধু চাকরি খুঁজবেন না—নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন কর্মক্ষেত্র ও নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করবেন।

কারণ, অণুজীব অদৃশ্য হতে পারে, কিন্তু তাদের প্রভাব দৃশ্যমান।

আর সেই অদৃশ্য জগৎকে বুঝে মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ করার কাজে যারা নিয়োজিত—তাদের অবদানও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।

শেষ কথা

আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস শুধু অণুজীবের কথা মনে করার একটি দিন নয়; এটি অণুজীববিজ্ঞানীদের অবদানকে নতুন করে উপলব্ধি করারও একটি সুযোগ।

করোনা মহামারি আমাদের দেখিয়েছে, অদৃশ্য একটি জীবাণু কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষ অণুজীববিজ্ঞানীরা কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারেন, তাও আমরা দেখেছি।

তাই অণুজীবকে শুধু ভয় নয়—বিজ্ঞান দিয়ে বুঝতে হবে, গবেষণা দিয়ে জানতে হবে এবং মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

একটু সুনজর, একটু আলোচনা, আর একটু উদ্যোগ—এই তিনটিই পারে আগামী প্রজন্মের মাইক্রোবায়োলজিস্টদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং দেশের সেবা করার পথকে আরও প্রশস্ত করতে।

অণুজীব অদৃশ্য—কিন্তু মাইক্রোবায়োলজিস্টদের অবদান যেন আর অদৃশ্য না থাকে।

আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬-এ বাংলাদেশের সব মাইক্রোবায়োলজিস্ট, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

* লেখক: মনোজিৎ কুমার রায়, মাইক্রোবায়োলজিস্ট

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]